নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমতাবস্থায় দেশে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথ, বিভিন্ন জেলা উপজেলাসহ বহির্বিশ্বেও উত্তাপ বিরাজ করছে। ধর্ষণ এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে উদীচী ফ্রান্স সংসদ এবং উবারভিলিয়ে মেরীর ভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।

আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২০খ্রী.) বিকেল ৪টায় ফ্রান্সের উবারভিলিয়ের (৪৩ রুই দ্যা পোস্টস, ৯৩৩০০ উবারভিলিয়ে) পৌর ভবনে ভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।  প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে প্রতি সোমবার এবং শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীটি আগামী ২৫ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত চলবে।

ধর্ষণ বিরোধী এমন ব্যতিক্রম কর্মসূচী সম্পর্কে আ.বিমা টাইমসকে সভাপতি কিরণ্ময় মন্ডল, উদীচী ফ্রান্স সংসদ তিনি জানান- উদ্বোধনী দিনে নারী নির্যাতন বিরোধী বিভিন্ন দেশের সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে অন লাইনে যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় উদীচীসহ উদীচীর বৈদেশিক বিভাগীয় এবং চলমান আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি উদীচীর ফেসবুক বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি, ফ্রান্স থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ধর্ষণ ও নির্যাতন তথ্য: বাংলাদেশ পুলিশ এর তথ্য মতে, গত বছর ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩ হাজার ৯০০টি। পুলিশের হিসাব বলছে, গত বছর ধর্ষণের কারণে ১২ শিশু এবং ২৬ জন নারী মারা যান। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২১ নারী ও ১৪ শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মতে, গত ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তথ্য মতে, গত বছর ৯০২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৫৬।

এছাড়ও বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এর তথ্য মতে, ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৮৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া এক বছরে যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৭০ শতাংশ। গত বছর যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১ হাজার ৩৮৩ শিশু। ২০১৮ সালের চেয়ে গত বছর শিশু ধর্ষণ ৭৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়েছে।

বিভিন্ন সূত্র মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬০১ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার ৪৬২ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩৪ জন। ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৪০ জনের বয়স ৬ বছর এবং ১০৩ জনের বয়স ১২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ নারীকে। আর ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ১২৬ জন নারীর ওপর।

দেশে লাগামহীন যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে এবং দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা মহামারীতেও  দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার সংবাদ প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।