নিউজ ডেস্ক: বোরবার (৭ জুন ২০২০) সকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আসন্ন বাজেটে দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠির জীবন মান উন্নয়নে ১১ হাজার কোটি অর্থ বরাদ্দের দাবি উঠেছে। সভায় বিশিষ্টজনেরা বলেন, প্রতি বছর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য যে অর্থ বরাদ্দ থাকে এর সামান্যই তাদের কাছে পৌঁছায়। এছাড়াও, কোভিড–১৯ এর মহামারিতে এসব প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর আর্থিক অবস্থা আরও হাতের নাগালে নেই। ফলে বৈঠকে এসব হতদরিদ্র আদিবাসী মানুষের জন্য রেশন চালু করার দাবিও উঠেছে। রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বৈঠকে সহযোগিতা করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইচডিআরসি।

এ আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত ‘গ্রামীণ নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও ভূমি সংস্কারের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, মাথাপিছু গড় বাজেট বরাদ্দের তুলনায় দেশের সব অঞ্চলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর জন্য ২৬ থেকে২৭ শতাংশ কম এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য ৪৬ থেকে ৪৭ শতাংশ কম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেই। ফলে প্রত্যেক আদিবাসীর জন্য জাতীয় মাথাপিছু গড় বরাদ্দের তিনগুণ বরাদ্দ অর্থাৎ ১১ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা আসন্ন বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি সংগঠন নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির। সূচনা বক্তব্যে এএলআরডিরনির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছরে দেশের উন্নয়নে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি সেই শ্রমজীবী, কৃষিজীবী মানুষের কোনো প্রতিফলন নেই জাতীয় পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দসহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। এর জন্য আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির পরির্বতন জরুরী।

এছাড়াও প্যানেল আলোচনায় চাকমা সার্কেলের রাণী য়েন য়েন তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে কোভিড ও কোভিড পরবর্তীপরিস্থিতিকে বিবেচনায় এনে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাসের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দুর্গম অঞ্চলগুলোর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বর্ধিত হারে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, প্রান্তিক মানুষের জন্য বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বলয়কে দ্বিগুণ করতে হবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প পরিচালনায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীবান্ধব প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করার দাবি করেন।

প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন শাহ-ই- মোবিন জিন্নাহ, সিরাজুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম, এবং থিওফিল নকরেক প্রমুখ।