আ.বিমা টাইমস, বান্দরবান: আজ আবারও বান্দরবানের ম্রো জনগোষ্ঠী চিম্বুকের নাইতং পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ফের বিক্ষোভে ফুসে উঠেছে। প্রতিবাদ ও লং মার্চ কর্মসূচীটি চিম্বুক থেকে বান্দরবান শহর অভিমুখে ‘আমার ভূমি, আমার মা, ‘আমাদের ভূমি, আমাদের অধিকার, তোমাদের নয়, ‘তোমাদের পর্যটন ব্যবসা, আমাদের মরণ দশা, ‘আমাদের জীবিকার উৎসে অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ কর’ইত্যাদি লেখা বাহারি ব্যানার, ফেসটুনে সাজিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে সেখানকার সকল আদিবাসী জনতা।
ছবি: প্রতিবাদ ও লং মার্চ, বান্দরবান
সেখানে হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে লং মার্চটি সকাল ১০টায় চিম্বুক থেকে বান্দরবান জেলা সদর অভিমুখে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ ২২ কিলোমিটর পথ পায়ে হেটে লং মার্চ কর্মসূচী পালন করে। সেখানকার ম্রো জাতিগোষ্ঠা ছাড়াও শত শত আদিবাসী জনতা লং মার্চে অংশ গ্রহণ করে সংহতি প্রকাশ করেছে। লং মার্চে পুলিশী বাধাঁ উপেক্ষা করেও লং মার্চ কর্মসূচীটি সফলভাবে পালন করেন।
পদযাত্রা শেষে লং মার্চকারীরা জেলা শহরের রাজার মাঠে অবস্থান করে আন্দোলনকারীরা দাবি জানান, যদি সেখান থেকে তাঁরা আগামী দশ দিনের মধ্যে হোটেল ও বিনোদন পার্ক নির্মাণ বন্ধ না করে তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণাও দেয়া হবে বলে জানান।
ছবি: প্রতিবাদ ও লং মার্চ, বান্দরবান
চিম্বুকের পাহাড়ে দেশীয় সিকদার গ্রুপ সেনা কল্যাণ ট্রাস্টকে সঙ্গী করে হোটেল ম্যারিয়েট ও পর্যটন স্থাপনার নির্মাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরসঙ্গী ম্যারিয়েট হোটেল এণ্ড রিসোর্টস স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় আন্তর্জাতিক সংগঠনের চাপে তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে। ম্যারিয়েটের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের সম্মতি ছাড়াই এবং কোন ধরণের চুক্তি ব্যতিরেকে সিকদার গ্রুপ তাদের নাম, ব্যান্ড/ব্যান্ডিং লগো ব্যবহার করেছে। তাঁরা বেআইনীভাবে দখলকৃত জমি এবং এর দ্বারা কোন জনগোষ্ঠীর বা ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনার বিষয়ে অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।
আদিবাসীদের ভূমিতে এ ধরণের হোটেল-পর্যটন নির্মাণে চিম্বুকের পাহাড়ে ১ হাজার একর জুম জমি দখলে নিয়ে হোটেল ও পর্যটন হলে ৭০ থেকে ১১৬টি ম্রো পাড়া সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পাড়াগুলোর মধ্যে ১০ হাজারের মতো জুমচাষির উদ্বাস্তু হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিকদার গ্রুপ সেনা কল্যাণ ট্রাস্টকে সঙ্গে নিয়ে হোটেল ম্যারিয়েট ও পর্যটন স্থাপনার নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগেও ম্রো জনগোষ্ঠী একই দাবিতে ঐতিহ্যবাহী বাদ্য প্লুং বাজিয়ে বিশাল কালচারাল শোডাউন পারিচালনা করেছেন। এমন প্রতিবাদ ও গণ বিক্ষোভের পরও প্রশাসন এখনো নীরব এবং পর্যটন স্থাপনা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।