আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: গত ২৩ আগস্ট, এলাকার প্যারিস কাউন্সিল এবং গীর্জা ঘর বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্তনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার ‘প্রভু যীশুর পবিত্র মুখচ্ছবি ক্যাথলিক গীর্জা’ নতুন গীর্জা ঘর উদ্বোধন এবং একই সঙ্গে জলইয়ের তীর্থ অনুষ্ঠান শুভ শুচনা করবেন বলে জানিয়েছেন গীর্জা ঘর বাস্তবায়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ মি. ডেভিড চিরান (মাস্টার)। তবে তীর্থ অনুষ্ঠান ১লা অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে আ.বিমা টাইমস নিউজকে জানিয়েছেন।

এছাড়াও তীর্থের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারের তীর্থ অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ছো্ট্ট পরিসরে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতে করে বিশ্বাসীরা বিশ্বাসের সহিত অংশগ্রহণ করতে পারে। নতুন গীর্জা ঘর উদ্বোধন ও তীর্থের সকল প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তীতে ফাইনাল সিডিউল জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান এ আয়োজক কমিটি।

উল্লেখ্য গত ১৩ এপ্রিল ২০২১  জলছত্র মিশন অন্তর্গত, জলই গ্রামে ‘প্রভু যীশুর পবিত্র মুখচ্ছবি ক্যাথলিক গীর্জা’ নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করেন। নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্যারিস প্রধান রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি এবং রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি (সহকারী যাজক, জলছত্র প্যারিস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিন গ্রামের উপপ্যারিস চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

যীশুর মুখচ্ছবি প্রতিকৃতিনুসারে নতুন গীর্জা ঘরের নামকরণ করা হয় ‘যীশুর মুখচ্ছবি ক্যাথলিক গীর্জা’ । উদ্বোধনকালে ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করতে বিশ্বাসী সকলের কাছে উদার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন জলছত্র প্যারিসের উদ্যোগে যীশু খ্রীষ্টের মুখচ্ছবি দর্শনের পবিত্র স্থান ‘জলই তীর্থ’ স্থানে নতুন গীর্জা ঘর নির্মাণে গ্রায়রা, জলই এবং টেলকী এই তিনটি উপ-প্যারিসের (গ্রাম) বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে ১৭ সদস্যের একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পবিত্র ঘর নির্মাণে যে ব্যয় ধরা হয়েছে এর প্রায় আশি শতাংশ দাতা সংস্থা বহন করলেও আরও দুই লক্ষ টাকা ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। এ মুহুর্তে দেশে করোনা প্রকোপের দরুন তিন গ্রামের এলাকাবাসীর পক্ষে এই দুই লক্ষ যোগাড় করা অসম্ভব, বিধায় সমাজের বিত্তবান, সুহৃদ, সংস্কৃতিমনা এবং মানবতাবাদী দেশ তথা দেশের বাইরে সকলের কাছে এ নির্মাণে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসার বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন নির্মাণ কমিটি। নির্মাণ কমিটি আরও জানান, আর্থিক অনুদান ছাড়াও গীর্জা ঘরের জন্য বিভিন্ন উপহার সামগ্রী যেমন সাধু সাধ্বীর মূর্তি, ঘন্টা অথবা অন্যকোন দান সামগ্রী/মানতকৃত বস্তু দেয়া যাবে, যা নতুন গির্জায় ব্যবহৃত হতে পারে।

আর্থিক বা যেকোন অনুদান পাঠাতে বিস্তারিত তথ্য:

রেভা. ফা. ডোনেল ষ্টিফেন ক্রুজ, সিএসসি (প্রধান যাজক, জলছত্র প্যারিস)

রেভা. ফা. বরার্ট নকরেক, সিএসসি (সহকারী যাজক, জলছত্র প্যারিস)

উল্লেখ্য, জলছত্র ধর্মপল্লীতে ছয় বছর আগে (৮ সেপ্টম্বর ২০১৩ সালে) টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বন অধ্যুষিত টেলকী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে (গায়রা যাওয়ার পথে) জলই নামক স্থানে মেইন সড়কের ধারে একটি বটগাছে যীশুর মুখের আকার দেখার পর থেকে সেখানে তীর্থস্থলের আদলে তীর্থোৎসব পালন করে আসছে। এর পর থেকেই প্রতি বছর এখানে খ্রীষ্টিয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের তীর্থ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।