আজ রোববার বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা মহাসমারোহে পালন করছে মৃত্যুঞ্জয়ী প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থান মহোৎসব পাস্কা বা ইস্টার সানডে। আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করে পালন করা হচ্ছে প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থান মহোউৎসব।
এ মহোৎসব নবজীবন শনিবার রাত থেকেই শুরু হয়। খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা শনিবার রাতে নিস্তার জাগরণী উপাসনার মধ্যে দিয়ে যিশুর পুনরুত্থান ঘোষণা করে মেতে ওঠে পুনরুত্থানের আনন্দে। সে সময় প্রতীকী হিসেবে প্রজ্জ্বলন করা হয় পুনরুত্থানে বড় আকৃতির মোমবাতির প্রদীপ, আর এভাবেই ঘোষিত হয় যিশুর পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনে এনেছে নবজীবন, নতুন আলো; যিশুর পুনরুত্থান দূরীভূত করেছে পাপের অন্ধকার, সকল মানুষের কালিমা; মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ী যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে নবীভূত, একীভূত হয়েছেন।
পাস্কা অর্থ কি, হিব্রু ভাষায় পাস্কা মানে পেরিয়ে যাওয়া বা পার হয়ে যাওয়া বুঝায়। অর্থাৎ যিশুর যাতনাভোগের মধ্য দিয়ে যিশু আবার পুনরুত্থান করেছেন, সকল পাপের ওপর বিজয় এনেছেন। মানুষকে পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। সে অর্থেই এই মহোৎসবের নাম পাস্কা পর্ব। যিশুর পুনরুত্থানে মানুষের জীবনে উষার আলোর উদয় হয়েছে, নতুন জ্যোতি এনেছেন, তাই এই পর্বের নাম ইস্টার।
এ দিনে সকল খ্রিষ্টানরা নানা আয়োজনের মধ্যে উৎসবটি পালন করে থাকলেও করোনা বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে । বিভিন্ন দেশে লকডাউন আরোপ করার পাশপাশি বিধিনিষেধ ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের জীবন আগে বাঁচাতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়ম-নীতি মেনে নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষা করতে হবে।’স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মেনে চলে সেজন্য দায়িত্বরতদের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, এবং ইউরোপের বহু দেশেই করোনা ভাইরাস আবার মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাপি ওয়ার্ল্ডোমিটার এর করোনা আপডেটনুযায়ী, গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩০৩০৫৭০৪, এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তে সুস্থ হয়েছে ১০৪৯৮৮৬১৯, এবং করোনা সংক্রমনে মৃত্যু হয়েছে ২৮৪২৪৪৬ জন।
পৃথিবীর সকল ধর্মের, সকল জাতির উৎসবই আনন্দের, এবং তা যথাযথাভাবে সকল উৎব পালন করা উচিত। কিন্ত এ মূহুর্তে উৎসব নয়, আগে আমাদের করোনা থেকে বাঁচতে হবে। মোদ্দা কথা, নিজে সুস্থ্য থেকে সকল মানুষকেও সুরক্ষা দিতে হবে। সবাই মিলে করোনার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানুষ বেঁচে থাকলে আনন্দ, যত সামাজিক উৎসব পালন করা যাবে। পৃথিবীর মানুষই যদি বেঁচে না থাকে তাহলে, সকল আনন্দযজ্ঞ বৃথায় রবে!
আসুন আগে নিজে সচেতন থাকি; অন্যকেও করোনা প্রতিরোধে সচেষ্ট করে তুলি। প্রভূ যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থানের আলোয় পৃথিবীর সকল রোগসুখ, মানুষের যত কালিমা দূরিভূত হোক। পৃথিবীর সকল মানুষকে নবজীবন দান করুক।