বিশ্ব তথা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের অবদান অপরিহার্য। মূলত তরুণ প্রযুক্তিবিদদের চৌকস দক্ষতা ও অপরিসীম ধৈর্য্যের দ্বারা এই খাত এগিয়ে চলছে দিনেরপর দিন। বেশিরভাগ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত থাকলেও কিছু অন্যরকম ভাবনা, চিন্তা চেতনার ব্যাতিক্রমও রয়েছেন। বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ অন্য জায়গায় চাকরি করার বদলে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠান, চাকরি দিচ্ছেন অন্যদের, আয় করছেন বৈদেশিক মুদ্রা, অণুপ্রেরণা হয়ে উঠছেন এবং তৈরি করছেন ভাবি প্রযুক্তিবিদ। তাঁদের সফলতা, ব্যর্থতা, অর্জন আর পেছনের গল্প নিয়ে শুধু গল্প নয়, বলতে হবে বাস্তব গল্প।

গেল ২০২০ সালে অক্টোবরে “স্তুরা আইটি ইনস্টিটিউট” এর যাত্রা শুরু। মূলত আপনার সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনী শ‌ক্তির অপার সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করতেই স্তুরা আইটির পথ চলা। ক্ষুদ্র পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে শালবনে স্তুরা আইটি সেবা।

স্তুরা আইটির কর্ণধার লিয়াং রিছিলের আদ্যোপান্ত বিশ্বাস বিশ্ব এখন তথ্যপ্রযু‌ক্তি নির্ভর। তথ্যপ্রযু‌ক্তি দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত অত্যাধু‌নিক যু‌গে এ খা‌তে উন্নত যারা তারাই মূলত অগ্রসর। আইটি সম্প‌র্কে অজ্ঞতা পশ্চাৎপদতার অন্ধকা‌রে ঠে‌লে দেয়। ফ‌লে দিন অতিবা‌হিত হওয়ার স‌ঙ্গে স‌ঙ্গে ক্রমশ পি‌ছি‌য়ে যা‌চ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জন‌গোষ্ঠী। যুগের সাথে তাল মেলাতে প্রয়োজন তথ্যপ্রযু‌ক্তি‌তে দক্ষ জন‌গোষ্ঠী। পড়াশুনার পাশপাশি আত্মকর্মসংস্থা‌ন অথবা বিশ্ব জব মার্কেটে নিজেকে চৌকস করে গড়ে তোলা এবং টেকসই চাকরীর নিশ্চয়তা আপনাকেই দিতে হবে। যার ফলে সব ধর‌নের কর্মক্ষে‌ত্রেই তথ্যপ্রযু‌ক্তি সম্প‌র্কে সম্যক জ্ঞান থাকা জরু‌রি। প্রত্যন্ত অঞ্চ‌লে এই চা‌হিদা পূর‌ণেই ক্ষুদ্র আ‌‌ঙ্গিকে প্রতি‌ষ্ঠিত “Stura IT Institute“। প্রতিষ্ঠান‌টি উচ্চতর কোর্স যেমন ও‌য়েব ডিজাইন, গ্রা‌ফিক্স ডিজাইন, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়ার এবং ডাটা‌বেজ ম্যা‌নেজ‌মেন্টসহ প্রাথমিক পর্যা‌য়ের যেমন অ‌ফিস এপ্লিকেশন কোর্স সেবাও প্রদান ক‌রে থা‌কে। ডি‌জিটাল বাংলা‌দেশ বি‌নির্মা‌ণের সহযাত্রীরূ‌পে ছোট্ট পদ‌ক্ষেপ “স্তুরা আইটি “। প্রত্যন্ত অঞ্চ‌লে তথ্যপ্রযু‌ক্তি বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠীদের জন্য অ‌গ্নিছোঁয়া পৌঁছে দি‌তে স্তুরা আইটি দৃঢ়প্রত্যয়ী (প্রতিষ্ঠানের যেকোন তথা পেতে যোগাগো করুন ++৮৮-০১৭৬৩৯৭৭৫৪৬, সোস্যাল মিডিয়া ফেবু https://www.facebook.com/Stura-IT-Institute-103620648216457/timeline)।

স্তুরা আইটির ছাত্র

ফাইল ছবি: স্তুরা আইটি

বছরের শুরুতে ‘স্তুরা আইটি’র যাত্রা সম্পর্কে জানতে কিছুক্ষণ ভার্চ্যুয়াল আড্ডায় ছিলেম আ.বিমা টাইমেস সম্পাদক এবং ব্লগার জনাব লুই সাংমা। সে আড্ডায় প্রেম বিরহের গতানুগতিক গল্প নয়, বরং যুগের চাহিদা এবং জাতিসত্তাকে ভালোবেসে নিখাঁদ, নিখূঁত একটি ছুঁয়ে যাবার বাস্তব গল্প অবলীলায় যেভাবে বলে গেলেন গারো আইটি উদ্যেক্তা লিয়াং রিছিল।

আ.বিমা টাইমসকে এ উদ্যোগ সম্পর্কে গারো তরুণ উদ্যোক্তা এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া (ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) লিয়াং রিছিল জানান, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ’জাকগিত্তাল’ (Jakgitel Handicraft) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাচীনকালে গারোদের ব্যবহৃত তৈজসপত্র যেমন কাঁঠ, বাঁশ, বেতের কারুপণ্যসহ গারোদের প্রাচীন কৃষিজ বীজ সংরক্ষণ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়াও আ.বিমার বিভিন্ন অঞ্চলে আইটি বিষয়ক চাহিদার ফলে সাইনারী গ্রামে স্তুরা আইটির প্রথম শাখা বাস্তবায়নের কথা জানান। এ শাখায় অত্র অঞ্চলের গ্র্রাম যেমন ভূটিয়া, পেগামারি, থানার বাইদ, পীরগাছা, জালিছিড়া, চুনিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম আইটি সুবিধা পাবে।

স্তুরা আইটি

ফাইল ছবি: স্তুরা আইটি

তিনি আরও জানান, অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেলে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই আজীবন। অবদান রাখতে চাই দেশ ও দশের কল্যাণে। সে জন্য নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগতে পুঁজিহীন হলেও  সাহস করে উদ্যোগ নিয়েছি। যথেষ্ট সাহস না থাকলে কোন কাজ শুরু করা যায় না। পাশাপাশি ধৈর্য্য। যথেষ্ট ধৈর্য্য না থাকলে কাজে সফল হওয়া যায় না। নিজের লব্ধ জ্ঞানকে আরও শাণিত করতে নিজেও বিভিন্ন ভাষা, যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে তুলছি। বিভিন্ন জ্ঞান বাড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইটি বিষয়ক আপডেট তথ্যের জন্য সাধ্যের মধ্যে ঘরোয়া লাইব্রেরী সুবিধার কথা গুরুত্বসহকারে ভাবছি। পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে নানা রকম বই পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। সেটা যেকোনো রকম বই হতে পারে। অন্যের অভিজ্ঞতাকে নিজের মধ্যে ধারণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় বই। তারপর পরিশ্রম এবং পরিশ্রম। পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। যোগাযোগে ভালো হতে হবে। একাধিক ভাষা জানা দরকার; তবে  বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষাতেই কথা বলা, পড়া ও লিখার সমান দক্ষতা থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

স্তুরা আইটি

ফাইল ছবি: স্তুরা আইটি

তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে আমরা আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। গারো জাতিগোষ্ঠী এর বাইরে নয়। এলাকার কল্যাণে সাংগঠনিকভাবে চোখ কান খোলা রাখছি। এলাকার সকল আদিবাসী সংগঠনকে সমন্বিত করে জাতির সার্থে একযোগে কাজ করছি। এবং এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।