ব্লগিং ধারণা প্রায় অনেকের মধ্যে অনুপস্থিত। থাকলেও কারোর মতে ব্লগিং বলতে ধর্মীয় বিষয় যে বা যারা  লেখালেখি করে বা সে বিষয়বস্তু নিয়ে লেখে তাদের লেখাকে ব্লগিং বুঝিয়ে থাকেন। আসলে কিন্ত তা সঠিক নয়। ব্লগিং যেকোন বিষয় হতে পারে। আর যারা লেখেন তাদেরকে ব্লগার বলি।

ব্লগিং কাকে বলে ?

ব্লগার সম্পর্কে আর একটু যদি গুচ্ছিয়ে বলি, ব্লগিং হলো যা লিখতে ইচ্ছা করে সেগুলো সহজ ভাষায়, গুছিয়ে প্রকাশ করা। এহেন প্রচলিত ধারায় ব্লগিং বলতে একটি বিষয় নির্বাচন করে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কিংবা পর্যালোচনা করা ও নিজের সুস্পষ্ট মতামত দেয়াকে বোঝানো হয়।

ব্লগিং এর শুরুটা কেমন ছিল ?

বাংলাদেশে ব্লগিং এর শুরুটা কিন্তু বেশ ঈর্ষণীয়। অর্থাৎ ব্লগিং বিষয়টা অন্যচোখে দেখতো। ব্লগিং শুরুটা বলতে গলে বিগত দশকে সামহোয়্যারইন ব্লগ, সচলায়তন, মুক্তমনা ইত্যাদি ব্লগিং প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে অনেক লেখক বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে নিজস্ব ব্লগিং ব্যবস্থপনা অথবা কোথাওবা পেইড ব্লগার হিসেবে নিজেকে নিযুক্ত করেন।

ব্লগিং থেকে আয়, বা মনিটাইজড ব্লগিং

শুরুর দিকের ব্লগাররা মূলত নিজেদের আগ্রহ থেকেই লিখতেন। ব্লগিং থেকে আয় করার ভাবনা ছিল না বা আয় করার কোন তেমন কোন সুব্যবস্থাও ছিল না। কিন্তু এখনকার সময়ে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে ব্লগিং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মনিটাইজড।

মোদ্দা কথা, বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক ব্লগিংয়েরই বেশি প্রচলন। কারণ বিষয়ভিত্তিক ব্লগিং এর পাঠক তুলনামুলকভাবে বেশি থাকে। যেমন, একটি ব্লগসাইটে অনেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়তে আসে, অনেকে আবার হয়তো চাইবে ফিকশনে ডুবে থাকতে।

আপনার ব্লগের বিষয় সে যাই হোক না কেন, নিয়মিত লিখতে থাকলে এবং লেখার মান ভাল হলে খুব সহজেই আপনার একটা ডেডিকেটেড পাঠক শ্রেণী গড়ে উঠবে। তখন সাইটের নিয়ম অনুযায়ী ভিউয়ারশিপ বা পেইড কন্টেন্টের মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারবেন।

স্ক্রিপ্ট রাইটিং বা স্ক্রিপ্ট রাইটার কারা ?

ব্লগিং আর স্ক্রিপ্ট রাইটিং দুটো কাজই সৃজনশীল। আপনার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকলে কনটেন্ট রাইটার অথবা স্ক্রিপ্ট রাইটার হওয়া দুরহ ব্যাপার। ব্লগার এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার হতে গেলে সৃজনশীলতা একটি প্রথম পূর্বশর্ত। তবে দুটোর বিষয়বস্তু, বিশ্লেষণ বৈশিষ্ট্য আলাদা।

স্ক্রিপ্ট রাইটিং কি ?

আপনার সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলার, ভেতরের গল্পকারকে তুলে আনা প্রয়োজন। ফলে আপনার কন্টেক্সট অনুযায়ী গল্প সাজানোর মোক্ষম জায়গা হল স্ক্রিপ্ট রাইটিং। কোন পাঠ্য বস্তুকে ভিজ্যুয়ালে রূপান্তর করার নির্দেশনাকেই মূলত স্ক্রিপ্ট বলা হয়। নাটক, সিনেমা বা বিজ্ঞাপন যাই হোক না কেন স্ক্রিপ্ট হলো একটি কঙ্কাল। এ কঙ্কালকে কেন্দ্র করেই শরীর বাকি অঙ্গ অর্থাৎ শুটিং, এডিটিং ইত্যাদি এলিমেন্ট গুলো কাজ করে থাকে।

স্ক্রিপ্টের ধরণ কয়টি ?

স্ক্রিপ্ট মূলত দুধরনের হয়; এক যেখানে গল্প বা বিষয় আপনাকে আগেই দেয়া থাকবে, আর দ্বিতীয়টি হলো যেখানে আপনি নিজের সম্পূর্ণ স্বাধীনতায় গল্প সাজিয়ে স্ক্রিপ্টে রূপান্তর করতে পারবেন।

এছাড়া স্ক্রিপ্ট রাইটিং বাকি সব ধরণের কন্টেন্ট রাইটিং থেকে অনেকখানি আলাদা। কারণ এখানে শুধু গল্প বলে দিলেই লেখকের কাজটা শেষ হয়ে যায় না। বরং গল্পের চরিত্র, তারা কী বলছে, কিভাবে নড়ছে, এই পুরো ঘটনার সময়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে কী হচ্ছে  এসব কিছু স্ক্রিপ্টে উল্লেখ করতে হবে।

এহেন শেষে যে কথা না বললেই নয়, ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটার হওয়ার প্রথম শর্ত হল লেখার পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ থিংকিং, চিন্তাশীল এবং ভালো গল্প বলতে পারার দক্ষতাও থাকতে হবে। আর এরপর আপনার জানতে হবে একটা গল্পের লেখা থেকে চিত্রে ফুটে ওঠার পুরো প্রক্রিয়াটি। বাকি নির্দেশনাগুলো ভুল বা ঠিকমত না দিতে পারলে শুধু গল্পটাই সুন্দর করে বলা হবে, কিন্তু স্ক্রিপ্টটা হবে দূর্বল হবে। ফলে উপরে আলোচ্য পুরো বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রেখে কাজগুলো সম্পাদন করতে হবে।

লুই সাংমা, প্যারিস, ফ্রান্স।

ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী