অন লাইন ইনকামের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউব। জনপ্রিয়তার কারণও অনেক। গোটাবিশ্বে ইউটিউব ব্যবহারও কম নয়। তেমনি দিনকে দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রিয়েটরের সংখ্যাও। ফলে ইউটিউব প্লাটফর্মটি অর্থ আয়ের একটি সুপার মাধ্যম হিসাবে গড়ে উঠছে। তরুণ, বয়স্ক, কিংবা পেশা এটি কোন বাঁধা নয়। অনেকেই এখন পেশাদারিভাবে ক্রিয়েটিভ ইউটিউব কনটেন্ট তৈরি করছেন। শিক্ষা কিংবা বিনোদনের জন্য কেউ কেউ এসব ভিডিও দেখছেন অসংখ্যবার। কোনো কোনো কনটেন্ট নির্মাতা ইউটিউব থেকে মাসে মিনিমাম লাখ টাকা উপার্জন করছেন বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে। মোদ্দা কথা হলো, আপনি চাইলেই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন, তবে চ্যানেলে অর্থ উপার্জন নির্ভর করছে চ্যানেলটির মনিটাইজেশানের ওপর। ইউটিউব চ্যানেল খুলতে এবং চ্যানেলটি পরিচালনা করতে আপনাকে গুগলের সুষ্পষ্ট বিধি বা নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো কিভাবে একটি চ্যানেল ক্রিয়েট এবং মনিটাইজেশানের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।
ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে কি কি লাগে –
ক) ইউটিউব চ্যানেল খুলতে প্রথমেই একটি জিমেইল একাউন্ট লাগবে। এবং আপনার জিমেইল ব্যবহার করে ইউটিউব লগইন করে চ্যানেলটি পরিচালনা করতে হয়।
খ) একই ইমেল অথবা টেলিফোন নম্বর দিয়ে একাধিক চ্যানেল খোলা যেতে পারে; তবে একটি মাত্র টেলিফোন নম্বর এবং ইমেল দিয়ে কেবলমাত্র একটি গুগল এ্যাডসেন্স একাউন্টস করা যাবে।
গ) যে কোন বয়সে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারে, তবে মনিটাইজেশান আবেদন করতে আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
চ্যানেল মনিটাইজেশান আবেদন করতে কোন শর্তগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে –
ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করলেই আপনার একাউন্টে সরাসরি অর্থ আসবে না। সেজন্য আপনার ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে বিধি মেনে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ আপনার অ্যাকাউন্টটি মনিটাইজেশন বা তালিকাভূক্ত করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল খোলা সহজ হলেও মনিটাইজেশন বা পার্টনারশিপ তালিকাভূক্ত হওয়া ততটা সহজ নয়। গুগলের বিধিগুলো অনুসরণ এবং শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পূরণ করে অর্থ আয়ের জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া যাবে। ইউটিউবের ক্ষেত্রে আপনাকে ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে যে সমন্ত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে, আর তা হলো যেমন-
ক) আপনার চ্যানেলে কমপক্ষে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকবে হবে।
খ) ১২ মাসে চ্যানেলের ভিডিও মিলে কমপক্ষে ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার বা দেখার রেকর্ড থাকতে হবে।
গ) ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে।
ঘ) চ্যানেলেটিতে ভেলিড ভিউয়ার থাকতে হবে।
ঙ) চ্যানেলটিতে ভেলিড সাবস্কাইবার থাকতে হবে।
উপরোক্ত শর্ত পূরণ করা হলে আবেদন করার পর আপনি ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন পেতে শুরু করবেন। ইউটিউব সিপিএম বা কস্ট পার মাইলস/থাউজ্যান্ডের হার এবং সিপিসি বা কস্ট পার ক্লিকের ভিত্তিতে টাকা দেয়। কনটেন্ট, ভিউ ইত্যাদির ভিত্তিতে সিপিএম রেটও ওঠানামা করে থাকে। ভৌগোলিক কারণে চ্যানেলে বিজ্ঞাপনটির কারেন্সিও ওঠানামা করতে পারে।
আপনার চ্যানেলে কি ধরণের কনটেন্ট তৈরি এবং আপলোড করা যাবে –
ইউটিউব চ্যানেলে কনটেন্ট আপলোড করতে দুটো প্রধান ক্যাটাগরি রয়েছে- একটি হচ্ছে শিশু বিষয়ক এবং অন্যটি হলো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। পর্ণগ্রাফি ছাড়া যেকোন বিষয় কনটেন্ট তৈরি করা যাবে যেমন- শিক্ষামূলক, ভ্রমন, প্রযুক্তি সম্পর্কে নানা তথ্য, মজাদার ভিডিও, গেম ভিডিও, বাচ্চাদের খেলনা, খাওয়া-দাওয়া, ফানি, গান, নাচ, সিনেমা, নাটক, বই বা চলচ্চিত্রের রিভিউ ইত্যাদি তৈরি করা যেতে পারে। তবে ভিডিওগুলো হতে হবে পরিষ্কার শব্দ, সম্পাদনার কাজটিও নিখুঁত হওয়া বাঞ্চনীয়। সেই সাথে টাইটেল, ভিডিও থামনাইল, ভিডিও ডেস্ক্রিপশান, ট্যাগ, হ্যাশ ট্যাগ থাকতে হবে। সর্বপরী ইউটিউব চ্যানেলে আপলোডকৃত কনটেন্টটি কপিরাইট থাকতে পারবে না।
ইউটিউব প্লাটফর্মে কাজ সহজ হলেও, মনিটাইজেশানের বিধিগুলো মেনে চলতে হবে কঠোরভাবে। অন্যথায় আপনার গুগল পার্টনারশিপ একাউন্ট ক্যানসেল্ড হতে পারে যেকোন সময়।
লুই সাংমা
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং সাহিত্য কর্মী
প্যারিস, ফ্রান্স