আবিমা টাইমস নিউজ ডেস্কঃ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মনোরঞ্জন হাজং এর জন্য ন্যায় বিচার চেয়ে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। আজ ২০ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে তারা এই আল্টিমেটাম দেয়। বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ এবং সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হাজং।

ছাত্র নেতা অলিক মৃ তার বক্তব্যে বলেন, “স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও আদিবাসীরা অবহেলিত, যার একটি নমুনা মনোরঞ্জন হাজংয়ের ঘটনা। দেশে যে ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীনের বৈষম্য- এর চিত্র আমরা দেখতে পেলাম।” আগামী সাতদিনের মধ্যে দুর্ঘনার জন্য দায়ী  সাইফ হাসানকে যদি গ্রেফতার করা না হয় তাহলে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও সহ কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারী দেন এই ছাত্র নেতা।

আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই  বলেন, “এই রাষ্ট্র শুধু ক্ষমতাবানদের নয়। এ রাষ্ট্র একজন শ্রমিক রিকশা চালক পুলিশ আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষের।” তিনি অবিলম্বে মনোরঞ্জন হাজং এর জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক দীপক শীল তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও একজন আদিবাসী বিচারপতির ছেলের দামী গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে। মামলা করতে গেলেও মামলা নেয় না। এর তীব্র নিন্দা জানান এই ছাত্র নেতা।

বাগাছাস ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জন জেত্রা বলেন, “মনোরঞ্জন হাজং এর মেয়েও একজন পুলিশের সার্জেন্ট। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় পুলিশ হয়েও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মামলা করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা এবং গণমাধ্যমে সংবাদের কারণে ঘটনার ১৪ দিন পর পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয় তাও আবার ঘাতক সাইফ হাসানকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে। এই কি আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অর্জন?”

হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নাঈম হাজং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে সেটির চাক্ষুষ প্রমাণ মনোরঞ্জন হাজং এর ন্যায় বিচার না পাওয়া।মামলার জন্য তার মেয়ে ১৪ দিন থানায় ঘুরলেন।”

উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির রাস্তায় ইউটার্নের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজিবি’র সাবেক হাবিলদার মনোরঞ্জন হাজং। এসময় একটি বিএমডব্লিউ প্রাইভেটকার বেপরোয়া গতিতে এসে মনোরঞ্জন হাজং এর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি মারাত্নকভাবে আহত হন। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। আঘাতকারী গাড়ি এবং এর ড্রাইভারকে আটক করলেও পরে পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয়। জানা যায় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সাবেক বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে সাইফ হাসান। এদিকে মনোরঞ্জন হাজং এর মেয়ে মহুয়া হাজং খোদ পুলিশ সার্জেন্ট হওয়ার পরও ঘটনার ১৪ দিন পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। কিন্তু সে পর্যন্ত পুলিশ সার্জেন্টের বাবার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।