বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে যোগ দিতে ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে দেশে হেফাজত সহ বিএনপি’র তাণ্ডব, আর তুলকালামে সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে এটি ক্ষমতাসীন দলের অবশ্যই শুভ লক্ষণ। ধৈর্য সবার থাকে না। ধৈর্য নিয়ন্ত্রণ করতে সবাই পারে না। ধৈর্য, সহিষ্ণুতায় আল্লাহ তায়ালা আরও বেশি খুশি হন। এটি আল্লাহ তায়ালার অনেক গুণের একটি ভালো গুণ।
আজ রোববার (২৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন যে, সরকার নমনীয় নয়, ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হরতাল ডেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ দেশ পরিচালনা ব্যাহত করতেই এসব অপচেষ্টা। শুধু হেফাজত নয়, বাঁশের কেল্লার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যারা আগে সন্ত্রাস ও জঙ্গি সংগঠন করেছিল তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। রণকৌশল জানান দিচ্ছে। এতে জামায়াত-শিবির, হরকাতুল জিহাদ ও বিএনপির মদদ থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকার নমনীয় নয়, ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছে মাত্র। নিরাপত্তা বাহিনী চরম ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। কিন্তু এ অবস্থা আর থাকবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।
এদিকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘মোদিজী যখন বললেন তিনি বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল করে জেলে গিয়েছিলেন, আমি অবাক হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভারত তো শুরু থেকেই বাংলাদেশের পক্ষেই। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিল, শরণার্থীদের জায়গা দিল। বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিল। এমন মিত্রশক্তির দেশে বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আন্দোলন করারই বা দরকার কী ছিল, গ্রেপ্তারই বা হতে হয় কেন। আজ টুইটারে পোস্ট করা কিছু ডকুমেন্টস আর মিছিলের একটি ভিডিও দেখে জানলাম, শুরু থেকেই ইন্দিরা গান্ধীর সরকার বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল না, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত ছিল না। জনসংঘের কর্মীরা যখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে পথে নামে, তখন তাদের দিল্লির সংসদ ভবনের আশে পাশে যেতে বাধা দেওয়া হয়, এবং মিছিলের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বের এই মিছিলটিতে গুজরাত থেকে আসা বেশ কিছু কর্মী ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যেই হয়তো ছিলেন তরুণ মোদী। মিছিলটির তারিখ যতদূর জেনেছি, ১২ আগস্ট, ১৯৭১। ভারতের সেনাবাহিনী বাংলাদেশে ঢুকেছিল ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখে। জনসংঘের নেতারা আর ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএমের নেতারা চাইছিলেন ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিক, স্বাধীন করতে সাহায্য করুক। ইন্দিরা গান্ধী যদি শুরু থেকেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেন, সেনাবাহিনী পাঠাতেন, তাহলে বাংলাদেশের এত লক্ষ লোককে হয়তো মরতে হতো না।‘
রাবারের মতোন অযথা টেনে মতামতটি লম্বা করছি না। মূল কথায় আসি এবং যা দেখি- কিছু রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী দেশে জ্বালাও পোড়াও করেছে, নরেন্দ্র মোদির আগমনে বাঁধাগ্রস্থ করেছে, সংখ্যা লঘুদের ওপর হামলা, তাদের ভিটেবাড়ি দখল এবং নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে; এতো কিছুর পরও অথচ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকার নমনীয় নয়, ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে এখনো। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষের সরকার। যদি তাই হয়, কোন দেশের প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগ মুহুর্তে এবং পরবর্তীতে এই ইস্যূকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিপ্রায় দেশে এমন তাণ্ডব, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্যেও লজ্জাস্কর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় কী?
লেখিকা তসলিমা নাসরিন স্পষ্ট বলেছেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী যদি শুরু থেকেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেন, সেনাবাহিনী পাঠাতেন, তাহলে বাংলাদেশের এত লক্ষ লোককে হয়তো মরতে হতো না।‘ আপনার কথায় দুর্দান্ত যুক্তি আছে। তবে একটু খটকা লাগে, প্রবাদে আছে ঘরের শত্রু বিভীষণ। স্বাধীনতার সময় দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রু কী শূন্যকোটায় ছিল ? যদি শূন্যকোটায় থাকতো তাহলে স্বাধীনতাযুদ্ধে সাহায্যকারী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আসতে শুনে রাজনৈতিক দল, ধর্মের নামে রাজনীতি করে কিছু গোষ্ঠী তাঁকে লাল গালিচায় বরণ না করে রাজপথে কেন নেমে পরে, কেন অসম্মান, অপমান করে ? কীভাবে স্বাধীনতার এত বছর পরও স্বাধীন দেশে এসব তাণ্ডব চালায় ? কীভাবে বারংবার এবং কোন অপশক্তিতে তারা মাথা চারা দিয়ে ওঠে?
তাছাড়াও মোদির সফরবিরোধী আন্দোলনে উভয় দেশে আঞ্চলিক সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা বিষয়টিও উহ্য রয়ে গেল!
শেষে বিনয়ের সঙ্গে বলি, ধৈর্য থাকা ভালো তবে আপনাদের ধৈর্যের বাঁধভাঙ্গা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, করোনায় বিপর্যস্ত দেশের মানুষকে স্বস্তি দিন। এমনিতেই করোনায় দেশের হতদরিদ্র, সামান্য চাকুরিজীবী নানান দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তাই হরতাল, অবরোধ করতে সুযোগ দিয়ে দেশের মানুষকে আরও বিপদের মুখে, খাদের কিনারে ঠেলে দিতে দিবেন না। স্বাধীনতার অপশক্তিকে শুরুতে পরাভূত, বশীভূত, পরাস্ত করতে না পারলে নিয়ন্ত্রনহীন হতে পারে সেদিকে খেয়াল করে সময়োপযোগী দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী।