ওয়েলসন নকরেক, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনে বনরক্ষী ও পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ পীরেন স্নালের আত্নদানের ১৮তম হত্যা বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩রা জানুয়ারী সোমবার সকাল ৯.৩০ টায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জালাবাধা গ্রামের পাশে রাজঘাটি নামক স্থানে পীরেন স্নালের স্মৃতিসৌধ ‘খিম্মা’তে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। এর পরে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক এর সভাপতিত্বে লিয়াং রিছিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি অজয় এ মৃ, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) এর মধুপুর শাখার আহবায়ক তুষার নেকলা, আ.বিমা ইয়ুথ এসোসিয়েশন (আজিয়া)র সভাপতি মিঠুন হাগিদক প্রমুখ।

বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, “শহীদ পীরেন হত্যার ১৮ বছর পার হলেও এখনো তার হত্যার বিচার হয় নি। অবিলম্বে পীরেন হত্যার বিচার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, “সুফল প্রকল্প সহ আদিবাসীদের ভূমিতে গেস্ট হাউজ, বিনোদন কেন্দ্র, লেক ও পার্ক নির্মাণ করার চেষ্টা করলে মধুপুরবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেটি প্রতিহত করবে।”

Piren Pic2

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, “মধুপুরে আদিবাসীরা ৬২ সাল থেকে আজ অব্দি ভূমি রক্ষার আন্দোলন করে যাচ্ছে। বন ও ভূমি রক্ষার আন্দোলনে পীরেন স্নাল আত্মাহুতি দিয়েছেন। উৎপল নকরেক আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অথচ সরকার আবারও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।” তিনি ছাত্র যুবদের আগামীদিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।

Piren Pic3

পীরেন স্নালের স্মৃতিসৌধ ‘খিম্মা’তে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মধুপুর, টাঙ্গাইল।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক তার বক্তব্যে বলেন, “মধুপুরে আদিবাসীদের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। পীরেন জীবন দিয়ে আমাদের সংগ্রামকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করেছে। এই আদিবাসী নেতা আরো বলেন উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিহত করা হবে।” তিনি তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সে লড়াইয়ে সামিল থাকার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৩রা জানুয়ারি মধুপুরে ইকো পার্ক বিরোধী আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ এবং বনপ্রহরী গুলি চালালে জয়নাগাছা গ্রামের পীরেন স্নাল ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন এবং বেদুরিয়া গ্রামের উৎপল নকরেক চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এছাড়াও অর্ধশতাধিক গারো আদিবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। এই ঘটনার পর সরকার ইকোপার্ক প্রকল্প স্থগিত করলেও পীরেন হত্যার বিচার এখনো হয় নি।