আ.বিমা টাইমস, মধুপুর: মধুপুর থানার চাপাইত গ্রামে সিথিলা সাংমা (১৭, ছদ্ম নাম) নামের এক গারো আদিবাসী তরুণীকে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল। আপত্তিকর ডাকে সাড়া না দিলে মেয়েটির নগ্ন ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে উত্যক্ত এবং নগদ অর্থ দাবি করে অ-আদিবাসী যুবক। এ ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার গারো অধ্যূসিত এলাকার চাপাইত গ্রামে।
ভিক্টিমের বড় ভাই ইলিয়াস সিমসাং আ.বিমা টাইমস নিউজকে জানায়, প্রথমে ভয়ে মেয়েটি অভিভাবকে কিছু বলে নি। মেয়েটির কিছু আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারে। এরপর মেয়েটির অভিভাবকরা আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে সামাজিকভাবে মিটিমাটের জন্য প্রস্তাব নিয়ে যায় ছেলেটির অভিভাবক মহল মেয়েটির বাড়ীতে।
তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে গত তিন মাস যাবত পরিবারের সঙ্গে মেয়েটি নিজ গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছিল। এরই মধ্যে পাশের গ্রামের আদনান শাহিহাব রবি (ফেসবুক আইডি অনুযায়ী) নামে এক ছেলের পরিচয় হয় সিথিলা সাংমার। পরিচয়ের পর ফেসবুকে চ্যাটিং, ভিডিও কল শুরু হয়। এরপর দুজনের মধ্যে ভারচুয়্যালি গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। মেয়েটি গরীব অসহায়ত্ব দেখে ফেবু ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত আরও বাড়ে এবং ভয় দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি উঠিয়ে পাঠাতে বলে। মেয়েটি ভয়ে, এবং ছেলেটির চাপাচাপিতে বেশকিছু নগ্ন ছবি উঠিয়ে পাঠায়। মেয়েটির দাবি, এরপর তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নাম পরিবর্তন করে ছেলেটি। ছবি পাঠানোর পর মেয়েটির ছবিগুলো সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ২,৩৩০ নগদ অর্থও দাবি করে। ছেলেটির আপত্তিকর প্রস্তাবে সাড়া না দেয়া এবং চাওয়া নগদ অর্থ দিতে না পারায় মেয়েটির কিছু নগ্ন ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় রবি নামের ঐ বির্ধমী যুবক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া কিছু ছবি
এরপর মেয়েটি ভয়ে ঘটনাটি তার পরিবারকে বলে। পরিবারের ভাষ্য মতে, মেয়েটি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। মেয়েটির সেল ফোন, ছেলেটির ফেসবুক আইডির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঘেটে জানতে পারে ঐ যুবকটি একই এলাকার, গ্রাম পিরোজপুর বইলাতপাড়ার প্রবাসী মো: বন্দেস আলী’র (আনুমানিক বয়স ৪০) ছেলে মো. রবি আলী (আনুমানিক বসয় ২২)।
ঘটনা জানাজানির পর ঐ যুবকটি মেয়ে এবং পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিচ্ছে; বিষয়টি জানার পর স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে যুবকটির বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে গত ৫ই মে (বুধবার ২০২১) এবং এর পরদিন পুলিশ অভিযোগ তদন্তে আসে বলে জানায়। পরিবারের সুস্পষ্ট অভিযোগ মেয়েটিকে আপক্তিকর প্রস্তাব দেয়, সে একা নয় এবং এর সঙ্গে কিছু চক্র জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের অন্যতম গারো যুব নেতা লিয়াং রিছিল (সাধারণ সম্পাদক, জিএসএফ) এবং ভিক্টিমের পরিবার জানান, এসব বাড়ন্ত বখাটে, উশৃঙ্খল ছেলেরা বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী তরুণীদের নানান কায়দায় উত্যক্ত করে আসছে, সোস্যাল মিডিয়াসহ সামাজিকভাবে হয়রানি করছে। বিভিন্নভাবে ট্যাপে ফেলে তরুনীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল ছবি, ভিডিও ধারণ করে ফাঁদে ফেলছে। অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত করছে। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি; যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ আর কোন বোনের সামাজিক মর্যাদা, এবং সম্ভ্রমহানি না করতে পারে।