আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে গারোসহ অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের পৈতৃক ভূমি হতে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের নামে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের মেঘালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১) সকালে মেঘালয় রাজ্যের অন্তর্গত তুরার ওয়েস্ট গারো হিলসের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) অফিসের সামনে গারো ল্যান্ড স্টেট মুভমেন্ট (জিএসএমসি) নামের একটি সংগঠন প্রতিবাদের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের আদিবাসী অঞ্চল জুড়ে উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল তা এখন ভারতের পশ্চিম মেঘালয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ গারো অধ্যুষিত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে জিএসএমসি’র চেয়ারম্যান নিকমন সি মারাক বলেছেন, “গারোরা দেশে থাকুক না কেন, জাতিসত্বা এক, এবং আমাদের রক্ত এক। আমরা চাই যে, বাংলাদেশ ও ভারত সরকার আমাদের প্রতিবাদ শুনুক, সে দেশে স্বজাতি (গারো) ভাইদের বিরুদ্ধে কী ঘটছে।” এ সময় সেখানে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ধরে কয়েক ডজন জিএসএমসি সমর্থক বাংলাদেশে উচ্ছেদের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।

জিএসএমসির বিক্ষোভ

ছবি: জিএসএমসির বিক্ষোভ, ভারতের মেঘালয়

আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে জেনেছি- বনবিভাগের উচ্ছেদ আদেশের পর, মধুপুরের বনাঞ্চলে বসবাসকারী গারোদের অযথা কষ্ট ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের পূর্বপুরুষদের বসতভিটে ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য হুমকী ও অন্যান্য ধরণের হয়রানির বিষয়ে প্রতিবেদনগুলি প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে।“বাংলাদেশ বন বিভাগের উচ্ছেদ নোটিশের বিরোধিতা করি এবং আমরা মধুপুরের গারো আদিবাসী জনগণের সাথে সংহতি জানাই। মধুপুরে গারো ও অন্যান্য আদিবাসীগোষ্ঠী যারা প্রজন্ম ধরে তাঁদের জমিতে বসবাস করে আসছে, তাহলে তাঁরা কোথায় অবৈধ” প্রশ্ন করে বলেন জিএসএমসি।

জিএসএমসির নিকমন মারাক আরও উল্লেখ করে বলেছেন,“গারোরা এই জমিটি তাঁদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এবং প্রাচীনকাল থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে গারো বসতি স্থাপনকারীদের স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এটি উত্থাপিত হবে।”

এছাড়াও মেঘালয় রাজ্যের চীফ মিনিস্টার কনরাড সাংমার কাছে জিএসএমসি’র দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন- গারো আদিবাসী, উপজাতি যারা শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। সুতরাং মধুপুরের গারো এবং অন্যান্য আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি  জাতিসংঘের ঘোষণা পত্রের মধ্যেই (ইউএনডিআরআইপি) পড়েছে।

মেঘালয় রাজ্যের চীফ মিনিস্টার (সিএম) কনরাড কে. সাংমাকে মধুপুরের গারোদের সমস্যার বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিবেচনা পূর্বক সদয় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। এর পাশপাশি জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণা পত্র বলে কীভাবে মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠীর অধিকার বাস্তবায়ন করা যায় সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে বিক্ষোভকারীরা সে দেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার নিয়ে সম্প্রতি সরকারি পদক্ষেপকে ভূমি উদ্ধারের নামে আদিবাসী উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র দাবি করে গত ২৫ জানুয়ারি মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে (আনারস চত্তর) মানববন্ধন করে এবং ইউএনওর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ভূমির অধিকার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ ২৩টি সংগঠনের সংহতিতে ঢাকা শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৩১ জানুয়ারী (রোববার ২০২১) মধুপুরের জলছত্র ফুটবল মাঠে এক বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মধুপুর গড়াঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক। এতে কয়েক হাজার গারো নারী-পুরুষের সাথে বাঙালিরাও অংশ নেন।

বাংলাদেশের আদিবাসী উচ্ছেদ পরিস্থিতি নিয়ে কেবল ভারতে নয়, ইউরোপ এবং আমেরিকা পর্যন্ত অনেক সংশ্লিষ্ট গারোদের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এমন পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সূত্র:সিটি