আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: লেখক মুশতাক আহমেদ তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা মডেল থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্ত। গেল ২০২০ সালের ৬ মে ঢাকা জেলে ও পরে ২৪ আগস্ট থেকে তিনি কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান।
কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল শোক ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ও ই সি ডি ভুক্ত ১৩টি দেশের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতরা। তার হঠাৎ মৃত্যুর পর এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩ দেশের রাষ্ট্রদূতরা কী পরিস্থিতিতে মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ঘটেছে- তার দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইৎজারল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, এবং যুক্তরাজ্য ও ক্যানাডার হাইকমিশনাররা।
এহেন উল্লেখ্য, মুশতাক আহমেদের বিরৃদ্ধে ফেসবুকে একটি বিদ্রূপাত্মক কার্টুনের ক্যাপশন দেয়া এবং সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের সরকার বলছে, মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর কারণ যাই হোক – তা খতিয়ে দেখা হবে।
মুশতাক আহমেদ নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার ছোট বালাপুর এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। কারাগারের ভাষ্য মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরেই মুশতাক আহমেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রদূতরা বিবৃতিতে আরও বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের ধারাসমূহ এবং তার বাস্তবায়ন, ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনসমূহের সাথে এর সঙ্গতিবিধান নিয়ে তাদের যে বৃহত্তর উদ্বেগগুলো রয়েছে – তা নিয়ে তারা বাংলাদেশের সরকারের সাথে কাজ করে যাবেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ দেশের আরও রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তথ্য সূত্র: বিবিসিএনবা