কোন ব্যক্তি বা জাতির মধ্যে ভালো মন্দ উভয় দিকই থাকতে পারে। সোয়েটার শীতের সময়ের জন্য ভালো, কিন্তু গরমকালের জন্য অনুপযুক্ত। সেকারণে সময়ের কথা ভেবে নিত্য নতুন পোষাক তৈরী হয়। মনকাড়া (অথবা কারোর অপছন্দের) ডিজাইনের, ফ্যাশনের জিনিস তৈরী হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তি চিন্তা-চেতনা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং জাতীর সংস্কৃতি, রীতিনীতিও এমনই। অতীতে যা ছিলো, তাঁদের দৃষ্টিকোন থেকে সেগুলোই তাঁদের কাছে উপযুক্ত, যৌক্তিক মনে হয়েছিলো। অথচ, আজ যা দেখছি, সময়ের বিবর্তনে সেগুলোই হয়তো আমাদের চোখে খারাপ, অনুপযুক্ত ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

গারো সংস্কৃতি

কোন একটা পোস্টে বলেছিলাম, “সংস্কৃতি (কর্ষণ/কালচার) একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়াগত সূত্রেই যুগে যুগে সে পরিবর্তনশীল। শুধু গারো জাতি/সমাজ কেন, পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একইভাবে স্রোত প্রবাহিত। সেখানে উত্থান-পতন স্বাভাবিক; সাময়িক। আসলে আমরা কখন, কোনটাকে কম-বেশি গুরুত্ব দিবো, কোনটা কার মনে ইতিবাচক হয়ে প্রকাশিত হয়, এর উপর নির্ভর করে, সে ধারাটি কোনদিকে প্রবাহিত হচ্ছে।” অর্থাৎ সংস্কৃতির ধারানুযায়ী সে যুগে যুগে পরিবর্তন হতেই থাকবে। আবার এই ধারাটি ভেঙ্গে (অনেকটা জোর করে) হলেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এরকম অনেক কিছুরই পরিবর্তন করতে হতে পারে, তা বোধয় আমার সাথে একমত হওয়ার মতো মানুষও কম হবে না।

এবার আসল কথায় আসি। অন্যান্য জাতীর মতো গারোও একটা জাতি; যার আলাদা সত্তা, সংস্কার, রীতি-নীতি রয়েছে। কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে যা মনে হচ্ছে- আজ গারো জাতীর লোকেরাই গারো জাতীর সত্তা, সংস্কার, রীতি-নীতিকে মোটের ওপর আর সহ্য করতে পারছেন না; যা একটা জাতীর স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়ার অন্তরায়। শুধু তাই নয়, কতিপয় গারো ফেবুয়ানদের এবং তাদের সঙ্গীদের কথা/পোস্ট দেখে মনে হয়, তারা জীবনেও নিজেদের (এবং গারো জাতীর) মধ্যে ভালো কিছু কখনোই দেখেন নাই। যেকারণে যত্রতত্র জাতীর উপর অশ্রাব্য গালি উদগীরণ করে পুরো জাতিকে (নাকি নিজেকেই) অন্যদের কাজে হেয় করছেন। তারা এতটাই উন্মত্ত হয়েছেন যে, কোথায় কি/কোন মন্তব্য করতে হয়, সে জ্ঞানটাও যে হারিয়ে ফেলেছেন- তা বলাই বাহুল্য। তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, উদার, নিরপেক্ষ, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সামনে পেছনে ভেবে কাজ করুন। এ গারো জাতি আমার, আপনার, সকলের। অনুরোধ নির্বিচারে জাতিকে হেয় করার প্রক্রিয়া বন্ধ করুন।