নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুর জেলাধীন ঝিনাইগাতি থানার বাঁকাকুরা গ্রামে গারো আদিবাসী পরিবারকে কোর্টের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারী বিকেল তিন ঘটিকার সময় উক্ত স্থানে বসবাসরত শীতমনি সাংমার ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে আ.বিমা টাইমসকে ট্রাইবাল ওয়েলফার এসোসিয়েশন এর ঝিনাইগাতি থানা শাখার চেয়ারম্যান নবেশ খকসী জানান কোর্টের নির্দেশেই যদিও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে; কিন্তু ভুক্তভোগীদের কোনরকম নোটিশ দেওয়া হয় নি। ঘটনার তদন্তে জানা যায় শীতমনির মা মৃত্যুর আগে ১৯ শতাংশ জমি বাঙ্গালিদের কাছে বিক্রয় করেছিলেন। বিক্রিত জমিটি অন্য স্থানে ও অন্য দাগে হলেও ভুলক্রমে উচ্ছেকৃত স্থানের দাগ বসানো হয়ে দলিলে। এরই প্রেক্ষিতে সমস্যায় ছিল ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিবার। এমতাবস্থায় আইনের আশ্রয় নেয় শীতমনি সাংমা এবং পরে কোর্ট শীতমনির ফেবারেই রায় দেয়। পরবর্তীতে সেই রায়ের প্রেক্ষিতে গোপনে আবারও আপিল করে জমির ক্রেতা বাঙালীরা। আপিল করার পর কোনরকম নোটিশ কিংবা রায়ের সংবাদ দেয় নি উচ্ছেদের শিকার পরিবারকে। গতকাল হঠাৎ করে মেজিস্ট্রেটসহ এসে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বসবাসের দুটি ঘর মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই মুহুর্তে উচ্ছেদের শিকার শীতমনি ও তার পরিবার খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে সর্বশেষ তথ্যে।

আ.বিমা টাইমসকে ট্রাইবাল ওয়েলফার এ্যাসোসিয়েশনের ঝিনাইগাতি থানা শাখার চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা এই বিষয় নিয়ে আবার কোর্টে যাচ্ছি। এই সমস্যা আদিবাসীদের জন্য নতুন নয়। আমার জানা মতে, এটি একটি চক্রান্ত”। তিনি আরও বলেন, “উচ্ছেদ নোটিশ না দিয়ে কীভাবে হঠাৎ করে একজন মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা যায় সেটি আমার মাথায় আসছে না”।

উল্লেখ্য যে, শীতমনির পূর্বপুরুষসহ তার পরিবার ঐ একই স্থানে প্রায় একশত বছরের উপরে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এইভাবে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে সেটি তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।