আ.বিমা টাইমস নিউজ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোচ আদিবাসী এক নারীকে (৪০) গণধর্ষণের ঘটনায় দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামীদের গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক প্রেসব্রিফিংয়ের গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে নাগরপুর ও মির্জাপুর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সুপার জানান, মামলার পর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম গঠন করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। আরেক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান।
ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, সখিপুরের বড়চালা গ্রামের প্রকাশ সরকারের ছেলে দিনা সরকার (৩০) ও মৃত নারায়ন সরকারের ছেলে মন্টু সরকার (৩২)।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কোচ আদিবাসী নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে টাঙ্গাইল সদর প্রেস ক্লাবের সামনে। বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নসহ অন্যান্য আদিবাসী সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনায় সদস্য সচিব (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি) বকুল চন্দ্র বর্মন এবং রতন কোচ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এতে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন রতন কুমার রায়, যুগ্ন আহ্বায়ক (বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন), এরপর আরও বক্তব্য রাখেন বাগাছাস সভাপতি জন যেত্রা, সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ (বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ), সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল (জিএসএফ), বিশ্বজিৎ কোচ, যুগ্ন আহ্বায়ক (বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন), চন্দন কোচ, যগ্ন আহ্বায়ক (বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন), স্বপন কোচ, সদস্য (বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম), অনিল চন্দ্র কোচ, চেয়ারম্যান (ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশান), স্বপন কুমার কোচ এবং রানেল মানখিন সহ প্রমুখ।
সেখানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে অসংখ্য আদিবাসী নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশই যথাযথ বিচার হয় নি। সখীপুরের গণধর্ষণের ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার হলেও এখনো পর্যন্ত আরেক আসামী ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। গণ ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতাসহ দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জোড় দাবি জানান তাঁরা।