টাঙ্গাইল, মধুপুর : টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন জলছত্র প্যারিসের উদ্যোগে যীশু খ্রীষ্টের মুখচ্ছবি দর্শনের পবিত্র স্থান ‘জলই তীর্থ’ স্থানে নতুন গীর্জা ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তীর্থ স্থানের জমি অধিগ্রহণসহ সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আসন্ন ইস্টার সানডের পর নির্মাণ কাজ শুরু করার নিমিত্তে আজ মঙ্গলবার গ্রায়রা, জলই এবং টেলকী এই তিনটি উপ-প্যারিসের (গ্রাম) বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে ১৭ সদস্যের একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গির্জা নির্মাণ ও উন্নয়ন কমিটিতে  রয়েছেন সভাপতি-অবীন নকরেক, সেক্রেটারী-লিয়াং রিছিল, কোষাধ্যক্ষ- ডেভিড চিরান (মাস্টার) এবং অন্যান্য সদস্য অশোক চিরান, সজীব রিছিল, সুরেন রিছিল, ‍লূসি রিছিল, মৃণালী নকরেক প্রমূখ।

জলই তীর্থ ঘর নির্মাণ

এই তীর্থ স্থানে গির্জা নির্মাণ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি অবিন নকরেক, কোষাধ্যক্ষ ডেভিড চিরান (মাস্টার) আ.বিমা টাইমসকে জানান, জলছত্র প্যারিসে প্রধান যাজক ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি মহোদয়ের আন্তরিক এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সাধারণ মানের গীর্জা ঘর নির্মাণে যে ব্যয় ধরা হয়েছে এর প্রায় আশি শতাংশ দাতা সংস্থা বহন করলেও আরও দুই লক্ষ টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ মুহুর্তে দেশে করোনা প্রকোপের দরুন তিন গ্রামের এলাকাবাসীর পক্ষে এই দুই লক্ষ যোগার করা অসম্ভব, বিধায় সমাজের সকল বিত্তবান, সুহৃদ, সংস্কৃতিমনা এবং মানবতাবাদী দেশ তথা দেশের বাইরে সকলের কাছে এ নির্মাণে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসার বিনীত আহ্বান করেন। নির্মাণ কমিটি আরও জানান, আর্থিক অনুদান ছাড়াও গীর্জা ঘরের জন্য বিভিন্ন উপহার সামগ্রী যেমন সাধু সাধ্বীর মূর্তি, ঘন্টা অথবা অন্যকোন দান সামগ্রী/মানতকৃত বস্তু দেয়া যাবে, যা নতুন গির্জায় ব্যবহৃত হতে পারে। যারা ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে এ পবিত্র কাজে শরিক হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃজ্ঞতা ও অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

আর্থিক অনুদান প্রদানের বিস্তারিত তথ্য:

ডেভিড চিরান (মাস্টার), কোষাধ্যক্ষ- বিকাশ নম্বর: ০১৭১২০৩৯২৬২

অথবা যে কোন তথ্যের জন্য-

রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি (প্রধান যাজক, জলছত্র প্যারিস)

রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি (সহকারী যাজক, জলছত্র প্যারিস)

এহেন উল্লেখ্য, জলছত্র ধর্মপল্লীতে ছয় বছর আগে (৮ সেপ্টম্বর ২০১৩ সালে) টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বন অধ্যুষিত টেলকী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে (গায়রা যাওয়ার পথে) জলই নামক স্থানে মুল সড়কের ধারে একটি বটগাছে যীশুর মুখের আকার দেখার পর থেকে সেখানে তীর্থস্থলের আদলে তীর্থোৎসব পালন করে আসছে। এর পর থেকেই প্রতি বছর এখানে খ্রীষ্টিয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের তীর্থ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। মধুপুর উপজেলা সদর দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলা, পশ্চিমে জামালপুর জেলা এবং উত্তরে ময়মনসিংহ সম দুরত্বে অবস্থিত। মধুপুর সদর থেকে এই তিন জেলার দূরত্ব ৪৫ কি:মি: এবং তীর্থ স্থানটি জেলা সদর থেকে উত্তরে প্রায় ৬০ কিলোমটিার দূরে অবস্থিত।

যীশু খ্রীষ্টের মুখচ্ছবি দর্শণের পর থেকে প্রতি বছরই সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম বৃহস্পতি ও শুক্রবার যীশুখ্রীষ্টের মুখচ্ছবি দর্শনের তীর্থোৎসবটি গভীর বিশ্বাসের সহিত পালন করা আসছে এলাকাসহ দুরদুরান্তের খ্রীষ্টভক্তরা। এই তীর্থ স্থানে প্রার্থনা করে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা তাদের প্রার্থনার ফলও পেয়েছেন।

আপনাদের আর্থিক অনুদান, অকুণ্ঠ সহায়তা পেলে এবং উন্নয়ন কমিটির পরিকল্পনানুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর তীর্থ উৎসবে একই সঙ্গে নতুন গীর্জা ঘরটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।