আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স সহ ইউরোপের অনেক দেশেই মুসলিমদের পর্দা করা বিতর্কের অন্যতম বিষয়। যার ফলে ফ্রান্সে ২০১১ সালে প্রকাশ্যে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও ইউরোপীয় দেশ  নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া এবং বুলগেরিয়ায় প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিক মুখ ঢাকা নিষেধ করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

সুইজারল্যান্ডে গণভোটে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুসলিম নারীদের বোরকা ও নেকাব। ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) গণভোটের বিষয়টি সামনে আনলে গতকাল রবিবার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে ভোট দেন। আর বিপক্ষে ভোট দেন ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।

মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাসের ফলে দেশটিতে এখন কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না। রেস্তোরাঁ, স্টেডিয়াম, গণপরিবহণ এমনকি রাস্তায় হাঁটার ক্ষেত্রেও মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে না। তবে ধর্মীয় উপাসনালয় এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ করোনা থেকে রক্ষায় মাস্ক পরতে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ নিয়মের ছাড় দেওয়া হবে।

সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বিষয়ে এক লাখ মানুষ স্বাক্ষর প্রদান করলে সেই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ৫১ দশমিক দুই শতাংশ মানুষ প্রস্তাবটির পক্ষে রায় দিয়েছেন। দেশটির ২৬টি ক্যান্টনের (প্রশাসনিক অঞ্চল) ৬টিতে বেশির ভাগ মানুষ এই প্রস্তাব সমর্থন করেন নি। এই ৬টি ক্যান্টনের মধ্যে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় তিন শহর, যেমন জুরিখ, জেনেভা ও বাসেল। এ ছাড়াও রাজধানী বার্নের অধিকাংশ মানুষও ছিলেন বিপক্ষে।

এদিকে গণভোট কমিটির চেয়ারম্যান এবং এসভিপি দলের আইনজীবী ওয়াল্টার ওবম্যান মুখ ঢেকে রাখাকে ‘চরমপন্থা ও রাজনৈতিক ইসলামের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। আরও তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডে আমাদের ঐতিহ্য হলো আপনার মুখ দেখান। এটি হলো আমাদের স্বাধীনতার মৌলিক ভিত্তি।

গণভোটে মুসলিমদের পোশাককে সরাসরি উল্লেখ করা হয় নি। তবে বিষদভাবে এটিকে ‘বোরকা নিষেধ’- এর ইঙ্গিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি