ভুল নেতৃত্ব কখনো সফল হয় না। সঠিক নেতৃত্ব যদি থাকে তাহলে জাতির চাওয়া যেকোন সময় অর্জন করা সম্ভব। আমরা যদি ব্যক্তি স্বার্থ, এবং দল মতের উর্ব্ধে উঠতে পারি তাহলে জাতীয় চেতনায় জাতির স্বার্থ নিজ ভূমে স্থাপন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর যদি দল মতের উর্ব্ধে উঠতে না পারি তাহলে জাতীয় স্বার্থ ব্যক্তি স্বার্থের দাপটে বিপর্যস্ত হবেই হবে। মধুপুরের আদিবাসী ইস্যূতে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সংগঠনসহ সকল আদিবাসী জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে জেনেও এই মৌনতা কেন?
নেতৃত্বে ভেলকিবাজি না থাকলে নেতার ময়দান ফিকে লাগে। ফলে নেতৃত্বের সময় কিছু ভেলকিবাজি, কারসাজি বা মনোযোগে থাকে, থাকবে। এবং সেগুলোই মাঝে মধ্যে আমাদের চোখের সামনে আলোক ছটার মতোন অদ্ভূত পরিস্থিতে আবির্ভাব হয়। সেটি হতে পারে নেতার ব্যক্তিগত কৌশল অথবা সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের লক্ষ্য অর্জন। কিন্ত সেসব নেতৃত্বে যদি ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে জাতির জাতীয় স্বার্থকে খাটো করে দেখে, গৌণ করে ফেলে তাহলে সে প্রতিকূল মনোভাব দেখে প্রত্যেক সচেতন মানুষ বিষয়টিকে তিতিবিরক্তির চোখে দেখবেন। জনমনে ভয়, সংশয় এবং নেতাদের কর্মকাণ্ডে প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকে না এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি অদ্ভুত শোনালেও এটিই আজকের জাতীয় বা ভিলেজ পলিটিক্সে সবচেয়ে অপ্রিয় হলেও সত্য কথা।
মধুপুর গড়ে আদিবাসী ভূমে ইকোপার্ক নির্মাণসহ সম্প্রতি টেলকী নামক স্থানে আদিবাসী জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গারোদের প্রাচীন মাংরুদামে আরবোরেটাম প্রকল্পের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সে এলাকায় তোলপাড়, তালমাতাল অবস্থা চলছে। গণমাধ্যমসহ সোস্যাল মিডিয়া এবং কিছু সুধীজনের ধ্যানে জ্ঞানে বোধগম্য, অনুধাবন হয়েছে এমন কিছু যৌক্তিক মন্তব্যও গোচর হয়েছে। তাঁরা বলেছেন আদিবাসী প্রতিনিধিদের দ্বারা আরবোরেটাম প্রকল্প বাস্তবায়নে মাটি কেটে উদ্বোধন করে শুভ সূচনা করেছে শুধু তা নয়, ওসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে মধুপুর গড়ে ইকোপার্ক নির্মাণে গ্রীণ সিগন্যাল দিয়েছে। কিছু নেতৃবৃন্দের দূরদর্শিতার অভাবে আদিবাসীরা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে বলেও মন্তব্য করতে শুনেছি।
সরকারি ও বনবিভাগের নথিপত্রেও প্রতীয়মান হয় কিছু আদিবাসী নেতৃবৃন্দের দ্বারা প্রকল্পটি পূর্ব পরিকল্পিত। যার ফলে তাদেরই পরিকল্পনা অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার বিনস্ত করে যেকোন মূল্যে সেখানে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে বনবিভাগ। এহেন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বন বিভাগকে সহায়তার পাশাপাশি গোটা আদিবাসী জাতির নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জাতির স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে আদিবাসীদের সকল ন্যায্য অধিকারকে। এক তরফাভাবে বনবিভাগকে দোষারুপ করতে দেখেছি দীর্ঘদিন। সেই দোষে দোষি কিছু আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সেটিই ধারণাতীত ছিল। কি অদ্ভুত ব্যাপার ! আদিবাসীদের আন্দোলন সংগ্রামের অতীত পরিসংখ্যান দেখলে প্রশ্ন জাগে, প্রত্যাশানুযায়ী কেন আদিবাসীরা সফল হয় নি, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার এবং অন্যান্য দাবি, তাঁদের ন্যায্য অধিকার কেন আমলে নেয় নি দেশটির সরকার ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রসঙ্গক্রমে ইতিহাসে সেরা বিশ্বাসঘাতকের গল্প দিয়ে আরও বিষয়টির গভীরে আসা যাক। আভিধানিকভাবে বিশ্বাসঘাতক শব্দটি অশোভন, অদ্ভুত শোনালেও এর ব্যবহার প্রাচীন। ফলে প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহৃত শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কিংবা সংগঠনে কেউ কেউ না এ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে, প্রাচীন বৈশিষ্ট্যকে এখনো ধারণ করে। বিভিন্ন উপমহাদেশের নানা যুদ্ধ বিগ্রহ, জয় পরাজয়ের গল্প, ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই জ্ঞাত। নবাব সিরাজউদ্দৌলা বা মির্জা মুহম্মদ সিরাজ-উদ-দৌলা (১৭৩২–১৭৫৭) সামনে চলে আসে। তিনি ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব। বাংলা ইতিহাসের এক প্রতিমূর্তি। পলাশীর যুদ্ধে তাঁর পরাজয় ও মৃত্যুর পরই ভারতবর্ষে ১৯০ বছরের ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়েছিল।
সিরাজউদ্দৌলা তাঁর নানা নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে ২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাবের ক্ষমতা অর্জন করেন। তাঁর সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন। রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে…….. ইতিহাসের মোরাল অব দ্যা স্টরি কি দাঁড়ায়, আসলে কী শিক্ষা দেয় আমাদের ?
বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, রাজত্বের পথপরিক্রমায় উত্থান পতনের গল্প, ইতিহাস আমাদের চারপাশে অহরহ রয়েছে। সেখানে আপনি বিহাইন্ড দ্যা সিনে দেখবেন বিশ্বাসঘাতক, দালাল, কিছু চক্র কাজ করে, যা কিনা রাজ্য শাসনে প্রতিবন্ধকতা, রাজ্যে কিংবা রাজ্যের স্বার্থে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজাকার, দালাল, বিশ্বাসঘাতকদের কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যক্তি রাজ্যচ্যুত এমনকি ব্যক্তি জীবনও এসপার ওসপার হতে পারে। বিহাইন্ড দ্যা সিনে এমন দুস্কৃতিকারী কাজ করে বলে সমাজে কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত, সামাজিক, জাতিগোষ্ঠি তথা একটি দেশের জাতীয় স্বার্থও বিনষ্ট হতে দেখেছি, হচ্ছে এবং হতে বাধ্য। আপনারা দেখেছেন সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
এহেন আরেকটি বৈশ্বিক চলমান উদাহরণও দেয়া যেতে পারে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে নাজেহাল অবস্থা পুরো বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরে পাওয়া গেলেও, এখন পর্যন্ত হদিশ পাওয়া যায় নি এর উৎসটি কোথায়, কিভাবে এলো মানব দেহে। চীনা ল্যাবে তৈরি চীনা ভাইরাস কিনা এ প্রশ্নটি অনেক দেশের। এ নিয়ে চীন বিষয়টি অস্বীকার করলেও এটি নিয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি খুব নড়েচড়ে উঠেছেন করোনার উৎস খুঁজতে। এখনো অভিযোগের আঙ্গুল কিন্ত সোজা চীনের দিকে-ই। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এ নিয়ে তাঁর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুত একটি প্রতিবেদন পেশ করতে বলেছেন। ইতিহাস বলে মার্কিনরা যাকে ধরে তার শেষ দেখে ছাড়ে। চীন যদি মনে করে বিশ্বকে করোনায় ভয় ঢুকিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যেকে এক হাতে লুফে নিবে তাহলে চীন মহা ভুল করছেন। তারা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করেন। গোটা বিশ্বে বাণিজ্যে দাবড়িয়ে বেড়ানো আর রাজনীতির দাবাগুটি চাল এক নয় এবং সবাই তা দিতে পারে না। তেমনি আদিবাসী নেতৃত্বে ভাঙ্গন, বিভেদ, ভুলটুল বুঝিয়ে ধোঁয়াসা তৈরি করে মধুপুর গড়ে ইকোপার্কসহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এটা বোধয় এখন আর অত সহজ নয়, বা বিষয়টি আমজনতা, কাক-পক্ষিও টের পাবে না, কোনভাবে বুঝবে না এমনটা বোধয় নয়।
মধুপুর গড়কে নিয়ে যেমন আত্মগর্ব করার মতোন অনেক বিষয় আছে; তেমনি দু:খ বেদনার, হতাশারও অন্ত নেই। ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন, মধুপুর আদিবাসীদের অধিকার যখন রক্তাক্ত, শালবনের রক্তে ভেজা মাটিতে ইকোপার্ক বাস্তবায়নে কারা এই কুশীলব! সাম্প্রতিক সময়ের ইকোপার্ক এবং টেলকীর আরবোরেটাম প্রকল্প তথা আদিবাসীদের নেতৃত্ব নিয়ে স্যোসাল মিডিয়াতে পক্ষে বিপক্ষের যুক্তি পাল্টা যুক্তিরও শেষ নেই, যেমন-
গারো লেখক এবং প্রকাশক কার্তিক ঘাগ্রা তিনি তাঁর ফেবু স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ক’দিন আগে মধুপুরের এক চিরান ভাই এসেছিলেন। কিছুদিন থেকে গতকালই চলে গেলেন এবং এ ক’দিনে এক-দু’বার মধুপুর প্রসঙ্গ আলাপ করতে গিয়ে বলেওছিলাম, আপনারা তো এই বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে কার্যত কোন পদক্ষেপই নেন না, নাকি এই বিশ্বাসঘাতকেরা আপনাদের শত্রু না? এরাই কিন্তু আপনাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করে ফেলবে। শুনে তিনি বলেছিলেন, আসলে কে বা কারা এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, পদক্ষেপ নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন? এক প্রিন্স এ্যাডওয়ার্ড মাংসাং ফেসবুকে সোচ্চার, তিনিও ওই একজনের বিরুদ্ধেই, ওই একজনের নামই সারা বছর তুলে ধরেন! কেন? মধুপুরে কি আর কোন বিশ্বাসঘাতক নেই? আর কোন শত্রু নেই? তাদের নাম কেন সামনে আনা হয় না, তুলে ধরা হয় না? তাদের বিরুদ্ধে কেন লেখা হয় না? আসলে তলায়া দেখবেন, সবখানেই ‘সাম্টিং ইজ রং’। সবাই নিজেরা নিজেরাই তো।
গারো হিসেবেও সামাজিকভাবে আমাদের করণীয় ছিল। মাহারিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। এসব কি মাহারিরা করতে চায় না? নাকি করে না? শুনে অনেকটা তাচ্ছিল্য সুরে বললেন, ধূর! এসব চর্চা এখন আছেনি? তাছাড়া নকরেক মাহারিরা এ ধরনের পদক্ষেপ কোনদিনই নেবে না। মধুপুরে তারা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ, আরেক সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো মৃ। ঘুরেফিরে এই দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ আবার আত্মীয়-স্বজন। বাস্তবে নিজেদের লোকেরা যতই খারাপ করুক এই দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে মৌন অবস্থান নেবে। দেখেও দেখবে না, শুনেও শুনবে না। আর এরা চুপ মানে মোটামুটি মধুপুর চুপ। এমনি এমনি কি এই বিশ্বাসঘাতকেরা ঘাই-ঘুই করে? না করতে পারে?’
ফেবুতে আরও লিখেছেন গারো ছাত্র নেতা প্রলয় নকরেক, ‘এই নামকরণ মধুপুরের মানুষের জন্য বড় পেরেক- মধুপুরে কোন আদিবাসী জনগণের সহায়তায় জাতীয় উদ্যানের ইকোটুরিজম উন্নয়ন ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে? সেই কমিটির নামের লিস্ট জানতে চায়? এদের সাথে কোনো ছাত্র সংগঠন জড়িত আছে কিনা তাও ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। সকারের এই নাম করণে বিশালতা আমরা অনুধাবন করতে পারছি কিনা তাও জানি না? এটা শুধু আরগোরেটম বাগান করার লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কমিটি নাকি মধুপুরের ইকোপার্ক-ইকো টুরিজম বাস্তবায়ন কমিটি? এ সকল প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো খোঁজে বেড়ায়। নাকি আমরা কোদাল মারা কমিটির স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মধুপুরের মানুষের ভুমির অধিকার বিরোধিতায় লিপ্ত?
বন-প্রকৃতি না থাকলে আদিবাসীদের অস্তিত্ব থাকবে না সেটা বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানে। তাই তারা প্রাকৃতিক বন কেটে সামাজিক বনায়নের নামে বন উজাড় করে সামাজিক বনায়ন করে এরপর ঐ জমি লিজ দিয়ে নিজেদের আখের গুছায়। আমরা রয়ে যাবো যুগ যুগ ধরে বসবাস করা নিজ ভুমিতে আর তারা বদলি যাবে অনির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যে। তারা না জানে প্রাকৃতিত প্রেম না জানে আদিবাসীদের অধিকার! মধুপুরের মাটিতে কোনো নেতা যদি নিজের আখের গুছাতে নোংরা রাজনীতি খেলে আমরা এ প্রজন্মের কেউ সহ্য করবো না। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকেন।‘
গারো তরুণ লেখক দেবাশীষ ইম্মানুয়েল রেমা লিখেছেন, ‘যেখানে আভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্বার্থের খেলা, স্বার্থান্ধীর ছড়াছড়ি সেখানে স্থায়ী সমাধান তো দূর সাময়িক কোন সফলতাও দূরাশা বলেই মাঝে মাঝে হতাশ হতে হয়।
বাক্য ব্যয় করতে গেলেও সেখানে প্রাপ্তিতে থাকে ‘লজ্জা অর্জন’।
তাই বলে তো নিষ্ক্রিয় থাকা যায় না, সরব হতেই হবে কিন্তু সরব হতে গিয়ে প্রথম শর্ত পালনেই আমরা ব্যর্থ হই।
যেকোন কিছুর পূর্বশর্ত হল নিজের ত্রুটিবিচ্যুতি কাটিয়ে উঠা। যেমন, সামান্য ইনজুরিতেই একজন ক্রিকেটার বা ফুটবলার মাঠের বাইরে থাকেন। আশঙ্কামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামেন না। শরীরের কোন অঙ্গে ত্রুটি থাকতে কি যুদ্ধে নামব? না কি যুদ্ধজয় সম্ভব? আমাদেরও এই ত্রুটি বিষয়ে এক একজন পদার্থবিজ্ঞানীই হতে হবে (মনে হচ্ছে খুব বড় টার্ম নিয়ে নিলাম; দুঃখিত)। পদার্থবিজ্ঞানের খুবই মৌলিক বিষয় হল যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। সে মাপজোখের যন্ত্র হোক কি অন্য যে কোন যন্ত্রই হোক। যেমন, পরিমাপ যন্ত্রে যদি সামান্যতম যান্ত্রিক ত্রুটিও থাকে তবে আপনি মাপজোখে মারাত্মকসব ভুলগুলি করতে যাচ্ছেন। আর বড় বড় বিষয়ে কী বলব। রকেট, পারমাণবিক বোমা এসব তৈরিতে যদি যান্ত্রিক ত্রুটি রেখে দিই তাহলে কী হতে পারে?
আমরা আজকে যেসব ত্রুটির কথা বলি, যে দালালদের কথা বলি এইসব দালালরা কী প্রথম থেকেই চিহ্নিত হয় নি? তবে এতদসত্ত্বেও এরা এতোদিন চেয়ারে আসীন ছিল কীভাবে? এতোদূর পর্যন্ত আসলো কীভাবে? আমরা কি প্রথম থেকেই ভুল করে আসি নি? সমস্যা কী দালালদের না কি ভুলটা আমাদের?
আমাদের নিজেদের এই ত্রুটি নিরসনে আমরা কতোটা শিক্ষা নিয়েছি আমাদের ভুলগুলো থেকে? আমরা কি আত্মশোধনের মত বিশুদ্ধতায় দীক্ষিত হতে পারলাম? না কি আজকের দালালকে চিহ্নিত করেই তার দালালীর বিরোধিতা করেই আগামীকাল তার পরিবর্তে আরেক দালালকে আসীন করব?
নিজেরা পরিশুদ্ধ না হলে অন্যদের দায়ী করা যায় না।
ভুলটা আমাদের।
পরবর্তীতে, কুকুরের মত যদি নিজেদের বমির দিকে আবার নিজেরাই ফিরি তবে আজকের প্রতিবাদ বৃথা!’
এদিকে আরও এক গারো তরুণ নেতা লিয়াং রিছিল তিনি তাঁর ফেবু ওয়ালে লিখেছেন, ‘সত্যি খুব ব্যাথিত হই, লজ্জিত হই । যখন দেখি আমাদের কতিপয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দরা বন বিভাগের অন্যায়-অন্যায্য কার্যক্রমের পক্ষ নিয়ে কথা বলে, আদিবাসীদের ঐতিহাসিক অধিকার আন্দোলনকে পদদলিত করে বুমেরাং কৌশলী বক্তব্য দেয়। যা আমাদের এতো দিনের আন্দোলনকে প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বললে ভূল হবে না। জানিনা আমাদের নেতৃবৃন্দদের কবে বোধোদয় হবে। আমরা সবাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যস্ত থাকি। ব্যক্তি…. ইগো ধরে রাখতে গেলে যে, জাতির মান থাকে না!’
সব কথার এক কথা- কথায় আছে, ঢেকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে। ভুল নেতৃত্ব কখনো সফল হয় না। সঠিক নেতৃত্ব যদি থাকে তাহলে জাতির চাওয়া যেকোন সময় অর্জন করা সম্ভব। আমরা যদি ব্যক্তি স্বার্থ, এবং দল মতের উর্ব্ধে উঠতে পারি তাহলে জাতীয় চেতনায় জাতির স্বার্থ নিজ ভূমে স্থাপন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর যদি দল মতের উর্ব্ধে উঠতে না পারি তাহলে জাতীয় স্বার্থ ব্যক্তি স্বার্থের দাপটে বিপর্যস্ত হবে-ই হবে। মধুপুরের আদিবাসী ইস্যূতে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সংগঠনসহ সকল আদিবাসী জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে জেনেও এই মৌনতা কেন?
মধুপুরের ইকোপার্ক ইস্যূকে ঘিরে কিছু কিছু আদিবাসী সংগঠনের ভাবলেশহীন ভূমিকা, অভিভাবকের ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ নেই। নেতৃত্বে ভেদাভেদ, বিভাজন কেউ চাই না। সমীচিনও নয়। এলাকায় কে মাহারিগতভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠ বা সংখ্যা গরিষ্ঠ নয়, মাহারি অথবা কোন রাজনীনৈতিক দলের অনুসারী, মতাদর্শী বলেও কথা নয়। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, সময়ের সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে-ই নিতে হবে। সময়ের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে না পারলে, আপনার সিদ্ধান্তহীনতায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে; আজ অথবা কাল হবে।
লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং
সাংস্কৃতিক কর্মী।