পেশি শক্তির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা ভালো। আমিও মনে প্রাণে ধারণ করি এবং চর্চা করতে ভালোবাসি। তবে বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা, বুদ্ধিজীবীর পেশা ব্যক্তি স্বার্থের কাছে জলজ্যান্ত সংগঠনের ইতিহাস প্রবন্ধে এমন মৌনতা জাতির কাছে কতটা লজ্জাস্কর একজন সচেতন নাগরিক তা ভালো বুঝবেন। আজকাল গারো জাতিসত্তার কিছু ব্যক্তি এমন স্থুল বুদ্ধিবেশ্যায় প্রবল যার নাম উল্লেখ করলে আপনি মাথায় তাস্কি খাবেন। এহেন এমন মহান নাম উল্লেখ করে মসির লেখনি দীর্ঘায়ু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং সেই ভালো হবে আপনারা কষ্ট করে এবং নিজ দায়িত্বে খুঁজে পড়ে নিন, ব্যক্তি সম্পর্কে স্ক্রীনিং করে সত্য বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখুন। সে আমার বন্ধু স্বজন, শুভাকাঙ্খি, প্রতিবেশি হতে পারে। তবে কারো সম্পর্কে সত্য কিছু লিখতে, বা বলতে; সে যেই হোক বিন্দুমাত্র দ্বিধা করি না, হাত পা কাপে না আমার। কারন এমন বৈশিষ্ট্য আমার অতীতেও ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি সত্যের সঙ্গে সন্ধি করেছি আজীবন। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আঙ্গিকে কথাগুলো লিখতে বাধ্য হচ্ছি; কারণ একটি সংগঠনের ইতিহাস, জাতির দলিল বলে কথা। মোদ্দা কথা, এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটুক, জাতি কিংবা সংগঠনের ইতিহাস বিকৃত না হোক। ব্যক্তিকে খাটো করা লেখার উদ্দেশ্য নয়, বরং মানুষ সত্যকে জানুক সেটায় আজকের প্রতিবাদের মূল এবং মূখ্য বিষয়।

একজন সুষ্ঠু সবল, ধ্যানী জ্ঞানী মানুষের কাছে জাতির একটি মাত্র চাওয়া থাকে নিষ্কন্টক কিছু উপহার, যা জনজাতির কল্যাণে আসে। কিন্ত সেই কথিত জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবীরা আপনাকে ‍দুয়েকটি কাজে আপাদমস্তক মোহিত করে, এরপর বুদ্ধিজীবীর লেবাস ধরে সে জাতির হাজার হাজার স্বার্থে সেই আপনি আবার জাতির সঙ্গে স্থুলভাবে প্রতারণা, বেঈমানী, কুলাঙ্গার, দালালী করে সেটা আপনি/আপনারা না বুঝলেও কিছু মানুষ ঠিকই বুঝতে পারে। ব্যক্তির অপকর্ম, অকল্যাণকর জেনেও লোক লজ্জায় তাকে ফেলতে চায় না। ঝামেলা মনে করে। নিজে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যেমন কিছু দল, গোষ্ঠি সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করার পায়তারা করে, মিথ্যো, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বহর বাড়াচ্ছে। এমন কর্মকান্ড শুধুমাত্র ওদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন গারো জাতিসত্তার মধ্যেও প্রবাহমান এবং বাস্তবে প্রতীয়মান। ক্ষমতায় থাকলে বিচার যায় হোক, তাল গাছ আমার এমন অবস্থা। সবার অর্জনকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, পরিবারে পরিনত করে ফেলে। ভাবেন উনিই সব গোলের গোল দাতা। একজন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে, জাতি গড়ার বটবৃক্ষ হিসেবে আজিয়া সংঠনের যে মিথ্যে তথ্য পরিবেশন এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ কল্পে প্রবন্ধ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা জ্ঞাপন করি একজন আজিয়ার ফাউন্ডার সদস্য হিসেবে। কারন একজন ফাউন্ডারকে তালিকা থেকে স্বজ্ঞানে বাদ দেয়া স্থুল বুদ্ধিবেশ্যারই নামান্তর।

আজিয়া সংগঠনের সংক্ষিপ্ত তথ্য_ সংগঠনটি মধুপুরে স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে। আজিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক, যথা- জর্জ নকরেক, প্রশান্ত চিরান, রজিতা চিরান, রেখা নকরেক, প্রশান্ত রুগা, লুই চিরান এবং বাবুল ডি নকরেক আরও কিছু বন্ধু… (আরও তথ্য পেতে আজিয়ার ফেইসবুক পেইজটি দেখুন)। আজিয়া সংগঠনের সংবিধান রচনা করেন জর্জ নকরেক এবং লগো ডিজাইন করেন লুই চিরান। জর্জ নকরেক এবং লুই চিরান শুধু সংঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নয়; এঁরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন দীর্ঘ সময়। আজিয়া মূলত টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ (কিছু অংশ) গাজিপুর, জামালপুর (কিছু অংশ) ৭টি উপজেলায় বা থানায় যেমন মধুপুর, ধনবাড়ী, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, শ্রীপুর, ফুলবাড়ীয়া এবং জামালপুর ‘We need to change’ শ্লোগানটির ওপর ভর করে সংগঠনটি গঠিত হয়। কিন্ত অত্যন্ত দু:খের সঙ্গে বলতে হয় সংগঠনটি মূল ধারায় নেই। সংগঠনটিকে কিছু ব্যক্তি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে চলেছে দীর্ঘকাল। ফলে সংগঠনটি সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে আমাদের চোখের সামনেই।

‘আজিয়া হাঁটি হাঁটি পা পা করে ২৪ বছরে পা রাখল’ এবং থকবিরিম নিউজে ২৯ অক্টোবর ২০২০ প্রকাশিত তথ্য আজিয়ার মূলসুরে সাংঘর্ষিক এবং অধিকাংশই ভুল তথ্য।

গারো জাতি সত্তার আরও অনেক ইতিহাস এমন ব্যক্তি স্বার্থ অভিলাষী, বুদ্ধিবেশ্যাদের কাছে সঠিক ইতিহাস পাল্টানো নস্যি ব্যাপার হতে কতক্ষণ!