দেশে যখন বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে; তখন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশ্নটি হুড়মুড়ে সবার সামনে চলে আসে। হ্যাঁ সকলের ভাবনায় আসা উচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে; কিন্ত অযোগ্যতার অনেক বিষয়টি কেউ আমরা তা এড়াতে পারি না। এরপর সফল উদ্যেক্তা হওয়া সেটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সফল হতে হলে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়গুলো রপ্ত করতে হবে। সফল উদ্যোক্তাদের সফলতার মূলমন্ত্রগুলো জানতে হবে। ফলো করতে হবে আপনার জীবনে এবং প্রতিটি মূহুর্তে।

সবার জীবনে কিছু না কিছু সফলতা থাকে। তবে রাজপথে সফলতার পুষ্প মালা সবাই গলে পরতে পারি না। সফল উদ্যোক্তা হতে পারে না। সফলতার গল্পকার হতে পারে না। আমাদের অনেকের স্বপ্ন একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে, অনেকেই ব্যর্থ হয়ে যান। নিরাশ হয়ে আক্ষেপে হাত পা ঘুটিয়ে বসে থাকেন। স্বপ্রনোদিত হয়ে নিজে কিছু করার আগ্রহ একেবারেই হারিয়ে ফেলেন।

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধ্যাণ ধারণার মানুষ থাকে। ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকাও বৈচিত্র্যময়। আর এই বৈচিত্র্যময় জীবনকে উপভোগ করার অবিশ্বাস্য কাজ হল উদ্যোক্তা হওয়া। আপনার নিজের ব্যবসায়ের মালিকানা, আপনাকে ব্যক্তি স্বাধীনতা দিবে। সফল উদ্যোক্তা হলে হতে পারবেন অন্যের জন্য অনুপ্রেরণা, অনুকরণীয় এবং সর্বপরী বরণীয় একজন সফল মানুষ।

একজন সফল উদ্যোক্তা হলে অবশ্যই কিছু গুণ থাকা জরুরি। এসব গুণ এবং বৈশিষ্ট্য যদি আপনার মাঝে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে একজন সফল উদ্যোক্তার তালিকায় নিজের নাম লিখতে পারবেন। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে আবিস্কার করতে পারবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। আপনার অবস্থান যে পর্যায়ে হোক, শিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত। জন্মগত মেধা সবার কমবেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে আপনার মেধাগুলো প্রাকৃতিক এবং চর্চার মাধ্যমে বিকশিত হতে থাকে। আবার কারোর ক্ষেত্রে সুযোগ এবং চর্চার অভাবে মেধা, প্রতিভাগুলো সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। ফলে সে যে কাজই হোক তাই দিয়ে শুরু করুন, আর সেটি হতে পারে চাকরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদনশীল কৃষিজ কাজ এবং অনলাইনে মুক্তপেশায় ক্যারিয়ার গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করা।

কোন কাজ করলে সামাজিক মর্যাদা কমে না; বরং বারে। আত্ম নির্ভরশীলতায় আগে মর্যাদার বিষয়টি আসে না। আসা উচিত নয়। এমন কি সংকোচ কিংবা লজ্জা কোনটিই নয়। আর আপনি যদি কাজ করার আগেই এসব নিয়ে ভাবেন, তাহলে মনে রাখবেন যাদের লজ্জার ভয়ে আপনি এসব কাজকে পৃথিবীর ছোট, নিকৃষ্টতম কাজ মনে করছেন, আপনি একদিন অনাহারে থাকলেও কেউ আপনাকে আহার দিতে এগিয়ে আসবে না। আপনার জীবনে এর চেয়েও কঠিন সময় পার করছেন, সান্ত্বনাতো দুরের কথা ঠিক তখনো কেউ আপনাকে সিকি আধুলিও দিবে না। বিনে পয়সায় মানুষের উপদেশের অভাব হবে না। কিন্ত সঠিক নির্দেশনা, সৎ উপদেশ, আর্থিক এবং মানসিক শক্তি বা সহস যোগান দেয়ার মানুষ পৃথিবীতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। এটিই আজকের পৃথিবীর চরম বাস্তবের বাস্তবতা।

অন্যদিকে আবার আপনি নিজের পছন্দসই সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে কিছু কাজ করতে গেলেও বহু মানুষের আ-কথা কু-কথা, নিরুসাৎহিত করার মানুষের অভাব হবে না। কোনদিন অভাব হয়নি পৃথিবীতে। ফলে আপনাকেই সময়োপযোগী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার কাজও আপনাকেই করতে হবে। মানুষের সব কথা আপনি চোখ কান খোলা রেখে শুনবেন; কিন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব আপনার। কাজ করে যাবার বিষয়টিও আপনার। আপনি যদি সফল উদ্যোক্তা হতে চান; তাহলে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই সহায়ক হবে, যেমন-

  • নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে আত্মমূল্যায়ন করুন; সে অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিন
  • আপনার যোগ্যতানুযায়ী কাজে দ্রুত নেমে পরুন
  • নিজের মধ্যে দৃঢ় মনোবল রাখুন
  • নিজের মধ্যে চ্যালেঞ্জ নিতে শিখুন
  • আবেগ প্রবণ হওয়া থেকে বিরত থাকুন
  • আপনার ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে শিখুন
  • লজ্জা, সংকোচ কিংবা ভয় দুরে রাখুন
  • লক্ষ্যকে সামনে রাখুন এবং অন্যের কাছে দৃষ্টিগোচর করে তুলুন
  • অর্থ অপচয় কমানো এবং সময় ব্যয় সঠিকভাবে করুন
  • আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করুন এবং নিজেই মূল্যায়ন করুন
  • প্রয়োজনে প্রকল্পের জন্য বিজ্ঞদের পরামর্শ, ট্রেনিং গ্রহণ করুন
  • সোস্যাল মিডিয়াতে এবং সামাজিকভাবে জনসংযোগ বাড়ান

আধুনিক পৃথিবীতে আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে একজন সফল উদ্যেক্তা হওয়ার বিষয়টি আরও এক ধাপ নিয়ে যায় আমাদের। আপনি চাইলে ঘরে বসে কিংবা চাকরীর পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন অনায়াসে। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ-তে পরিনত হতে পারেন। আপনি হতে পারেন কারোর অনুকরণীয় এবং অনন্য এক সফল মানুষ।

লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, ফ্রিল্যান্সার
এবং সাংস্কৃতিক কর্মী।