শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রাম? এমন ভুল কী হতে পারে! এমন প্রশ্নের দোলাচলে এবার বাজফিডের একটি প্রতিবেদনে জানিয়ে দিয়েছে, পিতৃতুল্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক- শিশু এবং দ্বৈত ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন ইনস্টাগ্রাম সংস্করণে কাজ করছে। এ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের বয়স মিনিমাম তের বা তার বেশি হতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার কর্মচারীদের জন্য ফেসবুক পোস্টে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন ইনস্টাগ্রাম পণ্য বিপনন বিভাগের সহ-সভাপতি বিশাল শাহ। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রাম সকল কিশোর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্যে গোপনীয়তা, সুরক্ষা এবং তাদের উন্নয়নে কাজ করবে।
শাহ বলেন, “আমি এ ঘোষণা দিতে পেরে আনন্দিত যে, যুবকদের জন্য কিছু করতে গিয়ে আমরা যুবকদের ইনস্টাগ্রাম অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করেছি এবং এটি আমাদের এইচ১ অগ্রাধিকার তালিকায় নথিভূক্ত করেছি,” শাহ তিনি আরও বলেন- “আমরা দুটি বিষয়ে মনোনিবেশ করার জন্য কমিউনিটি প্রোডাক্ট গ্রুপের মধ্যে একটি নতুন স্তম্ভ তৈরি করবো, যেমন; (ক) শিশু কিশোরদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে আমাদের সততা এবং গোপনীয়তার কাজকে ত্বরান্বিত করা, এবং (খ) ইনস্টাগ্রাম এমন একটি সংস্করণ তৈরি করবে, যা শুধুমাত্র ১৩ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের নিরাপদে এবং প্রথমবার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে অনুমোদন দেয়।
ফেসবুকের একটি ইমেল বার্তায় মাশেবলকে প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, শিশুদের জন্য নতুন সংস্ককরনের ইনস্টাগ্রামটি হবে একটি “পিতামাতার নিয়ন্ত্রিত অভিজ্ঞতা”।
ফেসবুক সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, “ক্রমবর্ধমান শিশুরা তাদের পিতামাতাকে প্রশ্ন করছে যে তারা অ্যাপগুলিতে যোগ দিতে পারে, যা তাদের বন্ধুদের সাথে যুক্ত রাখতে সহায়তা করবে,” এই মুহুর্তে পিতামাতার পক্ষে খুব বেশি বিকল্প নেই, তাই আমরা অতিরিক্ত শিশুবান্ধব সুবিধা তৈরি করতে কাজ করছি- যেমন আমরা ম্যাসেঞ্জার যুক্ত করেছি; যা শিশুদের জন্য উপযুক্ত, এবং এটি পিতামাতার দ্বারা পরিচালিত। যার ফলে শিশুরা তাদের বন্ধুত্ব রাখতে পারে, শেয়ার করতে পারে তাদের নতুন আগ্রহ, শখ আরও অনেক কিছু। শিশুদের নতুন ইনস্টাগ্রাম পিতা-মাতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে যা শিশুদের লক্ষ্য আবিষ্কার করতে সহায়তা করবে।
বাজফিডের প্রতিবেদনে এও উল্লেখ করেছে, ঐতিহাসিকভাবে ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মে প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা ধর্ষণ বা ধর্ষণকারীর অভিজ্ঞতা কিশোর-কিশোরীদের ঠেকাতে কঠোর সময় অতিবাহিত করে এই পদক্ষেপটি ভ্রু কুঁচকে উঠেছে, যদিও এই সমস্যাগুলি মোকাবেলায় বছরের পর বছর ধরে এ ইস্যূটি ঝুলে আছে। সামাজিক প্রচার মাধ্যম শিশু বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে দেখা গেছে বলে অভিভাবকদের এ্যাডভোক্যাসি গ্রুপ ইতিমধ্যে ফেসবুককে ম্যাসেঞ্জার অপশানটি শিশুদের জন্য বন্ধ করতে বলেছে।
যেহেতু কঠোর আইন রয়েছে যেগুলি দ্বারা বিজ্ঞাপনদাতা এবং সামাজিক নেটওয়ার্কগুলি শিশুদের তথ্যগুলো তদারকি ও পরিচালনা করতে পারে। মেসেঞ্জারের পাশাপাশি ইউটিউব শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক প্ল্যাটফর্মগুলি একই বিজ্ঞাপনের তথ্য সংগ্রহ বা লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে এই প্ল্যাটফর্মগুলির একটি বড় প্রশ্ন হলো তারা ভাবি গ্রাহকদের রূপান্তর করতে পাইপলাইন হিসাবে কাজ করে।
যদিও ফটো-শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ইনস্টাগ্রামের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের বিজ্ঞাপন সাম্রাজ্যেসহ মাল্টিমিডিয়া আবাসে পরিণত হয়েছে। তথ্যসূত্র : মাশেবল