নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পালিত হচ্ছে গারোদের আদি উৎসব ‘রংচুগাল্লা’। গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার জয়নাগাছা গ্রামে প্রথম শুরু হয়। এরপর ভিন্ন ভিন্ন দিনে রংচুগাল্লা পালিত হয়েছে ধরাতি, বেরিবাইদ, বন্দরিয়া ও পোনামারি গ্রামে। এরপর গেল ৪ সেপ্টেম্বর চুনিয়া গ্রামে দুইদিনব্যাপী পালিত হয় রংচুগাল্লা উৎসব। এখনো বেশ কিছু গ্রামে উৎসব পালন করতে বাকি আছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বেদুরিয়া, পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর পীরগাছায় এই উৎসব পালন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাগুরাকুড়ি, সুবকচনা ও জালিচিরা গ্রামের রংচুগাল্লার তারিখ এখনো জানা যায় নি।
প্রতীকী ছবি, গারোদের প্রাচীন উৎসব রংচুগাল্লা
‘রংচুগাল্লা’ হলো বীজ বাছাইয়ের উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল গোলায় তোলার আগে নতুন ফসল থেকে পরবর্তী বছরের জন্য ভাল বীজ বাছাই করে জমা রাখা হয়। তাই জুম ক্ষেতের ধান কাটার সাথে সাথে রংচুগাল্লা উৎসবের আয়োজন করা হয়। গ্রামের সব বাড়িতে বীজ বাছাই হলে সং নকমা রংচুগাল্লার দিনক্ষণ ঠিক করেন। নির্ধারিত দিনে প্রথমে সং নকমা (গ্রাম প্রধান)র ঘরের মাঝখানে দু’ভাগে কচি কলা পাতা দিয়ে বেদী সাজানো হয়। তাতে নতুন ধানের চিড়া, লেবু বা লেবুর পাতা ইত্যাদি দেবতার উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য প্রস্তুত হয়ে গেলে কামালের নির্দেশে একসাথে দামা-বলথং, রাং, আদুরি, বেজে ওঠে। কামাল যথারীতি তাঁর পূজোর মন্ত্রপাঠ শুরু করে দেন। তারপর গ্রামের সবার বাড়ি গিয়ে একইভাবে ক্রিত্য পালন করে।
গারোরা খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে গারোদের নিজস্ব উৎসবগুলো বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় হারিয়ে গেছে। মধুপুরের বেশ কিছু গ্রামে স্বল্প পরিসরে হলেও এখনো এই উৎসবগুলো প্রতিবছর পালিত হয়।