নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোনা: গত দুইদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পাড় ভাঙনসহ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার খবর পাওয়া গেছে। ভারী বর্ষণে নেত্রকোনার জেলার দূর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সোমেশ্বরী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত জনজীবন চরম হুমকির সম্মুখীন। সোমেশ্বর নদী পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নদীর পাড় ভেঙ্গে আদিবাসী অধ্যুষিত কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কামারখালি বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে নদীর নদীর প্রান্ত রেখায় অবস্থিত বড়ইকান্দি, বহেড়াতলী, কামারখালী, ভবদেব পাড়া, ভূলিপাড়া, কুড়ালীয়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হবার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় এলাকায় ত্রাণের পরিবর্তে পরিস্থিতি জরুরী পরিদর্শন পূর্বক এবং স্থায়ী সমাধানের জোর দাবী জানায় এলাকাবাসী।

এছাড়াও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার, কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আমন বীজতলা, কাঁচা রাস্তাঘাট, পুকুর, গাছপালাসহ ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে, কলমাকান্দা সদর, বাসাউড়া, মন্তলা, চানপুর, আনন্দপুর, রঘুরামপুর, বিশরপাশা, নাগডড়া, পাঁচগাঁও ধারাপাড়া, নয়াচৈতা, রামনাথপুর, নক্লাই, নতুনবাজার, তেলীগাঁও, বাঘারপাড়, বিষ্ণুপুর, শিবনগর, বাউশাম, সুন্দরীঘাট, ভাষাণকুড়া, রহিমপুর, কান্তপুর, নলছাপ্রা, পাঁচকাঠা, ভাবানীপুর, শিবনগর, বালুছড়া, ইয়ারপুর, গোড়াগাঁও, গোয়াতলা, কৈলাটী, শুনই, গোবিন্দপুর, বড়ইউন্দ, কেশবপুর, সালেঙ্গা, কুতিগাঁও, ভাটিপাড়া গ্রামের খাল-বিল, ছড়া ও জলাশয়সমূহ তলিয়ে গেছে। মাঠ ও রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত। এ বন্যায় নিম্নাঞ্চল এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, রোববার (২৮ জুন) সকাল পর্যন্ত উপজেলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।