আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: আজ মেঘালয় রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন সাংমার ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। সোমবার তুরার গারো হিলস অটোনোমাস কাউন্সিলের (জিএইচএডিসি) প্রাঙ্গণে পালিত হয়।

প্রয়াত নেতার স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় গারো পাহাড় স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (GHADC) প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠানে GHADC CEM বেনেডিক মারাক, চেয়ারম্যান রাকেশ এ সাংমা এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তারা প্রয়াত ক্যাপ্টেন সাংমার কাজ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রয়াত নেতার আত্মার চিরশান্তি কামনায় সংক্ষিপ্ত নীরবতা পালন করে। প্রয়াত নেতার স্মরণে এবং রাজ্যে তার অবদানের সম্মান জানাতে, সিইএম বেনেডিক মারাকের নেতৃত্বে সমাবেশটি হাওয়াখানার উইলিয়াম পয়েন্টে নির্মিত তার সেনোটাফে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন সাংমার ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন, ছবি: সংগৃহীত

এরপর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সমাবেশ ক্যাপ্টেন সাংমা জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং প্রয়াত ক্যাপ্টেন সাংমার পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর বাসভবনে দেখা করেন। এছাড়াও দক্ষিণ গারো পাহাড়ের বাঘমারাতে প্রয়াত নেতার জন্মস্থানেও এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়।

ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ. সাংমা গারোদের মধ্যে সর্ব প্রথম ক্যাপ্টেন, গারো হিলস জেলা কাউনসিলের চিফ একসিকিউটিভ মেম্বার, মেঘালয়ের প্রথম চিফ মিনিস্টার এবং গভর্নর ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন সাংমা

ভারতীয় গারো এবং খাসি জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ ফা ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ সাংমা ১৮ অক্টোবর, ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে সিমসাং নদীর অববাহিকায় বাঘমারা পুরান বাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- গংসিন এস মারাক এবং মাতার নাম- নমাল্লিনী (আমপাং) সাংমা। ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ সাংমা ৯ ভাইবোনের মধ্যে ৮ম; এবং ৯ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক।

ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ সাংমা যৌবনের শুরুতেই গারো জাতির জন্য এবং গারো হিলসের সকল মানুষের কল্যাণ, উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট হন। ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা নিষ্পেষিত নির্যাতিত গারো পাহাড়কে পুনরুজ্জীবিত করতে, সুসংগঠিত ও প্রতিষ্ঠিত সাহসী সৈনিক ফা সোনারাম আর সাংমার মৃত্যুর পর নিজ জাতি এবং মাতৃভূমিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো তেমন কেউ ছিলো না। ঠিক এ সময়ে নিষ্ঠা, সততা, যোগ্য নেতৃত্বের প্রমাণ দেন এই ফা ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ সাংমা।

তিনি ১৫ বছর ব্যাপী মেঘালয়ের প্রথম চিফ মিনিস্টার এবং গভর্নর থাকাকালীন সময়ে আসামে অবস্থানরত গারো, খাসি, জৈন্তিয়া জাতির শিক্ষা, স্বাস্থ্য,সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন।

ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এ সাংমা ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে New York এর Sloane Kettering Cancer Institute হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন অবনতি হলে All India Institute of Medical Science-এ ভর্তী হন। অবশেষে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অক্টোবর ভোর ৪ ঘটিকায় মৃত্যুবরণ করেন।