আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: ক্রমাগত আন্দোলনের চাপে অবশেষে পদত্যাগ করলেন মেঘালয়ের ‘গারো হিলস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল’ (জিএইচএডিসি)র সদ্য নির্বাচিত মুখ্য নির্বাহী সদস্য (সিইএম) রাকেশ এ সাংমা। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার তিনি তুরা গভর্নর বরাবর তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে পদত্যাগ করছেন বলে পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন। প্রথমে পদত্যাগপত্রের তারিখে ২০২০ উল্লেখ থাকায় জনমনে সংশয় ছিল। পরে তিনি সংশোধিত নতুন কপি জমা দেন। তার পদত্যাগ করার পর সিজু-রঙারা এমডিসি আলবিনুস মারাক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে রাকেশ সাংমা পদত্যাগ করায় আন্দোলনকারী বিভিন্ন সংগঠন ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার আনন্দ মিছিল বের করে। তারা এটিকে তাদের বিজয় বলে উল্লেখ করেন।
গত ৩১ জানুয়ারি সোমবার অনুষ্ঠিত জিএইচএডিসির নির্বাচনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনপিপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেনেডিক্ট মারাক পান ১৩ ভোট।
সিইএম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাকেশ সাংমাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, রাকেশ সাংমার মা গারো হলেও তার বাবা গারো নন। রাকেশের বাবা ঠাকুর সিং নেওয়ার একজন নেপালি। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে রাকেশের পরিবার কখনোই গারো প্রথা, রীতিনীতি, সংস্কৃতি চর্চা করে না। রাকেশ নিজেও স্কুলে থাকাকালীন পর্যন্ত তার নামের পরে ‘নেওয়ার’ পদবী লিখতেন। নির্বাচনের জন্য দাখিল করা এভিডেভিডই তা প্রমাণ করে। এমনকি তারা যে এলাকায় বাস করে সেই বাবেলাপাড়া এলাকাও গারো অধ্যুষিত এলাকা নয়।
আন্দোলনকারীদের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি ছিল, কাউন্সিলের বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে। গারো প্রথাগত মামলাগুলোর রায় দিয়ে থাকে কাউন্সিল। মামলাগুলোতে অনেক স্পর্শ কাতর বিষয় থাকে। রাকেশের পরিবার যেহেতু গারো প্রথা, রীতিনীতি চর্চা করে না তাই এগুলো তিনি জানেন না। সুতরাং না জেনে প্রথাগত মামলাগুলোর রায় দিলে সমস্যা হবে।