ফ্রিল্যান্সিং এখন দারুণ আকর্ষণীয় পেশা। দিনকে দিন বাজারে ফ্রিল্যান্সিং পেশার দাপট বেড়েই চলেছে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে বসে শিক্ষিত, বিভিন্ন পেশাজীবি অনেকেই চাকরি না করে ফ্রিল্যান্সিং করার স্বপ্ন দেখেন। এর মূল এবং অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্রিল্যান্সিংয়ে একদিকে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়; তেমনি আয়ের পরিমাণও রেগুলার চাকরিজীবীর চাইতে বেশি।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে পছন্দ বা স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি কাজের স্থান ও ছঁকে বাঁধা নিয়ম থাকে না বলে অনেকেই এ পেশায় আসে। আর সে কারণেই নিজেকে সেভাবে তৈরি করে সংকল্প নিতে হবে। দক্ষতার পাশপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করার দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার মনে করেন, এ পেশায় ইংরেজি চাইতে দক্ষতা বেশি জরুরি। এমন প্রশ্নটি এ সময়ের জনপ্রিয় একটি প্রশ্ন। এহেন আমি বলি যে, ইংরেজি জানা ও অন্যান্য কিছু দক্ষতাও জরুরি। দক্ষতা হলো ফ্রিল্যান্সিং পেশার একটি ছটা মাত্র।
বিশ্ব বাজারে ইংরেজির বিকল্প কোন ভাষা তৈরি হয় নি। যা দিয়ে আপনি আপনার স্কিল, পণ্য বা অন্যান্য বস্তু বিপনন করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আপনার স্কিল, পণ্য বিপনন করতে হলে ইংরেজি এবং অন্যান্য দক্ষতা কেন জরুরি সে বিষয়গুলো ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে নিজেকে তৈরি করুন, অত্মমূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইংরেজি জানা কেন প্রয়োজন?
যেকোনো ভাষা শেখারই অনেক উপকারিতা আছে। অপকারিতা আছে বলে আমার ধারণা নেই। ভাষা জানার মাধ্যমে সেই ভাষা সম্পর্কে ভাল ধারণা লাভ করতে হবে, যাতে আপনি নতুন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন, সে ভাষার সেই সংস্কৃতির সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। একজন বক্তা কিংবা ভালো শ্রোতা হতে পারেন।
বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকশো ভাষা, তার মধ্যে ইংরেজির প্রাধান্য যেন একটু বেশি সবক্ষেত্রেই। ইংরেজি না জানলে তার জীবনে কিভাবে ভাষা না জানার কঠিন প্রভাব পরতে পারে একটু ইমাজিন করুন। বর্তমান যুগে ইংরেজির গুরুত্ব অপরিসীম এবং ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সমানভাবে কার্যকরী।
ইংরেজি জানা থাকলে বিশ্বজুড়ে যে কোনো প্রান্তের মানুষের সাথে কথপোকথন এবং যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব। ইংরেজি না জানলে নিজেকে বিছিন্ন মনে হতে পারে। মোদ্দা কথা, বর্তমানে সব ক্ষেত্রে ইংরেজি খুবই প্রয়োজন। কারণ এই ভাষাটির বিস্তার বিশ্বজুড়ে। কর্মক্ষেত্রেও নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি দক্ষতা প্রয়োজন। আপনি যদি যথাযথ ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন, লিখতে পারেন, বুঝতে পারেন তাহলে কর্মক্ষেত্রেও একাধিক কাজের সুযোগ খুলে যাবে।
ফ্রিল্যান্সিং পেশা দ্রুত হারে বাড়ছে। দিনকে দিন এর চাহিদাও ব্যাপক। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে সকল পরিষেবা সরবরাহকারীরা বিভিন্ন প্রজেক্ট আসে। এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মের ক্লায়েন্টগুলি সারা বিশ্ব থেকে আসে। ফলে এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষা জানা দরকার।
আপনি যদি আপনার মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষ হন; তাহলে আপনি অনলাইনে বাড়িতে বসেই ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বলতে গেলে অগণিত কারণ রয়েছে ইংরেজি শেখার। ইংরেজির ভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে, তবেই ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সফল হতে পারবেন। আরও যে করণে ইংরেজি শেখা প্রয়োজন-
- ফ্রিল্যান্সিং এ ইংরেজির বিকল্প ভাষা নেই। অর্থাৎ সব থেকে বেশি ব্যাবহার করা হয় ইংরেজি ভাষা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরণের ভাষা রয়েছে। কিন্তু যখন ভিন্ন দেশের মানুষ একে অপরের সাথে কথা বলে তখন ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে।
- মাতৃভাষাসহ একাধিক ভাষা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য প্লাস পয়েন্ট। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এই ইংরেজি ভাষার ব্যবহার রয়েছে। ইংরেজিতে ভালো দখল থাকলে দ্বিভাষী সহ বিদেশেও অনেক চাকরি করার সুযোগ পেতে পারেন।
- বিশ্বে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত হারে বাড়ছে। ইংরেজি জানা থাকলে আপনার প্রয়োজনে অন লাইনে অনেক তথ্য উপাত্ত, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন।
- বর্তমানে যেকোন ছোট বড় কোম্পানিতে কাজ করতে হলে ইংরেজির দখল থাকতে হবে। তো ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতোন স্বাধীন কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তখন নিজের অর্থ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, সমস্যার সমাধান নিজ দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যারা নতুন কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। যারা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও যাদের হাতে বায়ার আছে, তাদের জন্য সুবিধাও বেড়েছে অনেক। যারা নতুন এ পেশায় যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য ইংরেজি দক্ষতার পাশাপাশি অনলাইনে দারুণ একটি পোর্টফোলিও তৈরি করে নিতে হবে। শুরুতে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দক্ষতা অর্জন করুন। ক্লায়েন্টকে পেশাদায়িত্ব দেখাতে পারলে, আপনার কাজের মুগ্ধতায় ভবিষ্যতে আর কাজের অভাব হবে না। বায়ারের পজিটিভ ফিডব্যাক আপনাকে অনেক দুর নিয়ে যাবে। এভাবেই আপনার ফ্রিল্যান্সিংয়ের দুয়ার খোলে যাবে। আপনি সফল হতে শুরু করবেন, তখন কোন সুযোগটি আপনার জন্য অধিক জুতসই পণ্য নির্বাচন করতে ভুলবেন না।
এ পেশায় দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা সবসময়। তবে শুধুমাত্র একটি দক্ষতা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় টিকে থাকা কঠিন। ফ্রিল্যান্সিং হলো প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সে কারণে সীমিত দক্ষতা নিয়ে টিকে থাকা কঠিন। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে, কাজের আগে উপার্জন বা টাকার অংক হিসেবে করলে হবে না; ফ্রিল্যান্সিং পেশায় টাকার আগে প্রয়োজন আপনার দক্ষতা, পেশাদারিত্ব প্রদর্শন। দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলে কোনদিনই আপনার কাজের হবে না।
ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সময়পোযোগী এবং সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। এসব কাজ করতে গিয়ে নিজেকে একাকী মনে হতে পারে। আপনার জীবনযাপন অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা মনে হবে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রেগুলার সম্পর্ক রাখা কঠিন হতে পারে; তবে চাইলে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা অসম্ভব কিছু নয়। দিনে কিংবা রাতে কাজ করতে হতে পারে এবং এভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। সর্বপরী ফ্রিল্যান্সিং এর এতদ বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা সহ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সময়পোযোগী পণ্য বেছে নিয়ে সঠিক সিন্ধান্তটি ওপর আপনাকে কাজটি ধৈয্যসহকারে শুরু করতে হবে।
লুই সাংমা, প্যারিস, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী।