আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: কালাচাঁদপুরের আনাচে-কানাচে একা দাঁড়িয়ে। নীরবে হারিয়ে যাওয়া কতক্ষণ যে, সে সময়ের ইয়ত্তা নেই। ভবের পাগল কে এই ভাবুক? ফুল-ফল, গাছপালা, লতাপাতার মতোই সজীব; মনকে প্রকৃতির অবয়ব করতেই যার সাধনা? গারো শিল্পী সালাস মানখিনের কথা! একাধারে যিনি চিত্রশিল্পী, ভাস্কর এবং রেরে ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (দামা)। ফুল-ফল, গাছপালা, লতাপাতার মতোই সজীব; মনকে প্রকৃতির অবয়ব করতেই যার নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের প্রেমিক প্রকৃতি নিয়ে খেলায় বিভোর সালাস দুঃখ-কষ্টের বেদুইন জীবনকে আলিঙ্গন করলেও একবারও ভাবেননি তিনি কখনও বিয়ে করবেন। কিন্তু যে প্রকৃতিকে ভালোবেসে সালাস হয়েছে বেদুইন শিল্পী সেই প্রকৃতিই যেনো তাঁর চিত্রশিল্পে, ক্যারিক্যাচারে, ভাস্কর্যে বারবার সংকেত পাঠাতো পংদেবীর। মাথায় দ•মি, কখনো খোঁপায় পং গুঁজা চিত্রশিল্পের সেই রূপসী ললনাই আজ যেনো মূর্ত বাস্তব! সালাস কোনো স্বপ্নে নয়, বাস্তবেই যেনো বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের মতো শিল্পীর চিৎকার ‘ইউরেকা! ইউরেকা! ইউরেকা!’ সলিড, পরিষ্কার বাক্যে বিশ্বাসী শিল্পীর জীবনে ইউরেকাই ইউরেকাই হয়ে এলো।
শিল্পী সালাস মানখিন ও ইউরেকা রখোর পূণ্য বিবাহ অনুষ্ঠান
১০ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে এক শুভ লগ্নে সম্পন্ন হলো শিল্পী সালাস মানখিন ও ইউরেকা রখোর পূণ্য বিবাহ অনুষ্ঠান। কনের বাড়িতে অভিষেক ঘটলো রখো পরিবারের অভিভাবক এবং তত্ত্বাবধায়কের। মেননেং নদীর অববাহিকায় ছোট্ট গ্রাম সংড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলাধীন যে গ্রামের পটে ইউরেকা রখোর শৈশবচিত্র। সালাস টাঙ্গাইল মধুপুরের আমলীতলা গ্রামের সন্তান।
আ.চিক শিল্পী সালাস মানখিন
বিয়ের দিন সমতল গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সুসজ্জিত ছিলেন এই আ•চিক শিল্পী। কনের পোশাকে ছিল আগাগোড়া ঐতিহ্যের ছাপ। কনের পোশাক তৈরি করেছেন আরেক কারিগর সুদিনা রেমা।
শিল্পী সালাস মানখিনের চিত্র কর্ম ও ভাস্কর্য
বিয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে বিয়ের তোরণ, বেদী সর্বত্র ছিল ঐতিহ্যের গাঢ় প্রকাশ। দীশন অন্তু রিছিল, পরাগ রিছিল, লিয়াং রিছিল, বিমল বেঞ্জামিন নকরেক, ওয়ারি নকরেক, পীলান্ত রখো, সুবিট রখো (গুরুত্বপূর্ণ সাবেক ছাত্রনেতা)সহ অনেক আ•চিক খ্যাতিমানদের মিলন মেলা হয়ে ওঠে সালাসের হাতে গাগুঁরি পং ধরার এই পবিত্র দিনে।
বর্তমানে সালাস কাজ করছেন ময়মনসিংহের গারো মিউজিয়াম ‘আমা আ•চিক রাসং’-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে। তিনি ইমধ্যে সম্পন্ন করেছেন রোমান ক্যাথলিক ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের শিশু যীশুসহ মা মারীয়ার ভাস্কর্য।