আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: আজ মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১) টাঙ্গাইল (বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম) প্রেস ক্লাবে মধুপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের (৯ নং অরণখোলা) অপসারণ ও বিচারের দাবিতে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), আবিমা গারো ‍ইয়্যূথ এসোসিয়েশন (আজিয়া), গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), ও বাঙালি আদিবাসী ঐক্য পরিষদ। সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ১১ ঘটিকায়।

শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন আজিয়ার মহাসচিব শ্যামল মানখিন। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) এর সভাপতি ইব্রীয় মানখিন। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার লিখিত বিবরণী পাঠ করেন গণমাধ্যম কর্মী ভিক্টিম প্রিন্স এডুওয়ার্ড মাংসাং।

এই সংবাদ সম্মেলনে মধুপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম (৯নং অরণখোলা) কর্তৃক অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ, তার অপসারণ, বিচারসহ ভিক্টিমের ক্ষতিপুরণ দাবি করেন। এছাড়াও ভিক্টিম প্রিন্স এডুওয়ার্ড লিখিত অভিযোগ করেন, তাকে গাছে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের পরও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে বরং তার বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। পরদিন তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ খরচে চিকিৎসার পর আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মিথ্যে মামলার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করতে গেলে মধুপুর থানা ইনচার্জ মো: তারিক কামাল মামলা, এমন কী সাধারণ ডায়েরি নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে থানায় মামলার বিষয় আইনী সহায়তা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং তিনি দ্রুত বিচার আইনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (তারিখ ৩১শে আগস্ট ২০২১, মামলা নং ৮, সিআইডির তদন্তাধীন) বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আদিবাসী গণমাধ্যম কর্মী প্রিন্স এডুওয়ার্ড আ.বিমা টামস নিউজকে জানান, আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি বিচারাধীন আছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চেয়ারম্যানসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা সহযোগি সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এছাড়াও আমার মটর সাইকেল, হোন্ডার কাগজপত্র, ক্যামেরা, ক্যামেরা স্ট্যান্ড, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে নগদ অর্থ, সাংবাদিকতার আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। তাকে এভাবে মানহানী ও ছিনিয়ে নেয়া এদত বিষয়ে ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন: টাঙ্গাইল (বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম) প্রেস ক্লাব, ছবি -বাগাছাস

এদিকে তার দায়েরকৃত মামলাটির সাক্ষ্য প্রদানে সাক্ষীদের বাঁধাগ্রস্থ করছে এবং তাদেরকে এলাকায় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভিক্টিমের লিখিত অভিযোগপত্র পাঠের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্যামল মানখিন বলেন, জয়েনশাহী উন্নয়নের পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেক আদিবাসীদের সহযোগিতার পরিবর্তে বিভিন্ন চক্রান্তে লিপ্ত আছেন; যা জাতিগত এবং আদিবাসীদের স্বার্থ বিরোধী। তার বিরুদ্ধেও অসংখ্য সুস্পষ্ট অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তাকেও সংগঠনিকভাবে অপসারণ করার বিষয় আন্দোলন ও জনমত গড়ে তুলছেন সকল গারো ও এলাকার আদিবাসী ছাত্র সংগঠন বলে দাবি করেন এ ছাত্র নেতা।

গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) এর সভাপতি ইব্রীয় মানখিন বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম যদি অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে তিনি কেন টাকায় মানুষ ভাড়া করে প্রতিবাদ ও সমাবেশ করেছেন, নিরপরাধ হলে তিনি আইনী ব্যবস্থা নিতে পারতেন।‘

সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতিসহ আবিমা গারো ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শ্যামল মানখিন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিংকন দিব্রা, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মধুপুর শাখার সভাপতি ইব্রীয় মানখিন, আদিবাসী ইউনিয়ন সভাপতি জুয়েল চাম্বুগং, বাঙ্গালী আদিবাসী ঐক্য পরিষদ (কেন্দ্রীয়) এর সাধারণ সম্পাদক রানা শর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।