চোখের পলকেই সোমেশ্বরীর ভাঙনে বহু গ্রাম বিলীন, থামছেই না নদী ভাঙ্গন কান্না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো বুঝবেন কান্না কি জিনিস! সে হোক সে স্বজন হারা অথবা ভিটেমাটির হারানো অশ্রুবেদনা। কানতে কানতে শুকিয়ে গেছে স্বজন হারানোর কান্না। উনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গপিতার কন্যা, তিনি গণমানুষের দু:খ ভালো বুঝবেন। আমরা জানি না আমাদের কান্না তাঁর কাছে পৌঁছুবে কিনা।
আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: সর্বগ্রাসী সোমেশ্বরীর ভাঙন কিছুতেই থামছে না। চোখের পলকেই সোমেশ্বরীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানুষের মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সোমেশ্বরী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। সবকিছু হারিয়ে পথে বসে গেছেন গ্রামের পর গ্রাম। ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুই ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সোমেশ্বরী ভাঙনে গত দেড় দশকে বিরিশিরি দূর্গাপুর অঞ্চলে বিলীন হয়েছে শত শত পরিবার। একদিকে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনও অনিশ্চিতয়তার মুখে পড়েছে।
সোমেশ্বরী পাড়ের ভোক্তভোগি মানুষ বলেন, ‘চোখের সামনে কামারখালী বাজার, ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাচ্ছে। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি, কিছুই করতে পারছি না। আমরা জানি না আমাদের ভাঙ্গন রোধের কান্না প্রধান মন্ত্রীর কাছে পৌঁছুবে কিনা।‘
এমতাবস্থায় প্রশাসনের কোন সাড়া না পেয়ে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২০), প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কামারখালী গ্রামের শতাধিক আদিবাসী-বাঙালি নদীর ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলার কাজে হাত দেয়। এলাকাবাসীর নিজস্ব এবং শুভান্যুাধায়ীদের অর্থায়নে এসব বস্তা ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কামারখালীবাসী যুব নেতা হিলারিউস গচি রিছিল।
এই গারো তরুণ প্রতিনিধি আরও জানান, প্রথম ধাপের ভাঙনে ইতোমধ্যেই কামারখালী গ্রাম ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। বসতি ছেড়ে অনেকে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙন রোধে প্রশাসনের তরফ থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কাজ উদ্বোধন করেও পরে তা বাস্তবায়ন করা হয় নি, যা খুবই দু:খ জনক। এখনই এ ভাঙন ঠেকাতে না পারলে বহুগ্রাম নদী গার্ভে তলিয়ে যাবে আমাদের চোখের সামনেই। ফলে প্রশাসনের কাছে নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য রেমন্ড আরেং এক ফেবু বার্তায় সোমেশ্বরী নদীর ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে পরিকল্পিতভাবে নদী শাসনের ব্যবস্থা, জরুরি ভিত্তিতে নদী পাড় রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ, ভাঙন কবলিত এলাকার জানমালের নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য সংরক্ষণসহ প্রাচীন কামারখালী জনপদ রক্ষার জোর দাবি জানান।