নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ মধুপুরের আদিবাসীদের এক সময়ের বটবৃক্ষ ফাদার ইউজিন হোমরিক সিএসসি এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে ফাদার ইউজিন হোমরিক সিএসসি তাঁর নিজ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দ্বিতীয় মৃতু বার্ষিকীতে আজ সোমবার মধুপুর অঞ্চলে তাঁর হাতে গড়া জলছত্র এবং পীরগাছা ধর্মপল্লীতে প্রয়াত ফাদার হোমরিকের স্মরণে বিশেষ খ্রীষ্টযাগ উৎসর্গ করা হয়। পরে পীরগাছা মিশনে খ্রীস্টভক্তগণ ফাদারের ‘কিম্মা'(স্মৃতিসৌধ)তে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ফাদার হোমরিক পিক২

রেভা ফাদার ইউজিন হোমরিক সিএসসি’র ‘কিম্মা'(স্মৃতিসৌধ)তে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, ছবি : মিন্টু মাংসাং

ফাদার হোমরিক তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় আ.বিমার মান্দিদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করেছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সে সময় বহু মানুষকে তিনি তাঁর মিশনে আশ্রয় দিয়েছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সেবা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০১১ সালে বিদেশী বন্ধু হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

রেভা ফাদার ইউজিন ই. হোমরিক সিএসসি’র জন্ম ১৯২৮ খ্রীস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মুশকিগন নামক স্থানে। পিতা বার্নার্ড হোমরিক ও মাতা ইলা ভেলির ৪র্থ সন্তান ফাদার হোমরিক। তাঁরা ছিলেন ৪ ভাই এবং ২ বোন।

ইউজিন হোমরিক নিজ শহরেই সেন্ট যোসেফ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি সমাপ্ত করে ১৯৪২ খ্রীস্টাব্দে নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত পবিত্র ক্রুশ সেমিনারীতে দেন এবং ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ১৬ আগস্ট তিনি প্রথম ব্রত গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৫৫ খ্রীস্টাব্দের ৮ জুন তিনি যাজক পদে অভিষিক্ত হন। এর এক বছর পরেই তিনি মিশনারী হয়ে সোজা চলে আসেন ঢাকায়। ঢাকায় নটরডেম কলেজে মিয়া মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ এর কাছে এক বছর বাংলা ভাষা শিখার পর ১৯৫৬ হতে ১৯৫৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি গোল্লা ধর্মপ্ললীতে রেভা ফাদার ডমিক ডি রোজারিও সিএসসি-এর সাথে সহকারী পালপুরোহিত হিসেবে কাজ করেন। এর বিড়ইডাকুনি ধর্মপল্লীতে ৯ মাস কাজ করেন। ১৯৬০ খ্রীস্টাব্দে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র গ্রামে চলে আসেন। তখন জলছত্র উপধর্মপল্লীকে ধর্মপল্লী ঘোষণা করা হলে রেভা ফাদার হোমরিক এর প্রথম পালক পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ সময় জলছত্র ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৯২ খ্রীস্টাব্দে তিনি তৎকালিন পীরগাছা উপ-ধর্মপল্লীকে ধর্মপল্লী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তিনি এর পালপুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ২০১৬ খ্রীস্টাব্দে তাঁর নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অবসরে চলে যান এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।