ফ্রিল্যান্সিং একটি জীবিকা নির্বাহের আধুনিক উপায়। ফ্রিল্যান্সিং মূলত বিভিন্ন জাতি, বয়সের মানুষ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একই প্ল্যাটফর্মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এটি কোম্পানিগুলির জন্য ভালো; কারণ এটি অর্থ সাশ্রয়, সময় কম লাগে এবং তাদের আরও কাজের স্বাধীনতা দেয়। ফ্রিল্যান্সাররা বেশিরভাগ নিজের পছন্দসই কাজ করে, তারা তাদের নিজস্ব সময় নির্ধারণ করতে পারে। তারা যে কাজটি করে সেটি উপভোগ্য করে তা করতে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজার যত বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে, সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা একটু কঠিন হচ্ছে দিনকে দিন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স কাজ খুঁজে বের করা সহজ। ফলে মান সম্পন্ন কাজ দিতে পারলে অর্ডার পাওয়া কঠিন কোন বিষয় নয়। আপনাকে যা করতে হবে; আর তা হলো একটু গবেষণা এবং কোথায় দেখতে হবে তা ভালো করে জানতে হবে। এখানে ফ্রিল্যান্সিং কাজ খোঁজার ও কাজ পাওয়ার আটটি সঠিক উপায় রয়েছে; যেমন-
১) আপনি যখন আপনার প্রথম কাজ হাতে পাবেন তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো নিজে প্রস্তুত হওয়া। পাশাপাশি নিশ্চিত করুন যে আপনার হোম অফিসে আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু রয়েছে এবং এটি ভালোভাবে ঠিকঠাক কাজ করছে।
২) একটি বাজার নির্বাচন করুন। আপনাকে কিছু গবেষণা করতে হবে এবং এটি সম্পর্কে ভালো চিন্তা ভাবনা করতে হবে। আপনি কি ভালো করবেন? আপনি কি করতে ভালোবাসেন? ঠিক সেদিকেই আপনি যাবেন, এবং আপনি যেতে পারেন। আপনাকে কেউ বাধা দিবে না।
পেশাদার ফ্রিল্যান্স পেশা
৩) আপনি কি ধরণের কাজ করতে চান তা জানলে, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ দেয় এমন সাইটগুলির জন্য অনলাইনে দেখুন৷ ওয়েভ সাইট বেছে নিতে কিছু সময় নেবে, কারণ সেখানে কয়েক ডজন সাইট আছে (ফাইবার ডট কম, আপওয়ার্ক ডট কম, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, পিপলস পার ওয়ার ইত্যাদি) । আপনাকে কেবল এমন একটি খুঁজে বের করতে হবে; যা আপনি ভালো মনে করেন এবং সাইটগুলো রিপোটেশানও ভালো।
৪) প্রতিনিয়ত আপনার দক্ষতা আপগ্রেড করুন। প্রয়োজনে ইন্টারনেটের ওপর বা ব্যক্তিগতভাবে এডিশন্যাল কিছু ক্লাস নিন। আপনার প্রথম ফ্রিল্যান্স কাজ খুঁজে পাওয়া যত সহজ হবে, আপনার শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা তত বেশি শানিত হবে। যতটা পারেন নতুন কিছু শিখুন। প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট রাখুন।
৫) একটি স্ট্যান্ডার্ড পোর্টফোলিও তৈরি করে সাথে রাখুন। আপনার কাজের নমুনা এবং রেফারেন্সের একটি ফাইল রাখুন এবং আপনাকে নিয়োগ দিতে পারে এমন সংস্থাগুলিকে এটি দেখানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনার প্রাক্তন “নিয়োগকারীদের” জিজ্ঞাসা করতে ভুলবেন না, যাতে আপনি তাদের রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।
৬) ফ্রিল্যান্সারদের একটি গ্রুপে যোগ দিন। অ্যাসোসিয়েশন হলো ফ্রিল্যান্সারদের একটি গ্রুপ যারা একে অপরকে সাহায্য করে এবং উৎসাহিত করে। এ ছাড়াও একে অপরকে গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনার সুযোগ করে দেয়। এদের মাধ্যমে আপনি হয়ে উঠতে পারেন আত্ম বিশ্বাসী ফ্রিল্যান্সার। পাশাপাশি আপনি সেখানে একটি চাকরিও খুঁজতে পারেন।
৭) আপনার প্রথম কয়েকটি কাজ সহজ শর্তে এবং সুলভ মূল্যে করে দিন। আপনি যেভাবে চান ঠিক সেভাবে পরিচালনা করতে পারেন, সে সিদ্ধান্তগুলো আপনি নিতে পারেন। একবারে একাধিক জায়গায় কাজ করবেন না। ছোট ছোট কাজগুলি করুন যা আপনি কয়েক দিন বা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে পারেন যাতে আপনি দ্রুত প্রজেক্ট শেষ করেন। নিজের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে সঠিক সময়ে প্রকল্পদাতাকে মেলে ধরতে পারেন। জাস্ট নিশ্চিত করুন যে আপনি অবশ্যই পেশাদার এবং দক্ষ উপায়ে জিনিসগুলি সম্পন্ন করেছেন।
৮) আপনি কাজে যত বেশি শিখছেন, এরপর আপনি আরও বড় কাজে যেতে পারেন ; যেখানে বেশি উপার্জন করার সুযোগ দেয়। কিছু ফ্রিল্যান্সার মাত্র এক বা দুই সপ্তাহের জন্য একটি প্রকল্পে কাজ করে, আবার কিছু ফ্রিল্যান্সররা এটি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারা একই ফ্রিল্যান্সারকে একাধিক কাজ করার জন্য নিয়োগ করে থাকে।
সুতরাং, আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হতে চান, আমি আশা করি আপনি আপনার নিজের প্রথম কাজটি নেওয়ার আগে আপনার গবেষণা করবেন। সর্বদা নিশ্চিত করুন যে আপনি কাজের জন্য প্রস্তুত এবং সর্বদা আপনাকে যা বলা হয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন যে ফ্রিল্যান্সিং একটি ব্যবসা, বেশিরভাগ লোকের জন্য শুধুমাত্র একটি খণ্ডকালীন চাকরি হিসেবে নেয়। আপনি যদি এটিকে ব্যবসার মতো বিবেচনা করেন তবে আপনি ভাল করবেন।
লুই সাংমা, প্যারিস, ফ্রান্স।
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী