স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য: বাংলা প্রবাদে আছে- শরীরের নাম মহাশয়, যাহা সহাও তাহাই সয়। ঘুমকে ভালোবাসে না, বেশি ঘুমোতে পারলে খুশি হন না, পৃথিবীতে এমন মানুষ খোঁজে পাওয়া মুশকিল !
যথেষ্ট ঘুম শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখে। মানসিক চাপ কমিয়ে উচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়। নতুন কাজে শরীরকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে শরীর সুস্থ রাখতে হলে ঘুমের বিকল্প নেই। আবার বেশি শান্তিতে ঘুমোলেও, আপনার বেশি ঘুম ডেকে আনতে পারে ঘোর বিপদ। অনেকেই হয়তো জানেন না, বেশি ঘুমোতে পারলে অনেকেই খুশি হন ! কিন্তু হালের স্বাস্থ্য গবেষণা বলছে, বেশি ঘুমোলে নানা রকম শারীরিক জটিলতা হতে পারে। এমনকি মানুষের স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।
সুস্থ থাকতে কত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন? ছবি সংগৃহীত
একজন সুস্থ মানুষের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। একটানা ঘুম সবচেয়ে ভালো। তবে যদি কাজের প্রয়োজনে আপনি একটানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে না পারেন, তবে ভাগ করে ঘুমাতে হবে।
শরীরের ৪০-৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্ট্যের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যে কোনও প্রাপ্তবয়স্কের প্রত্যেক দিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে হজমশক্তি, স্মৃতিশক্তি, হৃদ্যন্ত্র, এবং আরও নানা শারীরিক পক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য এবং পর দিনের কাজের স্ফূর্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে এই ঘুমই। কিন্তু দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি যাঁরা ঘুমোন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।
মানুষের প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন হয়। কম বা অতিমাত্রায় ঘুম ফল কি হতে পারে সে ধারণা অনেকেরই থাকে না। তাই আপনার ঘুমকে সঠিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরকে ঠিকঠাক রাখার দায়িত্বও আপনার। অতিরিক্ত ঘুমিয়ে শরীরে বিপদ ডেকে আনবেন না। তথ্য – বিবিসি বাংলা