আ.বিমা টাইমস, মধুপুর: আজ মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল ২০২১)  জলছত্র মিশন অন্তর্গত, জলই গ্রামে “প্রভু যীশুর পবিত্র মুখচ্ছবি ক্যাথলিক গীর্জা” নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করা হয় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায়। নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্যারিস প্রধান রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি এবং রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি (সহকারী যাজক, জলছত্র প্যারিস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিন গ্রামের উপপ্যারিস চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ছবি: নির্মাণ কাজ উদ্বোধন , রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি 

নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের আগে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রভু পরমেশ্বরের কাছে কৃপা আশীর্বাদ যাচনা করেন। যীশুর মুখচ্ছবির প্রতিকৃতিনুসারে এ নতুন গীর্জা ঘরের নামকরণ করা হয় “যীশুর মুখচ্ছবি ক্যাথলিক গীর্জা” । উদ্বোধনকালে ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করতে বিশ্বাসী আপনাদের সকলের উদার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন জলছত্র প্যারিসের উদ্যোগে যীশু খ্রীষ্টের মুখচ্ছবি দর্শনের পবিত্র স্থান ‘জলই তীর্থ’ স্থানে নতুন গীর্জা ঘর নির্মাণে গ্রায়রা, জলই এবং টেলকী এই তিনটি উপ-প্যারিসের (গ্রাম) বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে ১৭ সদস্যের একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জলই তীর্থ স্থানে গীর্জা ঘর নির্মাণ উদ্বোধন , রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি

পবিত্র ঘর নির্মাণে যে ব্যয় ধরা হয়েছে এর প্রায় আশি শতাংশ দাতা সংস্থা বহন করলেও আরও দুই লক্ষ টাকা ঘাটতি রয়েছে বলে জানান। এ মুহুর্তে দেশে করোনা প্রকোপের দরুন তিন গ্রামের এলাকাবাসীর পক্ষে এই দুই লক্ষ যোগাড় করা অসম্ভব, বিধায় সমাজের বিত্তবান, সুহৃদ, সংস্কৃতিমনা এবং মানবতাবাদী দেশ তথা দেশের বাইরে সকলের কাছে এ নির্মাণে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসার বিনীত আহ্বান জানান নির্মাণ কমিটি। নির্মাণ কমিটি আরও জানান, আর্থিক অনুদান ছাড়াও গীর্জা ঘরের জন্য বিভিন্ন উপহার সামগ্রী যেমন সাধু সাধ্বীর মূর্তি, ঘন্টা অথবা অন্যকোন দান সামগ্রী/মানতকৃত বস্তু দেয়া যাবে, যা নতুন গির্জায় ব্যবহৃত হতে পারে।

আর্থিক অনুদান প্রদানের বিস্তারিত তথ্য:

ডেভিড চিরান (মাস্টার), কোষাধ্যক্ষ- বিকাশ নম্বর: ০১৭১২০৩৯২৬২

অথবা যে কোন তথ্যের জন্য-

রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি (প্রধান যাজক, জলছত্র প্যারিস)

রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি (সহকারী যাজক, জলছত্র প্যারিস)

উল্লেখ্য, জলছত্র ধর্মপল্লীতে ছয় বছর আগে (৮ সেপ্টম্বর ২০১৩ সালে) টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বন অধ্যুষিত টেলকী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে (গায়রা যাওয়ার পথে) জলই নামক স্থানে মেইন সড়কের ধারে একটি বটগাছে যীশুর মুখের আকার দেখার পর থেকে সেখানে তীর্থস্থলের আদলে তীর্থোৎসব পালন করে আসছে। এর পর থেকেই প্রতি বছর এখানে খ্রীষ্টিয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের তীর্থ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।