নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর: ‘মিলন, অংশগ্রহণ ও প্রেরণকর্মে মা মারিয়া’ মূলসুরকে কেন্দ্র করে এবারও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর সীমান্ত ঘেঁষা বারোমারী মিশনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফাতিমা রাণীর ২৪তম তীর্থ যাত্রা ২০২২। এই তীর্থোৎসব সামনে রেখে ইতিমধ্যেই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বারোমারী মিশন ও পার্শ্ববর্তী গারো গ্রামগুলো। এই মাসের (অক্টোবর) ২৭ ও ২৮ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে এই তীর্থ উৎসব।
বারোমারী তীর্থ উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন, এবং তীর্থের মেইন ফটক, ছবি: বাপন নেংমিঞ্জা
বিগত দুটি বছর করোনা মহামারীর পর এবারই অফিসিয়ালী উন্মুক্তভাবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই তীর্থ যাত্রা। তীর্থের অভ্যর্থনা কমিটির আহবায়ক প্রদীপ ম্রং আ.বিমা টাইমসকে জানান, বিগত দুই বছরে যদিও তীর্থ উদযাপিত হয়েছে; কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তেমন জনসমাগম ছিলো না। তবে এই বছর আমরা প্রায় অর্ধলক্ষাধিক খ্রীস্টভক্ত আসবে বলে অনুমান করছি। তিনি আরোও বলেন, বিগত দুটি বছরও সরকারী বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অনেকেই তীর্থে যোগ দিয়েছেন সেই থেকে বলা যায় এবছর উৎসবে জনসমাগম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশিই হবে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে তীর্থ যাত্রা পরের দিন শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলবে। এতে আছে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের সূচিমালা। এই উৎসবে পাপস্বীকার, মহাখ্রিস্টযাগ, মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোক শোভাযাত্রা, আরাধনা, নিশিজাগরণ ও জীবন্ত ক্রুশের পথসহ থাকছে নানা অনুষ্ঠানমালা।
তীর্থে আরাধনার স্থান
তীর্থ কমিটির সমন্বয়ক, বারোমারী মিশনের পালপুরোহিত রেভা ফাদার তরুণ বনোয়ারী আ.বিমাটাইমসকে বলেন, তীর্থ যাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাছাড়া নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এ বছরও প্রতি বছরের ন্যায় পুরো তীর্থস্থান সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তীর্থের আয়োজক কমিটি। বারোমারী মিশনের সহকারী পালপুরোহিত রেভা ফাদার প্রদীপ ম্রং বলেন, যদিও ঘুর্নিঝরের কারণে বিরুপ আবহাওয়া বিরাজ করছে তথাপিও আমাদের বিশ্বাস ইশ্বরের কৃপায় দুদিন আমাদের তীর্থোৎসব সুষ্ঠভাবেই পালন করতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বছর তীর্থ যাত্রার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বনানী পবিত্র আত্মা উচ্চ সেমিনারীর প্রাক্তন পরিচালক রেভা ফাদার গাব্রিয়েল কোরাইয়া। দুদিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠান শুক্রবার মহা খ্রীষ্টযাগের মাধ্যমে শেষ হবে ।