আমি সবার বই পাবলিশ করতে চাই না। বা, সব বই পাবলিশ করতে চাই না। চেতনে বা অবচেতনে যেভাবেই হোক একটা অস্পষ্ট লক্ষ্য আমার ভেতরে রয়ে গেছে। আমার কেন জানি মনে হয়, আমরা অনেক পিছিয়ে। নিজেরাই নিজেদেরকে চিনি না, জানি না। না চিনলে, না জানলে আমাদের ভেতর থেকে কিভাবে ভাল কিছু, উৎকৃষ্ট কিছু বের হবে। আমাদের মাথা কিভাবে উঁচু হবে।
একবার কয়েকজন বন্ধু মিলে ‘মৃদুস্বর’ নামে একটা সাহিত্য পত্রিকা বের করেছিলাম। এটা এ শতাব্দীর শুরুর দিকে, ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে। তখন থেকে লেখক হেমার্সন হাদিমার সাথে আমার পরিচয়। উনি নিয়মিত ‘গারোদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ’ শিরোনামে লিখতেন। উনি চেয়েছিলেন উনার লেখাগুলো বই করে দিই। আমিও রাজি ছিলাম। পান্ডুলিপি তৈরি করে উনি আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু বই করা হচ্ছিল না। অনেকদিন এভাবে পার হতে হতে অনেক বছরও যখন পার হয়ে গেল, পনের বছর বাদে এসে ‘চেঙো মিজাও’ নামে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে বইটি বের করে দিই। এর আগে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে সদ্য প্রয়াত থমাস স্নালের অনুবাদে জবাং ডি. মারাকের ‘অব দি গারো ল’ বইটি বাংলায় ‘গারো আইন’ নামে পাবলিশ করে দিই, সাথে তাপস্রাং সরোজ ম্রং-এর ‘সোনারাম আর. সাংমা সাগিনি কাৎথারাং’ বইটিও পাবলিশ করে দিই।
দৃশ্যত বই পাবলিশ করা এভাবেই শুরু। যদিও এভাবে বই পাবলিশ করার কোন ইচ্ছে আমার ভেতরে ছিল না। কিন্তু হেমার্সন হাদিমাকে কথা দিয়েছিলাম, আর এ বিষয়টা আমার ভেতরে সবসময় ছিল। আর আমি চেয়েছিলাম সবকিছু আগে গুছিয়ে নিই। এখন তো মনে হয়, কিছু করার জন্য কিছু প্রস্তুতি সবসময় দরকার, আর ওই প্রস্তুতিই আমি আমার অজ্ঞাতে নিয়েছিলাম। যদিও এখনও আমি প্রস্তুতির মধ্যেই আছি।
আর এভাবে বই পাবলিশ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, আমি সবার বই পাবলিশ করতে চাই না। বা, সব বই পাবলিশ করতে চাই না। চেতনে বা অবচেতনে যেভাবেই হোক একটা অস্পষ্ট লক্ষ্য আমার ভেতরে রয়ে গেছে। আমার কেন জানি মনে হয়, আমরা অনেক পিছিয়ে। নিজেরাই নিজেদেরকে চিনি না, জানি না। না চিনলে, না জানলে আমাদের ভেতর থেকে কিভাবে ভাল কিছু, উৎকৃষ্ট কিছু বের হবে। আমাদের মাথা কিভাবে উঁচু হবে।
এই যে অস্পষ্ট লক্ষ্য, এটাকে সামনে এগিয়ে নিতে এখন পর্যন্ত আমার ভাষায় গারোদের জন্য ৭টি বই পাবলিশ করে দিয়েছি। এর মধ্যে শেষোক্ত বইটি গারোদের পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে লেখা ‘ডিককি বানডি’। কয়েকদিনের মধ্যে বের হবে গারোদের গীতি নাট্য নিয়ে লেখা ‘সেরেজিং’। এ দু’টি বই-ই লিখে দিয়েছেন তর্পণ ঘাগ্রা। উনার আরেকটি ‘গিৎচাম কাৎথা’ বইও ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে পাবলিশ করে দিয়েছি। এ ছাড়াও পাবলিশ করেছি মনীন্দ্রনাথ মারারেক ‘গারো সংস্কৃতি’, বিভা ম্রং – এর ‘গারোদের উৎসবাদি ও জীবনবোধ’।
দাকবেওয়াল প্রকাশনীর প্রকাশিত বইয়ের তালিকা-
১. গারো আইন ● জবাং ডি. মারাক ● অনুবাদ থমাস স্নাল ● মূল্য ২০০.০০ টাকা
২. সোনারাম আর সাংমা সাগিনি কাৎথারাং ● তাপস্রাং সরোজ ম্রং ● মূল্য ১৩৫.০০ টাকা
৩. গারো সংস্কৃতি ● মনীন্দ্রনাথ মারাক ● মূল্য ২০০.০০ টাকা
৪. গারোদের উৎসবাদি ও জীবনবোধ ● বিভা ম্রং ● মূল্য ২০০.০০ টাকা
৫. চেঙো মিজাও ● হেমার্সন হাদিমা ● মূল্য ২০০.০০ টাকা
৬. গিৎচাম কাৎথা ● তর্পণ ঘাগ্রা ● মূল্য ২৪০.০০ টাকা
৭. ডিককি বানডি ● তর্পণ ঘাগ্রা ● মূল্য ৩৪০.০০ টাকা
৮. সেরেজিং ● তর্পণ ঘাগ্রা ● মূল্য ২১০.০০ টাকা
আগ্রহী পাঠকেরা বইগুলো ‘গারো কালচারাল একাডেমী, ঢাকা’থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। যোগাযোগের নম্বর- সাইলেন রিছিল (পরিচালক, গারো কালচারাল একাডেমী) ০১৭৩৩৫৭৭২০৪। অথবা প্রকাশকের সাথে যোগাযোগ করেও সংগ্রহ করতে পারবেন।