বিশ্ব চলছে এখন রমরমা ওয়েভভিক্তিক ব্যবসা। আরও রয়েছে একেওপরের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার দরুন আজকাল অধিভুক্ত বিপণনের মাধ্যমে অর্থোপার্জন খুব সহজ নয়। এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়িক মাঠে টিকে থাকা কঠিন হলেও পাশাপাশি তৈরি হয়েছে অর্থোপার্জনে নানা উপায়ও। আপনি যদি অর্থোপার্জনের সুযোগ খুঁজেন, অর্থ উপার্জনের উপায়গুলো কী, জানতে চান কীভাবে উপার্জন করা যায় তাহলে এফিলিয়েটের আদ্যোপান্ত বুঝতে হবে। আপনার মাসিক বেতনের চেয়েও এফিলিয়েট বেশি কিছু দিতে পারে সে চ্যালেঞ্জটি অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে।

আসলে সব কিছুই আপনার কাছে থাকা পদ্ধতি এবং লব্ধ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে। প্রথমত, আপনি যদি অনুমোদিত বিপণনের মাধ্যমে সত্যই অর্থোপার্জন করতে চান তবে আপনার নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকতে হবে। অন্যান্য মানসম্পন্ন সামগ্রী তৈরি করতে হবে এবং সময় মতো আপনার ওয়েভ বিপণনের জন্য তুলে ধরতে হবে। যদি নিজেকে প্রচার করতে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হন; তবে আপনাকে অবশ্যই নিজেকে কঠোরভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে সময়কে যথাযথভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।

এমন অনেক বিষয়ে নিবন্ধনকৃত কোর্স বিশ্ব বাজার ছেয়ে গেছে; যদি অন্তত সেখান থেকেও আপনি কিছু অনলাইন কোর্সটি করেন, সেটিও আপনাকে ক্ষতি করবে না বরং আপনি সেখান থেকে কিছু আইডিয়া নিতে পারেন যে এসব কোর্স বিক্রি করে কিভাবে অর্থ উপার্জন করে। কিভাবে এঁরা এফিলিয়েটে সফল হন। আসলে অর্থ উপার্জনের পক্ষে সহজ কিছুই নেই, এবং এটি ঠিক যে এটিও রয়েছে।

সহজ কথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো কমিশন নির্ভর একটি বিজনেস প্রক্রিয়া, যেখানে আপনার নিজের কোন প্রোডাক্ট নেই; অথচ অন্যের প্রডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে আপনি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাওয়া পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা হবে তবে শুধু এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবেই নয়, সেখানে আপনি বিজ্ঞাপন দাতা, এবং একজন কাস্টমারও বটে। অর্থাৎ আপনার সাইটে যত বেশি ভিজিটর বাড়বে; ঠিক তত বেশি আপনার এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সেল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে এবং বিক্রিয়কৃত প্রোডাক্ট থেকেই নির্দিষ্ট হারে আপনি কমিশনটি পাবেন।

নিম্নলিখিত পদক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীরা অনুমোদিত এফিলিয়েট থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারে, যেমন-

এফিলিয়েশান্স

আপনার ব্লগ/সাইটটি জনপ্রিয়। মনিটাইজড অথবা নয় তাতে কোন সমস্যা নেই। আপনার নিজস্ব কোন পণ্য না থাকলেও তৃতীয় পক্ষের পরিষেবাগুলি বা সরাসরি কোম্পানীর পণ্য যা বিক্রয়ের উপর ভিত্তি করে কমিশান, অথবা ব্লগে এ্যাড পাবলিশ করে কমিশন পেতে পারেন।

এ প্রক্রিয়াটি খুব সহজ, আপনি বিভিন্ন পোর্টালগুলিতে সাবস্ক্রাইব করেন যা এই সুযোগটি সরবরাহ করে এবং একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য অনুরোধ করে। গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে, একটি ব্যক্তিগত কোড সরবরাহ করা হয় যাতে আমাদের দ্বারা উৎপাদিত প্রতিটি বিক্রয় একটি অর্থনৈতিক ফেরতের গ্যারান্টি দেয় যা বিক্রয় মূল্যের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশদীদার হতে পারে। এই মুহুর্তে আমাদের অবশ্যই জোর দিয়ে বলতে হবে যে দু’টি পৃথক প্রকারের অনুমোদন রয়েছে, যে সাইটগুলি বহিরাগত পরিষেবাগুলি সরবরাহ করে তাদের অবশ্যই আমাদের নিবন্ধন বা এমন সাইটগুলি অবশ্যই গ্যারান্টিযুক্ত করা উচিত যা চূড়ান্ত ক্রয়ের প্রয়োজন হয়।

আর দ্বিতীয়টি হলো অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের ক্ষেত্রে, এই ধরণের সর্বাধিক বিখ্যাত পরিষেবা যা আপনাকে আমাদের সাইটের মাধ্যমে যে পণ্যটি বিক্রি করতে পারে তার 10% পর্যন্ত পেতে পারেন। অ্যাফিলিয়েশনগুলি বর্তমানে খুবই চতুর, এবং দুর্দান্ত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইন জনপ্রিয় উপার্জনের অন্যতম পদ্ধতি যা কয়েক বছর আগে অবধি বেশ কয়েকটি ব্যবহারকারীকে ফেসবুক লক্ষ্যযুক্ত ফেসবুক বিজ্ঞাপন তৈরি করে মাসে কয়েক হাজার ডলার উপার্জন করার সুযোগ দিয়েছিল।

সরাসরি ক্লায়েন্ট ডিল নেই

হ্যাঁ, অনুমোদিত বিপণন আপনাকে গ্রাহক সহায়তা সম্পর্কিত সমস্যাগুলি না নিয়েই অনলাইনে অর্থোপার্জন করতে সহায়তা করে; কারণ এটি সেই সংস্থা যা গ্রাহকের সাথে ডিল করতে হয় এমন পণ্যগুলি বিক্রি করে। আমাকে যা করতে হবে, তা হলো আমার কমিশন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে অন্য সাবস্ক্রিপশন বিপণনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মজুরি বা পারিশ্রমিক ঘন্টা হিসেবে নির্ধারিত হয় না

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনার পারিশ্রমিক ঘন্টায় নির্ধারিত হয় না। অনুমোদিত এফিলিয়েশানের আর একটি বিশাল সুবিধা হলো আপনি রেগুলার বেতনভোগী নন। আপনি পণ্য বিক্রি করার সময় আপনাকে  সেখান কিছু অংশ অর্থ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ কীভাবে অনুমোদিত এফিলিয়েট কাজ করে, আপনাকে নিজে পণ্যটি সরাসরি বিক্রি করতে হবে না। আপনি বিক্রি করতে নড়তে হচ্ছে না। আপনার ওয়েবসাইটে মাধ্যমে ঐ পণ্যগুলো বিক্রি করে।

আপনাকে যা করতে হবে (অনুমোদিত বিপণনকারী হিসাবে) আপনার ওয়েবসাইটে লোকের কাছে নিয়ে আসা এবং তারপরে তাদের বোঝাতে হবে যে পণ্যটি তাদের পক্ষে ঠিক। বাকিটা আপনার সমস্যা নয়। উদাহরণস্বরূপ একজন ফ্রিল্যান্স লেখক/এজেন্সির ক্ষেত্রে এটি হয় না। এই ব্যবসায়িক মডেলটির সাহায্যে আপনি সর্বদা ঘন্টা হিসেবে অর্থ প্রদান করেন, যার অর্থ আপনাকে প্রদর্শন করতে হবে।

অর্থ উপার্জন ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র সীমাহীন

আপনার উপার্জনের সম্ভাবনা সীমাহীন। অনুমোদিত এফিলিয়েটের সাথে আপনার আয়ের সম্ভাবনাও সীমাহীন। প্রকৃতপক্ষে, আমি যেমন উপরে বলেছি, এটি আপনি পণ্যটি বিক্রি করছেন না, এটি আপনার ওয়েবসাইট করছে।

আপনি ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, পড়ালেখা করতে পারে। অথবা ছুটিতে বা বন্ধুদের সাথে মদ্যপান করতে পারেন তবে আপনার ওয়েবসাইটটি এখনও লাইভ রয়েছে, লোকেরা এখনও দেখতে পারে এবং লোকেরা আপনার প্রস্তাবিত পণ্যগুলি কিনতে (এবং করবে) করতে পারে।

যখন, এবং যত ইচ্ছা উপার্জন করুন

আপনি কি আপনার ম্যানিব্যাগ ফুলপ্যাক করতে চান? তাহলে বিশ্বের অন্য কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন! হ্যাঁ, আপনি এটি সমর্থন করতে পারেন, এবং আপনার ব্যবসা যদি আপনাকে পুরো সময় সমর্থন করার পক্ষে থাকে তবে আপনি চাইলে দীর্ঘ সময়ের জন্য যেতে পারেন। অর্থাৎ ফুল টাইম এবং পেশাদার এফিলিয়েটর হিসেবে কাজ করতে পারেন।

ক্লায়েন্ট পরিষেবা উন্নত করুন

সেবার পাশাপাশি উন্নত সেবা পরিবেশন করা ব্যবসায়িক বৈশিষ্ট্যের একটি প্রধান অংশ। যদিও এফিলিয়েট মার্কিটিং এ সরাসরি ক্লায়েন্ট সেবা দেয়ার সুযোগ নেই। আপনি যা করতে পারেন, আপনার সাইটে পাঠক বান্ধব কনটেন্ট এবং ব্লগটি সার্বক্ষণিক চালু, ইউজার ফ্রেন্ডলি করে রাখুন। আপনার প্রদত্ত পরিষেবাটি এমন তথ্য যা আপনাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছতে সহায়তা করবে। এসব ফলোআপ, বা গবেষণা করা আপনার কাজ। আপনার উন্নত পরিষেবায় সেবাগ্রহণকারীর অভাব হয় না।

এফিলিয়েট কেন করবেন ?

অনলাইন মার্কেটিং এ মানুষের ঝোঁক বাড়ছেই। এটির প্রধান এবং অন্যতম মূল কারণ হলো গ্রাহকের সময় স্বল্পতা, বস্তুর সহজ লভ্যতা, বাড়তি ঝমেলা কম ইত্যাদি। ফলে এ যুগের শিক্ষিত বেকার কিংবা চাকরির পাশাপাশি অনেকেই অনলাইন মার্কেটিং পেশায় (ফুল বা পার্ট টাইম) হিসেবে মাঠে নেমে পড়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করতে চান; তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং বাজার আপনার জন্য বাড়তি আয়ের বিশাল সুযোগ করে দিতে পারে। আপনার বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে। আপনার লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে আপনি নিজেই ঘরে বসে অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং তথ্য প্রযুক্তির সৃষ্ট অত্যাধূনিক পেশা। মুক্ত পেশায় নিজস্বতা রয়েছে; রয়েছে অন্যান্য কাজ থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য, যেমন-

  • নিজস্ব প্রডাক্ট না থাকলেও অন্যের প্রডাক্ট বিক্রয় কল্পে অর্থাৎ এফিলিয়েট মার্কেটিং মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আয় করা যায়।
  • ঘরে বসে কাজ এবং আয় সহজ করা যায়।
  • পছন্দমতো পণ্য আপনার সাইটে সাজানো যায়।
  • পার্ট টাইম বা ফুল টাইম ক্যারিয়ার তৈরি করা যায়।
  • নিজস্বতা এবং কাজের স্বাধীনতা আছে।
  • একটি এফিলিয়েট সাইট দিয়ে একাধিক উপায়ে ইনকাম করা যায়।
  • এ কাজে সব সময় এক্টিভ থাকার প্রয়োজন হয় না।
  • এফিলিয়েট একটি ক্রিয়েটিভ এবং স্মার্ট পেশা।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিছু জনপ্রিয় বাজারসমূহ

বর্তমান সময়ে যেসমস্ত বড় বড় কোম্পানিগুলো এফিলিয়েট সুবিধা এবং উচ্চহারে কমিশন দিয়ে থাকে, জনপ্রিয় বাজার হচ্ছে আর সেগুলো হলো, যেমন-

১। ব্লু হোস্ট ওয়েভ হোস্টিং সার্ভিস (www.bluehost.com)

২। অ্যামাজন (www.amazon.com)

৩। আলীবাবা (www.alibaba.com)

৪। থিমফরেস্ট (www.themeforest.net)

৫। হোস্টগেটর হোস্টিং সার্ভিস (www.hostgator.com)

৬। ইবাই (www.ebay.com) ইত্যাদি

এছাড়াও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য আরও কিছু জনপ্রিয় প্লাটফর্ম রয়েছে যেমন- ওয়েব সাইট, ইউটিউব এবং সোস্যাল মিডিয়া সাইটস ইত্যাদি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য স্থায়ী এবং সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো নিজস্ব ওয়েব সাইট তৈরি করে নেয়া। ফলে আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কৌশলগুলো নিজের মতো করে এবং যুগোপযোগী করে সাজাতে পারেন; যাতে ভোক্তাদের কাছে আপনি সহজে পৌঁছে যেতে পারেন।

এ পেশায় কাজ করতে হলে আপনার সময়, কাজের কৌশল এবং বিনিয়োগের কথা মাথায় অবশ্যই রাখতে হবে। কাজগুলো কিভাবে শুরু করবেন সে বিষয় সম্যক ধারণা এবং মাস্টার প্লান থাকা চাই। এবং সাথে আপনার ধৈর্যশীল, আইডিয়ালিস্টিক, সর্বপরী কমিটেট হওয়া জরুরী; তাহলে আপনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবেও এফিলিয়েটিং করে রেগুলার চাকুরীজীবির মতোন অর্থোপার্জন করতে পারবেন।

লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং
সাংস্কৃতিক কর্মী।