পুদিনা পাতা স্বাদবর্ধক ঔষধিগুণে ভরপুর ভেষজ এবং সবজি জাতীয় উদ্ভিদ। পুদিনা পাতা একটি সুগন্ধি এবং মসলা জাতীয় বিরুৎ প্রকৃতির গাছ। এটির ব্যবহার সবজি এবং মসলা হিসেবে বহুল প্রচলিত হলেও পুদিনা পাতার উপকারিতা বা ভেষজগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। বিশ্বে এর কার্যকারিতা, মানুষের শরীরের জন্য ভেষজগুণ বা উপকারিতা আছে বিধায় এর বহুবিধ ব্যবহার বাড়ছে-ই।
পুদিনা পাতার ইংরেজি শব্দ Spearmint, or Spear Mint, যার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Mentha Spicata। অর্থাৎ এটি এক প্রকারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বা গাছ।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে পুদিনা পাতায় ‘পলিফেনল’খনিজ উপাদান বা ঔষধিগুণ রয়েছে যা, মানুষের শরীরে হাঁপানি, পেটের অসুক সারাতে পুদিনা পাতা বিশেষ উপকারী। অপরদিকে এর ক্যালরি, প্রোটিন, চর্বি সবকিছুরই মাত্রা খুবই কম থাকে। ভিটামিন এ, সি আর বি–কমপ্লেক্স উপাদানও রযেছে যা ত্বকের যত্নে আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে লৌহ, পটাসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ। এই সমস্ত খনিজ উপাদানগুলো রক্তে ‘হিমোগ্লোবিন’এর মাত্রা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অটুট রাখতে সহায়তা করে।
রান্নায় মসলা হিসেবে পুদিনা পাতার কদর থেকে শুরু করে ঔষধি হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে প্রাচীন কাল থেকেই। এছাড়াও পুদিনা পাতার ‘চা’ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিনকে দিন।
সাধারণ চা’য়ের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক চা প্রিয় মানুষ পুদিনা পাতার চা পান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। শুধু স্বাদ বা গন্ধের কারনে নয়, অনেকেই এর ভেষজগুণ জেনেই এটিকে ওষুধি চা হিসাবে পান করে থাকেন।
পুদিনা পাতার চা শরীরে বিভিন্ন উপকারে আসে। এই চা মানুষের শরীর শীতল করে এবং তাৎক্ষনিক শক্তি যোগায়। মাথা ব্যথা, সাইনাস এবং পেটের সমস্যায় এ চা দারুন উপকারী। পুদিনা চা হজম শক্তি বাড়ায় এবং প্রদাহজনিত ব্যথা কমায়। এ চা পানে মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি দেয়। মুখের দুর্গন্ধসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দুর্দান্ত কার্যকরী। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল কমাতে পুদিনা চা দারুন কাজ করে। সিজিন্যাল জ্বর সারাতেও এই চা বিশেষ উপকারী।
পুদিনা পাতা চা’য়ে ব্যবহার ছাড়াও ত্বকের যত্ন এবং আধুনিক রুপচর্চায় এটিকে ব্যবহার করতে দেখা যায়।
লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং
সাংস্কৃতিক কর্মী।