প্রাচীন আমল থেকেই বাঙালিরা বসন্ত উৎসব পালন করে। ফলে পহেলা ফাল্গুন বাঙ্গালীদের আরেকটি প্রাণের উৎসব। এটিকে আবার বসন্ত উৎসবও বলা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রকৃতির দক্ষিণা দুয়ারে বইছে ফাগুন হাওয়া। আগমনী গান ধরেছে বসন্তের কোকিল। প্রকৃতির ফুলে ফুলে ভ্রমর, পলাশ, শিমুল গাছে ফুলের মেলা বসেছে। এমন প্রকৃতিক সৌন্দর্যের যজ্ঞ নিবেদন প্রতিবছর জানান দেয় বাঙালির প্রাণে। গত বছরের মতোন এবারও বাঙালি বসন্ত উৎযাপন করবে রোববার ১৪ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে দেশে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ইংরেজি ‘ভেলেন্টাইন দে’ পালিত হয়।
বাংলা একাডেমির তথ্য সূত্র মতে, সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে (লিপ ইয়ার) ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই সেভাবেই সাজানো হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি। সে অনুযায়ী বদলে গেছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে পহেলা ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনেই হচ্ছে ভালোবাসা দিবস।
ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয় সারা বিশ্বে। আর বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর একই দিনে পড়ছে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস।
বঙ্গাব্দ ১৪০১ থেকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’উদযাপন করার প্রচলন শুরু হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব পালনের রীতি হয়ে আসছে।
‘বসন্ত বরণ’ উৎসবটি প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।