নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ গারো পাহাড়ের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের কয়েকটি থানায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। বছরের শেষে এসে এই কয়েকদিন শীতের প্রকোপ খুব বেশি করে টের পাচ্ছে এই এলাকার জনগণ। গত প্রায় তিনদিন ধরে প্রায় সারাদিন ধরেই দেখা মিলছেনা সুর্য্যের মুখ। সারাদিন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ আর শৈত প্রবাহে অল্প সময়ের জন্যও শরীর থেকে গরম জামা খোলা যাচ্ছে না বলে অভিমত জানিয়েছেন গারো পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা আদিবাসী জনগণ।

নালিতাবাড়ী থানার ডালুকোনা গ্রামের রজমিস্ত্রী লিন্টু সাংমা বলেন, “বড়দিনের সময় শীত বেশি ছিল না তবে নতুন বছর যতই ঘনিয়ে আসছে ততই শীত বাড়ছে। কাজে যেতে পারছি না। তাছাড়া আমি চায়লেও আমার সহকারী শীতের কারণে কাজে যোগদান করতে চাচ্ছে না যার কারণে আমার কাজে সমস্যা হচ্ছে”। এসময় বারোমারী মিশন সংলগ্ন বটতলা এলাকার চা বিক্রেতা বিন্যামিন ম্রং বলেন, শীতের কারণে বেচা বিক্রি কম। অল্প শীতে কিছুদিন আগেও মানুষ দোকানপাতে বসত। সন্ধার রাত পর্যন্ত থাকত। তখন বিক্রি বেশি ছিল । কিন্তু অতি মাত্রায় শীত চলে আসায় মানুষজন রাত হওয়ার আগেই বাড়ী থেকে বের হচ্ছে না । যার কারণে ব্যাবসাও তেমন ভাল যাচ্ছে না।

অন্যদিকে নতুন বছরকে ঘিরে নানা কর্মসুচী ও আনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এলাকার গারো আদিবাসী খ্রিষ্টান জনতা । তবে তীব্র শীতের কারণে তা যথাযথভাবে পালন করা যাবে কিনা সেটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

দুইদিন ধরে রাতে শীতের প্রকোপ ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে এসেছে। ফলে এসব এলাকায় প্রচণ্ড শীত ঝেঁকে বসেছে। এলাকাবাসী আগুন জ্বেলে অনেকেই শীত নিবারন করার চেষ্টা করছেন। এলাকার জনসাধারণ নিম্মবিত্তের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতের পোশাক না থাকাতে শীতের প্রকোপে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু সরকারী পর্যায় থেকে শীতবস্ত্র বা অন্যান্য সহায়তা আসেনি এইসব আদিবাসী এলাকায়।