যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজের চেয়ারে থাকার আর মাত্র ১০ দিন মেয়াদ আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু এই ১০ দিন পার করাই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা আছে- হয় তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে, নইলে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে।
গত ৬ জানুয়ারী নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশন বসে। ওই সময় ‘ট্রাম্পের আহ্বানে’ সেখানে হামলা চালায় তাঁর কয়েক হাজার সমর্থক। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পাশাপাশি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তান্ডব, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুর চালায় তাঁরা। আর সে ঘটনায় নিহত হয় পাঁচজন।
মূলত বুধবারের ওই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে তোপের মুখে পড়েন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি অনেক রিপবালিকান নেতাও চাইছেন, ২০ জানুয়ারির আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানো হোক। এ দাবির পক্ষে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি ট্রাম্পকে সরাতে সংবিধানের ২৫ সংশোধনী প্রয়োগ করতে ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। আর পদত্যাগ না করলে ট্রাম্প অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন পেলোসি। গতকাল তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি দু-এক দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা না ছাড়েন, তাহলে কংগ্রেস নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নেবে। মানসিক ভারসাম্যহীন এই প্রেসিডেন্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি যাতে আরো ভয়াবহ না হয়, সে জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই আমরা করব।’
এদিকে সোস্যাল মিডিয়ায় ‘সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঝুঁকি’ থাকায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি যেসব টুইট করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়াতে পারে বলেই টুইটার এমন ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। টুইটার কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে ট্রাম্পের করা টুইটগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই অ্যাকাউন্ট বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ফেসবুক আগেই ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।
শুধু তাই নয়, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ট্রাম্প যেকোনো সময় শত্রুপক্ষের ওপর পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। আর ট্রাম্প যাতে এমনটা না করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে মার্কিন সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন পেলোসি। যদিও স্পিকারকে জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান মার্ক মিলি জানিয়েছেন, সংবিধানে একমাত্র প্রেসিডেন্টকেই পরমাণু হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিলে অন্যরা তা মানতে বাধ্য। মোদ্দা কথা সকলের ভয় আসলে ওখানেই।