আমাদের শরীরে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগই পানি। সুস্থ, এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে হলে পানি পানের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেই জানি না দৈনিক কতটুকু পানি পান উচিত? অথবা কখন বেশি আর কখন কম পানি পান করা ভালো? পর্যাপ্ত পানি পানের যেমন সুফল আছে, তেমনি অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে নানা সমস্যায় ভোগতে হয়। এছাড়াও এক গবেষণায় দেখা গেছে নানা উপায়ে পানি পান করার ফলে ওজন হ্রাস করা সম্ভব।

কতটুকু পানি পান করা উচিত- শুধু পানি পান করার ফলে ওজন হ্রাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনার কেবল পানি খেয়েই বাঁচতে হবে বা প্রতিদিন ৫-১০ লিটার পানি খেতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, গবেষণাটি দেখায় যে আপনার শরীরের কত জল প্রয়োজন তা আপনার বয়স, শরীরের আকার, কাজের ধরণ, স্বাস্থ্যের স্থিতি, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা এবং সূর্যের তাপের স্তরের ওপর নির্ভর করে।

যারা গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে বাস করে, অত্যধিক ঘাম হয়, শারীরিক শ্রম বা প্রতিদিন নিবিড় অনুশীলন  করেন তাদের অন্যদের তুলনায় বেশি পানি পান করা প্রয়োজন। প্রবীণ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলাদের উচিৎ তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পানি পানের পরিমাণ নির্ধারণ করা। সাধারণভাবে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন প্রায় দুই লিটার পানি পান করা উচিৎ বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন।

পর্যাপ্ত পানি পানের সুফল- পর্যাপ্ত পানি পানে কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক ভালো থাকে। শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। পানি শরীরের ভেতরের কোষগুলোকে সবল ও স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পানি পানের ঘাটতি দেখা দিলে এই কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পানের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান না করার ফলে রোগ ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশুদ্ধ পানি না হলে কমপক্ষে আধঘণ্টা ভালো করে ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করে এবং সম্ভব হলে ফিল্টারিং পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করে পানি পান করা যেতে পারে। এ ছাড়া বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে পান করতে গেলেও সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। সূত্র: হেল্থ লাইন