তেলে ভাজা, মুচমুচে ভাজা বা ভাজাপোড়া খাবার কে না ভালোবাসে ? বাঙালি খাবারে শুধু নয়; ভিন্ন দেশী খাবারেও তেলে ভাজা ম্যানুতে অন্যরকম কদর রয়েছে। অর্থাৎ সবার কাছে তেলে ভাজা খাবার স্বাদে একটা অন্যরকমই ব্যাপার সেপ্যার থাকে। ঘরে কিংবা রেস্টুরেন্ট ফিশ ফ্রাই, ফেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, পিঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, আলুর চপ আরও কত কী ! এসবের নাম শুনলেই জিবে জল এসে যায়। মুচমুচে ভাজা ম্যানুতে চা কিংবা হট ড্রিংক্সের আড্ডা জমে আরও ভালো।

ভাজাপোড়া খাবার সামনে এলে পেট ভরে না খেয়ে উঠতে পারেন না, তাই না ? হ্যাঁ পরই শুরু হয় শরীরে অস্বস্তি, আর যত বিপত্তি। এগুলো রেগুলার খেলে এর ফলে আপনার শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এ খাবার খুব মুখরোচক হলেও এগুলি যত সম্ভব কম খাওয়া যায়, ততই শরীরের জন্য মঙ্গল। আর যদি একান্তই খেতে হয় তাহলে মেনে চলুন নিচের কিছু নিয়মগুলো-

১) ভাজাপোড়া খাওয়ার ৩০ মিনিট পর হাল্কা গরম পানী খান। কুসুম গরম জল খেলে তাড়াতাড়ি খাবার হজম হয়ে যাবে। এর ফলে পেটে স্বস্তিবোধ করবেন।

২) ভাজাপোড়া খাওয়ার পর শরীর ভাল রাখতে ডিটক্স ওয়াটার বা সোডা ওয়াটার প্রয়োজন। এই ডিটক্স ওয়াটার আর কিছুই নয়, লেবুর জল। এটি খেলে ভাজা খাওয়ার পর শরীরে যে দূষিত পদার্থ জমে, তা বেরিয়ে যাবে।

৩) এসব ভারী খাবার খাওয়ার বিশ মিনিট পর হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হবে, পাশাপাশি পেটে খিদেও বাড়বে। এ ছাড়া শরীরের ওজন কমাতে তো হাঁটার জুড়ি নেই।

৪) যে কোনও ভারী খাবার খেয়ে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিক খাবার খান। সবচেয়ে ভাল উপকার পাবেন দই বা দই জাতীয় খাবার খেলে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। খাবারও জলদি খাবার হজম করে ফেলে।

৫) ভাজাপোড়া খেলে এর ঠিক এক ঘণ্টা পর ফল খেতে পারেন। এতে হজমশক্তি বাড়বে, এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমবে।

৬) ডুবো তেলে ভাজা খাবারটা টিস্যু পেপারের ওপর রাখুন। এতে খাবারের গায়ে লেগে থাকা ট্রান্স ফ্যাট অনেকটা চলে যাবে।

ভারী খাবার, ভাজাপোড়া খাবারের পর বেশি করে পানি পান করুন। ভাজাপোড়া খাবারের সঙ্গে সবসময় সালাত পাতা, ফল ও শাক-সব্জির পরিমাণ বেশি রাখুন।

লুই সাংমা, প্যারিস, ফ্রান্স
ওয়েভপেজ ডেভেলপার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার, ব্লগার এবং
সাহিত্য কর্মী  lchiran76@gmail.com