নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার না করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ২ আগস্ট মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানিয়েছেন।

আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে টেলিভিশন টকশোতে যাতে কেউ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার না করেন, সে বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা জারি করে গত ১৯ জুলাই তা  সব টেলিভিশন চ্যানেল প্রধানের কাছে পাঠানো হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটি প্রচার করার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই টেলিভিশন টকশোগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাতে শব্দটি ব্যবহার না করেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে।

গণমাধ্যমকে পাঠানো বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে বসবাসরত সাঁওতাল, ওঁরাও, চাকমা, মারমা, মুন্ডা, ভীল, কোলসহ আরও অনেক জাতিকে ‘আদিবাসী’এর পরিবর্তে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও, তাদেরকে আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়া যাবেনা বলে কোনো বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি। তাই উদীচী মনে করে পরিপত্রে উল্লেখিত বক্তব্যটি সঠিক নয় ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।” এছাড়া কোনো স্বাধীন গবেষক বা বিশ্লেষক বা বুদ্ধিজীবী কোনো জাতিকে কী হিসেবে পরিচিত করাবেন তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকারও সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর রাখেন না বলে মন্তব্য করেন উদীচীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেও জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ সঠিক নামে ও সঠিক চেতনায় পালন করা উচিত।