সাম্প্রতিক মধুপুরের কিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণ লেখক ও প্রকাশক কার্তিক ঘাগ্রা সোস্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার ছিলেন। এখনো আছেন। তার এমন গঠনমূলক অবিরাম লেখনী দেখে কেউ কেউ আবার বিরুপ মন্তব্য করতেও দ্বিধা করে নি। আপনি সে এলাকার বাসিন্দা নন তবুও এভাবে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন… ইত্যাদি ইত্যাদি। তার তীব্র লেখনী এবং স্পষ্ট মতামত সচেতন মহলকে মুখরিত করেছে এতে সন্দেহ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ের মধুপুরের সেই ইস্যূটি সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় করেছে। এহেন আপনাকে স্পষ্ট বুঝা দরকার, আপনি যে এলাকারই হন না কেন, যত দূরত্বেই অবস্থান করুন না কেন; জাতিগত ইস্যূতে শরিক হওয়া নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। নীতিবানদের মনে অজান্তেই দাগ কাটে। মনে এসে যায়। বরং জাতিগত হট ইস্যূকে নিয়ে যারা লুকোচুরি করে, নিজেকে আঁড়াল করে ফেরেস্তা সাজে, দোষের ভাগিদার হতে চান না তাদেরকে কি নামে ডাকবেন এহেন বিষয়টি আপনাদের কাছে উহ্য রেখে গেলাম।
আজকের ফেবু স্ট্যাটাসে ঘাগ্রা তিনি লিখেছেন, ‘একটানা বেশ কিছুদিন মধুপুর ইস্যু নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় অনেকে খুশি হয়েছেন, দু’একজন অখুশিও হয়েছেন। বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকা কয়েকজন বড় ভাই ফোন করে তাদের সন্তুষ্টির কথা অকপটে জানিয়েছেন। ম্যাসেঞ্জারে অনেকের সাথে যোগাযোগও হয়েছে। কয়েকজন জিজ্ঞেসও করেছেন, মধুপুরের গারোরা কি বিভক্তির পথে? কেউ কেউ অনুযোগও করেছেন, দু’একজন এই লোকদের দালাল বলতেও নারাজ, আমরা এই লোকদের ঠিক বুঝতে পারি না। কেন তারা দালাল বলতে নারাজ? কিংবা প্রিন্স এডওয়ার্ড ইস্যুকে রাজনৈতিক দু’পক্ষের ঝগড়া বলে চালিয়ে দিতেও চেয়েছে!
বাস্তবিক প্রিন্স এডুওয়ার্ড মাংসাং প্রহৃত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টাকে ‘ঠিক’ বা ‘জায়েজ’ করার জন্য প্রিন্সের বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে। প্রথমে তাকে ডাকাত সাজানো হয়েছে এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সে মধুপুর এলাকার লোক নয় বলা হয়েছে। ঘটনার কিছুদিন বাদে এটা রাজনৈতিক দু’পক্ষের ঝগড়া বলা হয়েছে। প্রিন্স যেভাবে লেখালেখি করে এটা ঠিক নয়, আবার চেয়ারম্যান যেভাবে তাকে ধরে গাছে বেঁধে মাইর দিয়েছে সেটাও ঠিক নয় বলে অনেকেই ঘটনা থেকে নিজেদেরে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এভাবে যে যেভাবে পারে অন্যায়কে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছে।
কিন্তু মধুপুরের গারোরা বিভক্তির পথে এটা মানতে আমি নারাজ। হয়ত তাদের মধ্যে মতান্তর আছে। ঘটনা থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টা আছে। প্রিন্সের পক্ষে অবস্থান নেয়ার মতো বড় যুক্তি তাদের সামনে নাই। কিন্তু তারা এই দালালদের পক্ষে বা অন্যায়ের পক্ষে এরকমটি না। আর যারা এই লোকদের দালাল বলতে নারাজ, দালাল আখ্যা দেয়ার জন্য ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে, মাথামোটা বলে তিরস্কার করছে, বরং তাদের প্রতিই আমার প্রভূত সন্দেহ- তারা ঠিক আছে কিনা? মধুপুরের আন্দোলন সংগ্রাম ইতিহাসের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আছে কিনা? যাদের দালালীর কারণে, যাদের প্রতক্ষ্য মদদে ২০০৩-এর ৩ জানুয়ারি পীরেন শহীদ হয়েছিল, উৎপল পঙ্গু হয়েছিল, অগণিত মানুষ মামলায় ফেঁসে হয়রানির শিকার হয়েছিল- তারা সেসব মনে রেখেছে কিনা? অথবা সে সময় তাদের ভূমিকা কি ছিল? সে সময় তারা কি করছিল?
মধুপুরের গারোদের ভুল হলো বা সবসময় যে বিষয়টাই তারা ভুল করে আসছে, ভুল করে যাচ্ছে, তারা তাদের এই ভাই রূপী বিশ্বাসঘাতকদের বারবার বিশ্বাস করছে, বারবার বুকে আঁকড়ে নিচ্ছে। তারা এই বিশ্বাসঘাতকদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে পারছে না। এড়াতে পারছে না। আর এই ভুলের মাসুল একদিন হয়ত তাদের কড়াই-গন্ডাই দিতে হবে। মান্দিসিকগা, চাৎচিসিকগা’র মূল্য দিতে হবে। আর এই ভুল বর্তমান প্রজন্মরা যত-না করছে তারচেয়ে বেশি করছে এই প্রজন্মের অভিভাবকেরা, এই দালালদের সমবয়সীরা।‘
আপনারা যারা মধুপুরের বিভিন্ন ইস্যূ নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন অথবা সোচ্চার নন, আপনাদের বুকে একবার হাত দিয়ে উপরোল্লেখিত বিষয়গুলো প্রশ্ন করুন! বাস্তবিক প্রিন্স এডুওয়ার্ড মাংসাং প্রহৃত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টাকে ‘ঠিক’ বা ‘জায়েজ’ করার জন্য আপনারা প্রিন্সের বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা শুরু করছেন, তা আসলে কতটুকু যৌক্তিক!