জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইউটিউবে অনেকটা সময় এবং অনেকের মাথায় ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন চলে আসে, আসলে ইউটিউব থেকে কত টাকা উপার্জন করতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজ আপনি তখনই পাবেন যখন ইউটিউবারদের আয় সম্পর্কে যদি কিছুটা ধারণা রাখেন; তবে সংক্ষিপ্ত এবং সাধারণ উত্তরে বলবো, এটি নির্ভর করে নিচের এই বিষয়গুলো, যেমন-
আপনার মনিটাইজ চ্যানেলে বিজ্ঞাপনযুক্তকরণ, এফিলিয়েট লিঙ্কগুলি ব্যবহার করে এবং আপনার ভিডিওগুলিতে স্পনসর করা প্লেসমেন্টগুলি বিক্রি করে আপনি আপনার আয়ের সম্ভাবনা সর্বাধিকতর করতে পারেন।
এছাড়াও ইউটিউবে, আপনি কোনও সিপিএম (CPM), সিপিভি (CPV) এবং সিপিসির (CPC) ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। প্রতি ইম্প্রেশন ব্যয় (সিপিএম) দিয়ে একজন সাধারণ ইউটিউবার প্রতি ১০০০ ভিউতে ৭.৬০ ডলায় আয় করতে পারে।
আপনি চ্যানেলের মালিক হিসাবে অনুমোদিত বিপণন ব্যবহার করছেন, বিজ্ঞাপনদাতারা বিভিন্ন মডেলের সাথে অর্থ প্রদান এবং বিতরণ করেন থাকেন-এটি সাধারণত বিক্রয় প্রতি ব্যয় বা লিড প্রতি ব্যয় নির্ভর করে। এখানে, আপনার উপার্জনগুলি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া কনভার্সন এবং বিক্রয় কমিশনের সংখ্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
আপনি আপনার ভিডিওগুলিতে স্পনসর করা পণ্যের প্লেসমেন্টগুলিও বিক্রি করতে পারেন। এখানে ইউটিউবারগুলি এক্সপোজারের সন্ধানকারী ব্র্যান্ডগুলিতে সংক্ষিপ্ত উল্লেখ বা আরও সুপারিশকৃত এবং বর্ধিত পণ্য বিক্রি করে অর্থোপার্জন করে।
তবে, আপনি যদি আপনার চ্যানেলে একটি পরিমাপযোগ্য এবং আস্থাযোগ্য অডিয়েন্স তৈরি করতে সক্ষম হন তাহলে ব্র্যান্ডগুলি আপনাকে অর্থ প্রদান করতে পারে, যেমন আপনার চ্যানেলে পাওয়া প্রতি কয়েক হাজার ভিউয়ের জন্য এই দামটি ২০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
সুতরাং একটি উদাহরণস্বরূপ দেয়া যেতে পারে, যদি আপনার চ্যানেলে তাদের ভিডিও কয়েক মিলিয়ন ভিউ হিট করে তবে আপনি ২০,০০০ ডলার থেকে ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত আর্ন করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি যখন লক্ষ লক্ষ ভিউ তৈরি করছেন না তখন এই কৌশলটি মনিটাইজের জন্য আরও একটি ভাল উপায়।
ইউটিউবে লেন-দেনের মূল আরেকটি যে বিষয় সেটি পরিস্কার জেনে রাখা ভালো; গুগলের নীতিনুসারে, ক্রিয়েটরসরা বিজ্ঞাপন থেকে উপার্জিত ৫৫% পারিশ্রমিক পান এবং গুগল পান ৪৫%।
এতক্ষণ গাণিতিকভাবে ইউটিউবের সরল অংকটি খুব সহজে কষা গেল; কিন্ত ইউটিউব ক্রিয়েটরদের বাস্তবে উপরোল্লেখিত অংকের ফিগারটি অর্জন করা সরল অংকের মতো অত সহজ বোধয় নয়! ভাগ্যক্রমে ফিগারটি অর্জন করলেও একচুয়্যাল টাইম বিলিং পদ্ধতিতে হিসেবে করলে আপনার পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিকটি কম হয়ে যেতে পারে; এবং হয়ে যায়।
লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী