হোস্টিং, ডোমেইন কি, কি কাজে ব্যবহার করে, এবং কোথায় পাওয়া য়ায় তা অনেকেই জানি না। জানার কথাও নয়। সবার সব বিষয় ধারণা থাকে না, চোখ পড়ে না; দৃষ্টি গোচর হলেও জানারও আগ্রহ থাকে না। বিষয়টি সবার দৃষ্টিতে স্বাভাবিক হলেও, আমার কাছে তা একেবারেই অস্বাভাবিক। এটি কোন পৌরাণিক কাহিনী বা যাদু টোনা বিষয় নয়; যা গোপন থাকা জরুরী। এ বিষয়টি যুগের তথ্য প্রযুক্তির মূল কাঠামো। যেখানে টনকে টন ডেটা সংরক্ষিত; এছাড়াও দৃষ্টি নন্দন ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কর্পোরেট ওয়েভ সাইট, ব্লগ ঝুলছে দিনের পর দিন। ভার্চ্যুয়ালী আপনার ব্যবসায়িক ফর্মূলা, ব্যক্তিগত মেধা বিক্রয় এবং সৃষ্টিশীল শিল্পগুলো গ্রাহক; তথা দর্শকের কাছে তুলে দেয়া সম্ভবপর হচ্ছে। ফলে সবার জানা উচিত এবং সে বোধ থেকে বিষয়টি সংক্ষিপ্তাকারে অবতারণা করা গেল। অনেকের সঙ্গে কথা বললে প্রশ্ন করে বসেন ডোমেইন এবং হোস্টিং আবার কি? যারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অথচ প্রযুক্তির প্রধান এবং মূল বিষয় সম্পর্কে জানেন না; অযাচিতভাবে প্রশ্ন করেন আমাকে মূলত তাদের জন্য লেখা।

খুব সাদামাঠা উপমা দিয়ে মূল এবং সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধের গভীরে যাওয়া যেতে পারে, যেমন- হোস্টিং হলো এক খন্ড জমি, যা আপনি ক্রয়সূত্রে স্বত্তাধিকারী এবং ডোমেইন হলো সে ক্রয়কৃত জমির ওপর গড়ে তোলা আপনার ইমারত। অর্থাৎ আপনার নিজস্ব জমি না থাকলে কিছুই করতে পারবেন না, না নিজের বাড়ি; না কোন চাষবাস। আশা করি বিষয়টি পরিস্কার, এবং ডমেইন হোস্টিং কোথায় কিনতে পাওয়া সে বিষয় পরে আসছি।

হোস্টিং কি- আগেই বলেছি সহজ অর্থে হোস্টিং হলো একটি জমি। অর্থাৎ আপনি যে জমিটি ক্রয় করলেন। ক্রয়সূত্রে স্বত্তাধিকারী বা মালিক হলেন। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটু ধারণা দেয়া যেতে পারে, ধরুণ আপনি একটি গাড়ি কিনলেন। গাড়ির কাগজপত্র, গ্যারেজ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সবই আপনার আছে। কিন্ত গাড়ি চালানোর রাস্তা নেই, তাহলে বিষয়টি একটু ভাবুন কি হতে পারে! তেমনি জমি আছে অথচ জমিতে চাষবাস করতে আপনি জানেন না, করবেনা না তাহলে কি হতে পারে! আবার চাষবাসের অভিজ্ঞতা আছে কিন্ত চাষবাসের জমি নেই, তাহলে আপনার কি হবে!

আপনি এক খন্ড জমি কিনলেন; অথচ পরিকল্পনা নেই কি করবেন বা করবেন না। এবং তা হতে পারে না। জমি থাকলেই ফসল এমনি এমনি আসে না। ফসল ঘরে তুলতে হলে জমিতে সময়োপযোগী চাষবাস করতে হয়; তবেই না আপনার সোনার ফসল ঘরে উঠবে। আপনার জমির যথাযথ ব্যবহার হবে এবং ফসলের মুখ দেখে নিজের বুক প্রশান্তিতে ভরে উঠবে।

ডোমেইন কি- ডোমেইন হলো একটি নাম। ওয়েরসাইট তৈরি করতে হলে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের একটি জুতসই নাম দিতে হবে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের সেই নামকেই বলা হয় ডোমেইন, এবং প্রযুক্তির ভাষায় ডোমেইন বলে থাকি। যে নামের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট ইউজার ব্রাউজারে সার্চ করে খুঁজে পায়; যেমন আমরা ইউটিউবকে www.youtube.com, ফেইসবুকে www.facebook.com, গুগলকে আমরা www.google.com দিয়ে। যে নাম দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট একজন লোক ভিজিট করবে অর সেটাই হলো আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন। যেকোন ব্যক্তির ডাকে সাড়া পেতে হলে সে ব্যক্তিরও ইউনিক নাম থাকতে হবে। অর্থাৎ মানুষের ক্ষেত্রে যেমন আলাদা আলাদা ডাক নাম থাকে তেমনি ডোমেইন শুধুমাত্র নামের শেষে .com দিয়েই হবে তা কিন্ত নয়, বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনণের ডোমেইন বা নাম থাকে, যেমন অর্গানাইর্জেশান হলে .org, নেটওয়ার্কিং সাইটের জন্য .net, ইনফরমেশন সাইটের জন্য .info ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়াও পৃথিবীতে চাহিদা মাফিক আরও অনেক ধরনের ডোমেইন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ডোমেইন কেনার অর্থই হলো আপনি আপনার ওয়েবসাইটের একটি নাম কিনলেন। আপনার ওয়েবসাইটকে এমন একটা পিসিতে রাখতে হবে, যেখানে ২৪ ঘন্টা এবং বছরে ৩৬৫ দিন অন থাকবে। অর্থাৎ সার্বক্ষণিক চালু থাকে এমন একটা পিসিতে আপনার ওয়েবসাইট রাখার সুবিধা দিয়ে থাকে হোস্টিং কোম্পানীগুলো। হোস্টিং কোম্পানীগুলো মাসিক বা বাৎসরিক টাকার বিনিময়ে এ সার্ভিসের সুবিধা দিয়ে থাকে। একেক ধরণের কোম্পানী বিভিন্ন মূল্যে হস্টিং সার্ভিস দিয়ে থাকে।

এবার বিষয়টি বুঝার জন্য একটু খেয়াল করুন, আপনি আপনার ওয়েবসাইট তৈরির জন্য যে জায়গাটুকু কিনবেন সেটিই হলো হোস্টিং। আর যে নামে ওয়েভসাইটি চালু করবেন সেটি হলো ডোমেইন। আপনি চাইলে আপনার বাসার পিসিতেও আপনার ওয়েবসাইট রাখতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনার বাসার পিসি কি ২৪ ঘন্টা ৩৬৫ দিন চালু থাকে? আপনার ঘরের পিসিতে ওয়েবসাইট রাখলে আপনার কম্পিউটার বন্ধ অথবা ইন্টারনেট সংযোগ না থকলে আপনার ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট দেখতে পারবে না। আপনি যে পিসিতে আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করবেন সেটা সবসময় চালু থকতে হবে। আপনার সাইট হোস্ট করা পিসি চালু থাকলেই আপনার ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট দেখতে এবং সবসময় ভিজিট করতে পারবেন।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কিছু সেরা ডোমেইন এন্ড হোস্টিং সাভিস দিয়ে থাকেন, যেমন ব্লুহোস্ট ওয়েভ হোস্টিং , হোস্টগেটর ওয়েভ হোস্টিং, গোডেডি ওয়েভে হোস্টিং, ইনমোশান ওয়েভ হোস্টিং, হোস্টিংগার ওয়েভ হোস্টিং এবং টিশোহোস্ট ওয়েভ হোস্টিং ইত্যাদি। উক্ত কোম্পানীগুলো বিভন্ন ধরণের হোস্টিং বিক্রি করে, যেমন শেয়ার হোস্টিং, ভিপিএস, ডেডিকেটেড সার্ভার ইত্যাদি। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার হোস্টিং স্পেস কিনতে পারেন।

হোস্টিং আর ডোমেইন দুটোর একেবারেই পরিপূরক এবং অবিচ্ছেদ্য একটি বিষয়। যা একটি ছাড়া আরেকটি চলে না, বা সচল হতে পারে না। আমাদের অনেকের ধারণা ডোমেইন হোস্টিং বোধয় একই জিনিস। একটি কম্পিউটার যেমন শুধুমাত্র হার্ডওয়ার দিয়ে চলে না, কম্পিউটারের হার্ডওয়ারকে সচল করতে হলে সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। একইভাবে আপনার ডোমেইন থাকলে হবে না, আপনাকে ডোমেইনটি সচল করতে হলে সার্ভারে হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে। দুটো সার্ভিস নিশ্চিত করে তবেই আপনি আপনার ওয়েভ সাইটি সচল করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওয়েভসাইট, ব্লগ ব্যবহার করতে দেখা যায়। যা আপনার কাজের গতিকে একধাপ এগিয়ে দেয়, যেমন ব্যবসার প্রসার এবং ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রয়সহ পণ্য পৌঁছানোর মৌলিক সুবিধাগুলো। এছাড়াও ঘরে বসে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন সুবিধাসমূহ দিয়ে থাকে।

লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী