নিজস্ব প্রতিবেদক: ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা আর ধ্যান-প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো বারমারী ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থোৎসব। দুই দিনব্যাপী হাজার হাজার খ্রীস্টভক্ত মা মারীয়ার মূর্তির পাদদেশে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করেছেন। কেউ কেউ মানত রেখেছেন আবার কেউ মানত পূরণ হওয়ায় মারীয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ফাতেমা রানী মা মারীয়ার মূর্তি, বারোমারী, শেরপুর, নালিতাবাড়ি।
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সাধু লিও’র ধর্মপল্লী বারোমারীতে ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পাপস্বীকার বা মিলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়। বিকাল ৪টায় খ্রীস্টযাগ উৎসর্গ করেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি। পরে রাত ৮টায় আলোকশোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হাতে মোমবাতি নিয়ে বিশ্বশান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন খ্রীস্টভক্তগণ। খ্রীস্টযাগের পরে খ্রীস্টবিশ্বাসীরা মধ্যরাত পর্যন্ত ধ্যান-প্রার্থনা করেন।
২৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮টায় পাহাড়ি পথে হেটে হেটে যীশুর যাতনা ভোগের কথা স্মরণ করেন। সকাল ১০টায় মহা-খ্রীস্টযাগ উৎসর্গ করেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও সি.এস.সি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ পনেন পল কুবি সি.এস.সি এবং ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের অন্যান্য যাজকবৃন্দ। কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও সি.এস.সি এই বছরের তীর্থোৎসবের মূলসুর ‘মিলন ও ভ্রাতৃসমাজ গঠনে ফাতেমা রাণী মা মারীয়া’ এর ওপর আলোচনা করেন। কার্ডিনাল প্যাট্রিক বিশ্বভ্রাতৃত্ব গঠনে মা মারীয়ার আশির্বাদ ও অবদানের জন্য মা মারীয়াকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ২০০০ খ্রীস্টাব্দের জুবিলী বর্ষের তিন বছরের প্রস্তুতির শুরুতে ১৯৯৭ খ্রীস্টাব্দে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের তৎকালীন ধর্মপাল বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ বারোমারীতে ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থস্থান ঘোষণা করেন। ১৯৯৭ খ্রীস্টাব্দে সাড়ম্বরে প্রথমবারের মতো তীর্থোৎসব উদযাপন শুরু হয়। সে সময় থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে তীর্থ উদযাপন হয়ে আসছে। এই তীর্থস্থান এখন নিজ ধর্মপ্রদেশের গন্ডি পেরিয়ে অন্য ধর্মপ্রদেশের পূণ্যার্থীদের আধ্যাত্মিক ক্ষুধাও পূরণ করছে।