“আমি এতোটা কর্মচাঞ্চল্য এর আগে অনুভব করিনি, এবং এটি অবসর গ্রহণ করা নয়। এই সংস্থাগুলোর পক্ষে যে প্রভাব রাখা সম্ভব, সে ব্যাপারে আমি অসম্ভব আগ্রহী।”–বেজোস।
অ্যামাজন প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা ৫৭ বছর বয়সী জেফ বেজোস। এর বদলে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। বেজোসের পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রতিষ্ঠানেরই উত্তরসূরী অ্যান্ডি জেসি। তিনি বর্তমানে অ্যামাজনের ক্লাউড ব্যবসার প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। অ্যামাজনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই পরিবর্তন সম্পন্ন হবে। ক্ষমতা বদলে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী বেজোস তিনি মনে করেন, এর ফলে নিজের অন্যান্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ার “সময় ও শক্তি”পাবেন তিনি।
গত মঙ্গলবার অ্যামাজন কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে এ কথা তিনি লিখেছেন-“নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আমি অ্যামাজনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকবো, এবং ডে ১ ফান্ড, বেজোস আর্থ ফান্ড, ব্লু অরিজিন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আমার অন্যান্য তীব্র আগ্রহের জন্য সময় ও শক্তি পাবো।”
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কোরোনা মহা সংকটেও অ্যামাজনের ব্যবসা আরও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর ৩৮ হাজার ছয়শ’কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বিক্রির খবর জানিয়েছেন। সে হিসেব অনুযায়ী ২০১৯ সালের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। গত বছর অ্যামাজনের মুনাফাও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই হাজার একশ’৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সাধারণ অনলাইন বই বিক্রেতা হিসেবে গ্যারেজে যাত্রা শুরু করা অ্যামাজন এখন অনলাইন রিটেইল জায়ান্ট খ্যাত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। অ্যামাজনের কর্মী সংখ্যা গোটা বিশ্বে ১৩ লাখ দাঁড়িয়েছে।